📌 গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে দেশের হালকা প্রকৌশল শিল্পের উৎপাদন প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। রাজধানীর যাত্রাবাড়ীসহ বিভিন্ন এলাকার কারখানাগুলোয় দৈনিক উৎপাদন কমেছে ৬০ শতাংশের বেশি। কর্মী ছাঁটাইয়ের পাশাপাশি ব্যাংক ঋণ পরিশোধেও হিমশিম খাচ্ছেন উদ্যোক্তারা
গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহের তীব্র সংকটে দেশের হালকা প্রকৌশল শিল্পের উৎপাদন প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকায় অবস্থিত ফয়সল পলিমার ইন্ডাস্ট্রিজসহ বিভিন্ন কারখানায় দৈনিক উৎপাদন কমেছে ৬০ শতাংশের বেশি। ফলে কর্মী ছাঁটাইয়ের পাশাপাশি ব্যাংক ঋণ পরিশোধেও হিমশিম খাচ্ছেন উদ্যোক্তারা।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকায় অবস্থিত ফয়সল পলিমার ইন্ডাস্ট্রিজের উৎপাদন কমেছে ৬০ শতাংশের বেশি
- 📌 কারখানাটিতে দৈনিক উৎপাদন কমেছে ৩-৪ লাখ টাকায়, যা আগে ছিল ৭-৮ লাখ টাকা
- 📌 প্রতিষ্ঠানটির কর্মী সংখ্যা এক বছরের ব্যবধানে কমেছে ৩০ জন থেকে ১২ জনে
- 📌 দেশে মোট হালকা প্রকৌশল কারখানা রয়েছে প্রায় ৫০ হাজার, যেখানে কর্মরত প্রায় সাড়ে ছয় লাখ মানুষ
- 📌 গাজীপুরের শালনায় অবস্থিত অ্যাগ্রো মেশিনারি ইন্ডাস্ট্রিজের উৎপাদন অর্ধেকে নেমে এসেছে
📰 বিস্তারিত
গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকায় অবস্থিত ফয়সল পলিমার ইন্ডাস্ট্রিজ নামের প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদন প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. সোলায়মান পারসী জানান, পানির কল তৈরির জন্য তাঁদের কারখানায় সার্বক্ষণিক গ্যাসের ফার্নেস চালাতে হয়। কিন্তু গত চার-পাঁচ মাস ধরে গ্যাসের চাপ কম থাকায় কারখানা চালু রাখা সম্ভব হচ্ছে না। বর্তমানে দিনে মাত্র তিন-চার ঘণ্টা কারখানা চালু রাখা যাচ্ছে। তিনি বলেন, ‘কারখানা চালু রাখতে প্রতিদিন ১৮ হাজার টাকা খরচ করতে হয়। এই টাকা তুলতে হলে দিনে অন্তত ৭-৮ লাখ টাকার পণ্য উৎপাদন করতে হয়। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে উৎপাদন কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৩-৪ লাখ টাকায়।’
উৎপাদন কমে যাওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির কর্মী সংখ্যাও কমেছে উল্লেখযোগ্যভাবে। এক বছর আগেও যেখানে ৩০ জন কর্মী কাজ করতেন, সেখানে এখন মাত্র ১২ জন কর্মী রয়েছেন। যাত্রাবাড়ী এলাকায় ফয়সল পলিমার ইন্ডাস্ট্রিজের মতো পানির ট্যাপ তৈরির আরও প্রায় সাড়ে তিন শ ছোট-বড় কারখানা রয়েছে। এসব কারখানার বেশিরভাগেরই উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে গ্যাস সংকটের কারণে।
দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অবস্থিত হালকা প্রকৌশল কারখানাগুলোয় বিদ্যুৎ সরবরাহও অনিয়মিত হয়ে পড়েছে। বাংলাদেশ ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্প মালিক সমিতির তথ্য অনুসারে, দেশে প্রায় ৫০ হাজার হালকা প্রকৌশল কারখানা রয়েছে, যেখানে প্রায় সাড়ে ছয় লাখ মানুষ কর্মরত আছেন। রাজধানীর কেরানীগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, বগুড়া, পাবনা প্রভৃতি অঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহের ঘাটতির কারণে অনেক কারখানায় দিনে মাত্র ৬ থেকে ৮ ঘণ্টা বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে। যেখানে গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল কারখানাগুলোয় উৎপাদন প্রক্রিয়া পুরোপুরি বন্ধ রাখতে হচ্ছে।
গাজীপুরের শালনায় অবস্থিত অ্যাগ্রো মেশিনারি ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের এমডি মো. শেখ সাদী জানান, তাঁদের প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। তিনি বলেন, ‘দিনে চার-পাঁচবার বিদ্যুৎ চলে যায়। প্রতিবার বিদ্যুৎ যাওয়ার পর তা ফিরে আসতে এক ঘণ্টার বেশি সময় লেগে যায়। ফলে যে কাজ আধা ঘণ্টায় করা যেত, তা করতে এখন অর্ধেক দিন লেগে যাচ্ছে।’ শেখ সাদী আরও জানান, বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকটের কারণে তাঁদের বিশাল ক্ষতি হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘এভাবে কত দিন চলতে পারব, জানি না। তাই শালনা থেকে কারখানা সরিয়ে অন্য কোথাও নেওয়ার কথাও ভাবছি।’
‘আমরা তো ছোট প্রতিষ্ঠান; ব্যাংকও আমাদের টাকা দেয় না। নিজেদের পকেটের টাকায় আর ধারদেনা করে ব্যবসা চালাতে হয়। আমার মনে হয় না এভাবে বেশি দিন আমরা টিকে থাকতে পারব।’ — মো. শেখ সাদী, এমডি, অ্যাগ্রো মেশিনারি ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড
বিদ্যুৎ সংকটের কারণে বিদ্যুৎ বিলও বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে। রাজধানীর কেরানীগঞ্জে অবস্থিত ব্রাদার্স ইঞ্জিনিয়ারিং নামের প্রতিষ্ঠানটির এমডি মো. মফিজুল ইসলাম জানান, গত মাসে তাঁদের বিদ্যুৎ বিল ৩০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। তিনি বলেন, ‘এখন জেনারেটর চালাতে দিনে ২০০ লিটার তেল খরচ লাগছে। গত এক মাসে জেনারেটর খরচ ৪০ শতাংশ, বিদ্যুৎ বিল ৩০ শতাংশ বেড়েছে। আর উৎপাদন কমেছে ৩০ শতাংশ।’
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: যাত্রাবাড়ী, ঢাকা; শালনা, গাজীপুর; কেরানীগঞ্জ, ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মো. সোলায়মান পারসী (এমডি, ফয়সল পলিমার ইন্ডাস্ট্রিজ), মো. শেখ সাদী (এমডি, অ্যাগ্রো মেশিনারি ইন্ডাস্ট্রিজ), মো. মফিজুল ইসলাম (এমডি, ব্রাদার্স ইঞ্জিনিয়ারিং)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: উৎপাদন কমেছে ৬০ শতাংশ, কর্মী কমেছে ১৮ জন, কারখানা রয়েছে ৫০ হাজার, কর্মী রয়েছেন সাড়ে ছয় লাখ
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!