📌 দেশের পাইকারি বাজারে দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে আমদানি করা মাল্টা ১৮৫-১৯০ টাকায় বিক্রি হলেও খুচরা দোকানে একই ফল ৩২০-৩৫০ টাকা পর্যন্ত দামে বিক্রি হচ্ছে। পাঁচ ধরনের বিদেশি ফলের পাইকারি ও খুচরা দামের পার্থক্য ৪৮ শতাংশ। বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন (বিটিটিসি) জানিয়েছে, ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা ও নেপালের তুলনায় বাংলাদেশে ফল আমদানির শুল্ক-কর ১২২ শতাংশ বেশি
দেশের প্রধান পাইকারি বাজার বাবুবাজার-বাদামতলীতে দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে আমদানি করা মাল্টা ১৮৫ থেকে ১৯০ টাকায় বিক্রি হলেও ঢাকার বিভিন্ন খুচরা দোকানে একই মাল্টা ৩২০ থেকে ৩৫০ টাকা পর্যন্ত দামে বিক্রি হচ্ছে। পাঁচ ধরনের বিদেশি ফলের পাইকারি ও খুচরা দামের গড় পার্থক্য ৪৮ শতাংশ। বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন (বিটিটিসি) গত ২৭ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা ও নেপালের তুলনায় বাংলাদেশে ফল আমদানির শুল্ক-কর ১২২ শতাংশ বেশি।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে আমদানি করা মাল্টা পাইকারি বাজারে ১৮৫-১৯০ টাকা, খুচরা দোকানে ৩২০-৩৫০ টাকা বিক্রি
- 📌 পাঁচ ধরনের বিদেশি ফলের (আপেল, মাল্টা, আঙুর, কমলা, আনার) পাইকারি গড় দাম ২৯৮ টাকা, খুচরা ৪৪১ টাকা — ৪৮.২৪% বেশি
- 📌 বাংলাদেশে ফল আমদানির শুল্ক-কর ১২২ শতাংশ, যা ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা ও নেপালের তুলনায় বেশি
- 📌 খুচরা বিক্রেতাদের দাবি: কার্টনে ওজন কম দেওয়া, পরিবহন খরচ, কমিশন, ফুটপাতের চাঁদা — এসব কারণে দাম বাড়ে
- 📌 ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়ার কারণে মাল্টা ও কমলাজাতীয় ফলের চাহিদা বেড়েছে, কিন্তু দেশীয় বিকল্প ফল নেই
📰 বিস্তারিত
রাজধানীর বাবুবাজার-বাদামতলীতে পাইকারি বাজারে দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে আমদানি করা মাল্টা ১৮৫ থেকে ১৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছিল। কিন্তু ঢাকার হাতিরপুল, গুলশান, মহাখালী ও কারওয়ান বাজারের ফলের দোকানগুলোতে একই মাল্টা ৩২০ থেকে ৩৫০ টাকা পর্যন্ত দামে বিক্রি হচ্ছে। অর্থাৎ প্রতি কেজি মাল্টার দাম পাইকারি থেকে খুচরা পর্যায়ে ১৩৫ থেকে ১৬০ টাকা বেশি। পাঁচ ধরনের বিদেশি ফলের (আপেল, মাল্টা, আঙুর, কমলা, আনার) পাইকারি গড় দাম দাঁড়ায় ২৯৮ টাকা কেজি, অন্যদিকে খুচরা বাজারে গড় দাম ৪৪১ টাকা। অর্থাৎ পাইকারি দামের তুলনায় খুচরা বাজারে এসব ফলের দাম গড়ে ৪৮.২৪ শতাংশ বেশি।
বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন (বিটিটিসি) গত ২৭ অক্টোবর বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে জমা দেওয়া প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা ও নেপালের তুলনায় বাংলাদেশে ফল আমদানির ওপর শুল্ক-কর ১২২ শতাংশ বেশি। ফলকে বিলাসপণ্য হিসেবে গণ্য করে উচ্চ হারে শুল্ক-কর আরোপ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, পাইকারি বাজারে এক কেজি মাল্টার দাম ২৭৫ টাকা, কিন্তু খুচরায় বিক্রি হয় ৩৭০-৪০০ টাকায়।
খুচরা বিক্রেতাদের দাবি, বাদামতলী থেকে ফল কেনার পর পাঁচ ধরনের ব্যয় যোগ করে দাম নির্ধারণ করা হয়। প্রতি কার্টনে ২০ কেজি ফল কেনার পর ওজন কম দেওয়া হয়, প্রতি কার্টনে ২০ টাকা কমিশন দিতে হয়, পরিবহন খরচ ও দোকানভাড়া থাকায় দাম বাড়ে। হাতিরপুলের খুচরা বিক্রেতা আজগর হোসেন বলেন, ‘ফল পচে নষ্ট হয়ে যায়, কার্টনে ওজন কম দেওয়া হয় — এসব কারণে খুচরা পর্যায়ে দাম একটু বেশি হয়।’
বিশ্লেষকদের মতে, শুধু শুল্ক-কর কমানো নয়, বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়াতে হবে এবং শুল্ক-কর কমানোর সুফল যাতে মানুষ পায়, সে ব্যবস্থা করতে হবে। ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়ার কারণে মাল্টা ও কমলাজাতীয় ফলের চাহিদা বেড়েছে, কিন্তু দেশীয় বিকল্প ফল নেই। ফল ব্যবসায়ীদের সাথে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বৈঠক করেছে এবং ফলের দাম কমাতে শুল্ক-কর কমানোর চিন্তা করছে সরকার।
"অনেক সময় ফল পচে নষ্ট হয়ে যায়, সেগুলো ফেলে দিতে হয়। আবার পাইকারি বাজার থেকে ২০ কেজি বা ১০ কেজির কার্টুন হিসেবে ফল কিনে আনি। কিন্তু দেখা যায় এসব কার্টনে ওই পরিমাণ ফল থাকে না। সব মিলিয়ে খুচরা পর্যায়ে দাম একটু বেশি হয়।"
"ফল ব্যবসা লাভজনক হওয়ায় দোকান সংখ্যা বেড়েছে, কিন্তু প্রতিযোগিতা কমে গেছে। বহু দর-কষাকষির পরেও কেজিতে ১০ টাকা কমানো যায় না।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা (বাবুবাজার-বাদামতলী, হাতিরপুল, গুলশান, মহাখালী, কারওয়ান বাজার)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: নাজিম উদ্দিন (বিটিটিসি), আজগর হোসেন (খুচরা বিক্রেতা)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৮৫-১৯০ টাকা (পাইকারি মাল্টা), ৩২০-৩৫০ টাকা (খুচরা মাল্টা), ৪৮.২৪% (পাইকারি-খুচরা দামের পার্থক্য), ১২২% (ফল আমদানির শুল্ক-কর)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!