📌 জনসংখ্যাতাত্ত্বিক লভ্যাংশের সুযোগ কাজে লাগাতে বাংলাদেশকে এখনই তরুণদের দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর করতে হবে। জাতিসংঘের তথ্যমতে দেশের ৬৫ শতাংশ মানুষ কর্মক্ষম হলেও মাত্র ১৬ শতাংশ তরুণ ইংরেজি ও তথ্যপ্রযুক্তিতে দক্ষ। দক্ষিণ কোরিয়া ও ভিয়েতনামের উদাহরণ অনুসরণ করে কারিগরি শিক্ষা ও উদ্যোক্তা উন্নয়নে জোর দেওয়া প্রয়োজন।
জনসংখ্যাতাত্ত্বিক লভ্যাংশের সুযোগকে কাজে লাগাতে বাংলাদেশকে এখনই তরুণদের দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর করতে হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিলের (ইউএনএফপিএ) তথ্যমতে, দেশের প্রায় ১৭ কোটি মানুষের মধ্যে ৬৫ শতাংশ অর্থাৎ দুই-তৃতীয়াংশের বেশি মানুষের বয়স ১৫ থেকে ৬৪ বছর। অর্থনীতির ভাষায় এটি ‘জনমিতিক লভ্যাংশ’, যা সঠিক নীতি ও বিনিয়োগের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির ভিত্তি গড়ে তুলতে পারে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সুযোগের সময়সীমা ২০৩৩ থেকে ২০৪০ সালের মধ্যেই শেষ হয়ে যাবে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 জনসংখ্যাতাত্ত্বিক লভ্যাংশের সুযোগ কাজে লাগাতে তরুণদের দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর জরুরি বলে মত বিশেষজ্ঞদের
- 📌 দেশের ৬৫ শতাংশ মানুষ কর্মক্ষম হলেও মাত্র ১৬ শতাংশ তরুণ ইংরেজি ও তথ্যপ্রযুক্তিতে দক্ষ বলে জরিপে উঠে এসেছে
- 📌 দক্ষিণ কোরিয়া ও ভিয়েতনামের মতো দেশগুলো কারিগরি শিক্ষা ও শিল্পায়নের মাধ্যমে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে
- 📌 ফ্রিল্যান্সিং খাত থেকে বছরে ৫০ কোটি মার্কিন ডলারের বৈদেশিক আয় আসছে, যা দেশের মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় ৩ শতাংশ
📰 বিস্তারিত
জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিলের তথ্যমতে, বাংলাদেশের জনসংখ্যার প্রায় ৬৫ শতাংশ মানুষ কর্মক্ষম। অর্থাৎ দেশের মোট জনসংখ্যা প্রায় ১৭ কোটি হলে কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা প্রায় ১১ কোটি। এই বিশাল কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর করতে পারলে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত হবে বলে মনে করছেন জনসংখ্যা বিশেষজ্ঞরা। তবে এই সুযোগের সময়সীমা মাত্র কয়েক বছরের মধ্যেই শেষ হয়ে যাবে বলে তারা সতর্ক করেছেন।
ব্র্যাক, বিআইজিডি এবং ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির যৌথ পরিচালনায় পরিচালিত এক জরিপে দেখা গেছে, মাত্র ১৬ শতাংশ তরুণ নিজেদের ইংরেজি ভাষাজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি দক্ষতায় আত্মবিশ্বাসী। বিশ্ববিদ্যালয়ের সনদ থাকলেও অনেক তরুণের মধ্যে প্রযুক্তি, যোগাযোগ, তথ্য বিশ্লেষণ কিংবা সমস্যা সমাধানের মতো মৌলিক দক্ষতার ঘাটতি রয়েছে। চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের এই সময়ে এমন বাস্তবতা উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
দক্ষিণ কোরিয়া ও ভিয়েতনামের উদাহরণ তুলে ধরে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কারিগরি শিক্ষা ও শিল্পায়নের মাধ্যমে দেশ দুটি কয়েক দশকের মধ্যে নিজেদের অর্থনীতিকে আমূল পরিবর্তন আনতে সক্ষম হয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়া বার্ষিক ৮ থেকে ১০ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছিল, যার ফলে দেশটির মাথাপিছু জিডিপি ১৯৬১ সালের ৯৪ ডলার থেকে বেড়ে ১৯৯৫ সালে ১২ হাজার ডলার ছাড়িয়ে যায়। ভিয়েতনামও একইভাবে বার্ষিক ৬.৫ থেকে ৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ধরে রেখেছে এবং ১৯৯০ সালের ১০০ ডলারের মাথাপিছু জিডিপি আজ ৪,৩০০ ডলারে উন্নীত করেছে।
"জনমিতিক লভ্যাংশের মূল শক্তি মানুষের সংখ্যা নয়, তাদের দক্ষতা। বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদার সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে হবে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বাংলাদেশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: বিশেষজ্ঞদের
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৬৫, ১৬, ১৭
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!