📌 দশ মাসে সর্বনিম্ন মূল্যস্ফীতি রেকর্ড করেছে বাংলাদেশ। আগস্টে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ৮.২৬% এ নেমে এসেছে, যা গত ১০ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন। খাদ্য মূল্যস্ফীতি কমে ৭.০২% এ দাঁড়িয়েছে। সরকারের নীতিগত উদ্যোগ ও সরবরাহ ব্যবস্থাপনার কারণে মূল্যচাপ কমার প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে
দশ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন মূল্যস্ফীতি রেকর্ড করেছে বাংলাদেশ। টানা তৃতীয় মাসে কমে আগস্টে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ৮ দশমিক ২৬ শতাংশে নেমে এসেছে, যা গত ১০ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) এর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, জুলাই মাসে মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ৩২ শতাংশ। এক মাসের ব্যবধানে এটি কমেছে শূন্য দশমিক ০৬ শতাংশীয় পয়েন্ট। অর্থাৎ মে মাসের সর্বোচ্চ ৯ দশমিক ৪২ শতাংশ থেকে তিন মাসের মধ্যে মূল্যস্ফীতি কমেছে ১ দশমিক ১৬ শতাংশীয় পয়েন্ট।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 আগস্টে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ৮.২৬% এ নেমে গেছে — দশ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন
- 📌 জুলাই থেকে এক মাসে মূল্যস্ফীতি কমেছে ০.০৬ শতাংশীয় পয়েন্ট
- 📌 খাদ্য মূল্যস্ফীতি কমে ৭.০২% এ দাঁড়িয়েছে — টানা দ্বিতীয় মাসে নেমে আসা
- 📌 গ্রামাঞ্চলে মূল্যস্ফীতি ৮.৩৬% থেকে কমে ৮.৩১% এ নেমে এসেছে
- 📌 শহরাঞ্চলে মূল্যস্ফীতি ৮.২৪% থেকে কমে ৮.২০% এ নেমে এসেছে
- 📌 সরকারের নীতিগত উদ্যোগ ও সরবরাহ ব্যবস্থাপনা মূল্যচাপ কমাতে ভূমিকা রাখছে
- 📌 ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে ৬০টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর উৎসেধর কর কমানো হয়েছে
- 📌 খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি ও ওএমএস কার্যক্রম সম্প্রসারিত করা হয়েছে
📰 বিস্তারিত
বাংলাদেশে মূল্যস্ফীতি কমার প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে। গত বছরের নভেম্বর মাসে মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ২৯ শতাংশ। এরপর ডিসেম্বর মাসে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৮ দশমিক ৪৯ শতাংশ। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে মূল্যস্ফীতি ৮ দশমিক ৫৮ শতাংশে ওঠে। ফেব্রুয়ারি মাসে তা আরো বেড়ে দাঁড়ায় ৯ দশমিক ১৩ শতাংশ। মার্চ মাসে কিছুটা কমে ৮ দশমিক ৭১ শতাংশ হলেও এপ্রিল মাসে আবার বেড়ে ৯ দশমিক ০৪ শতাংশে পৌঁছায়। মে মাসে মূল্যস্ফীতি সর্বোচ্চ ৯ দশমিক ৪২ শতাংশে পৌঁছায়। এরপর জুন মাসে মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ১৬ শতাংশে নেমে আসে। জুলাই মাসে মূল্যস্ফীতি ৮ দশমিক ৩২ শতাংশে দাঁড়ায়।
মূল্যস্ফীতি কমার পেছনে খাদ্যপণ্যের দাম বাড়ার গতি কমে আসাকে প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। আগস্টে খাদ্য মূল্যস্ফীতি কমে ৭ দশমিক ০২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা জুলাই মাসে ছিল ৭ দশমিক ১৬ শতাংশ। গত বছরের একই সময়ে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ছিল ৭ দশমিক ৬০ শতাংশ। ফলে খাদ্য মূল্যস্ফীতিও টানা দ্বিতীয় মাসে কমেছে এবং গত বছরের একই সময়ের তুলনায়ও নিচে রয়েছে।
গ্রাম ও শহর—দুই এলাকাতেই মূল্যস্ফীতি কমার প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। গ্রামাঞ্চলে জুলাই মাসের ৮ দশমিক ৩৬ শতাংশ থেকে কমে আগস্টে মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৮ দশমিক ৩১ শতাংশ। শহরাঞ্চলে মূল্যস্ফীতি ৮ দশমিক ২৪ শতাংশ থেকে কমে দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ২০ শতাংশে। বাজারে পণ্যের সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতির পাশাপাশি সরকারের বিভিন্ন নীতিগত উদ্যোগ মূল্যচাপ কমাতে ভূমিকা রাখছে।
২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে ৬০টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর উৎসেধর কর কমানো হয়েছে। পাশাপাশি নিম্নআয়ের মানুষের জন্য খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি ও ওএমএস কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হয়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ ও দাম স্থিতিশীল রাখতে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) কার্যক্রমও জোরদার করা হচ্ছে। তুলনামূলক কম দামে আমদানি করা কিছু নিত্যপণ্য ভর্তুকি ছাড়াই বাজারে বিক্রির উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে।
"বাজারে পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা গেলে মূল্যস্ফীতির নিম্নমুখী ধারা আরও জোরদার হতে পারে"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বাংলাদেশ (গ্রাম ও শহরাঞ্চল)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৮.২৬%, ৮.৩২%, ০.০৬, ১০ মাস, ৬০টি পণ্য
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!