📌 বিদেশে চিকিৎসা নিতে বছরে গড়ে ৪৮ থেকে ৬০ হাজার কোটি টাকা হারাচ্ছে বাংলাদেশ। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে আগামী দশ বছরে এই ক্ষতি দাঁড়াতে পারে ৮৫ বিলিয়ন ডলারে। আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন ডায়াগনস্টিক ল্যাব প্রতিষ্ঠাই সমাধান বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা
বাংলাদেশ থেকে বছরে গড়ে ৪৮ হাজার থেকে ৬০ হাজার কোটি টাকা বিদেশে চিকিৎসা খাতে ব্যয় হয়ে যাচ্ছে। দেশের চিকিৎসাব্যবস্থায় আন্তর্জাতিক মানের অভাব ও রোগ নির্ণয়ে সঠিক মান নিশ্চিত না হওয়ায় লাখ লাখ মানুষ বিদেশমুখী হচ্ছেন। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্ট (বিআইএম) ও বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন বোর্ডের (বিএবি) যৌথ গবেষণা প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 বছরে বিদেশে চিকিৎসা খাতে ব্যয় হচ্ছে ৪৮ থেকে ৬০ হাজার কোটি টাকা
- 📌 বিদেশে যাওয়া রোগীর সংখ্যা বছরে প্রায় ৭ থেকে ৮ লাখ
- 📌 রোগীপ্রতি গড় চিকিৎসা খরচ ২০০৫ সালে ছিল ৩ হাজার ৩০০ ডলার, যা ২০২৩ সালে বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ৬ হাজার ডলারে
- 📌 আগামী ১০ বছরে (২০২৬–২০৩৫) এই প্রবণতা বাড়লে ক্ষতি দাঁড়াতে পারে ৮৫ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত
- 📌 দেশে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন ডায়াগনস্টিক ল্যাব মাত্র ৯টি, যেখানে ভারতে রয়েছে প্রায় ২ হাজার ৩০০টি
📰 বিস্তারিত
বাংলাদেশ থেকে বছরে গড়ে ৪৮ হাজার থেকে ৬০ হাজার কোটি টাকা বিদেশে চিকিৎসা খাতে ব্যয় হয়ে যাচ্ছে। দেশের চিকিৎসাব্যবস্থায় আন্তর্জাতিক মানের অভাব ও রোগ নির্ণয়ে সঠিক মান নিশ্চিত না হওয়ায় লাখ লাখ মানুষ বিদেশমুখী হচ্ছেন। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্ট (বিআইএম) ও বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন বোর্ডের (বিএবি) যৌথ গবেষণা প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে।
গবেষণা অনুযায়ী, দেশের চিকিৎসার ওপর মানুষের আস্থা হারানোর অন্যতম প্রধান কারণ রোগ নির্ণয়ের আন্তর্জাতিক মান ও স্বীকৃতির ঘাটতি। দেশে ১০ হাজারের বেশি ডায়াগনস্টিক সেন্টার থাকলেও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন সনদপ্রাপ্ত ল্যাবের সংখ্যা মাত্র ৯টি। অন্যদিকে ভারতে এ ধরনের ল্যাব রয়েছে প্রায় ২ হাজার ৩০০টি এবং চীনে ১ হাজার ১০০টির বেশি। চিকিৎসার প্রায় ৭০ শতাংশ সিদ্ধান্তই ল্যাব পরীক্ষার ওপর নির্ভর করে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
বিদেশে যাওয়া রোগীর সংখ্যা বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২০১৫ সালে বিদেশে চিকিৎসার পেছনে ব্যয় হয়েছিল প্রায় ২ বিলিয়ন ডলার। ২০১৯ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৩ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারে। ২০২৩ সাল নাগাদ এই অঙ্ক দাঁড়ায় ৪ থেকে ৫ বিলিয়ন ডলার। রোগীপ্রতি গড় চিকিৎসার খরচও ক্রমাগত বাড়ছে। যেখানে ২০০৫ সালে রোগীপ্রতি গড় খরচ ছিল ৩ হাজার ৩০০ ডলার, ২০২৩ সালে তা উন্নীত হয়েছে প্রায় ৬ হাজার ডলারে।
"দেশে আন্তর্জাতিক মানের রোগ নির্ণয়ের সুযোগ কম থাকায় রোগীরা বিদেশে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। ডায়াগনস্টিক ল্যাবগুলোকে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে নিয়ে এসে মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনা সম্ভব হলে আগামী ১০ বছরে প্রায় ৭৮ হাজার কোটি টাকা দেশেই ধরে রাখা সম্ভব।"
গবেষণা প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, বিদেশে যাওয়ার এই প্রবণতা বছরে প্রায় ৮ শতাংশ হারে বাড়ছে। দ্রুত রোগ নির্ণয় ব্যবস্থার উন্নয়ন ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি নিশ্চিত করা না গেলে আগামী ১০ বছরে দেশ থেকে চিকিৎসা বাবদ প্রায় ৮ লাখ ৬০ হাজার কোটি টাকা বিদেশে চলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে এই আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ১০ লাখ কোটি টাকা এবং রোগীর সংখ্যা ১ কোটি ছাড়িয়ে যেতে পারে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বাংলাদেশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: বিশেষজ্ঞরা, রোগীরা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৬০ হাজার কোটি টাকা, ৭ থেকে ৮ লাখ রোগী, ৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!