📌 বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের হার এশিয়ার মধ্যে সর্বোচ্চ এবং বিশ্বে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬ লাখ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৩২.২৬ শতাংশ। উচ্চ ঝুঁকিসম্পন্ন দুর্দশাগ্রস্ত ঋণের পরিমাণ প্রায় ১০ লাখ ৯৩ হাজার কোটি টাকা
বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতের খেলাপি ঋণের হার এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ এবং বিশ্বে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে বলে জানা গেছে। ইউক্রেন যুদ্ধবিধ্বস্ত না হলে এই স্থানটি বাংলাদেশেরই হতো বলে সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত দেশের ব্যাংকিং খাতের মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ প্রায় ৬ লাখ কোটি টাকা, যা মোট বিতরণ করা ঋণের ৩২ দশমিক ২৬ শতাংশ। প্রকৃত শ্রেণীকরণ করলে এই হার আরও বেশি হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত খেলাপি ঋণের পরিমাণ প্রায় ৬ লাখ কোটি টাকা
- 📌 খেলাপি ঋণের হার মোট বিতরণ করা ঋণের ৩২ দশমিক ২৬ শতাংশ
- 📌 উচ্চ ঝুঁকিসম্পন্ন দুর্দশাগ্রস্ত ঋণের পরিমাণ প্রায় ১০ লাখ ৯৩ হাজার কোটি টাকা
- 📌 ইউরোপের দেশ ইতালিতে খেলাপি ঋণের প্রায় ৫৪ শতাংশ ইউটিপি শ্রেণির
- 📌 বাংলাদেশ ব্যাংক খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের পরিকল্পনা করছে
📰 বিস্তারিত
খেলাপি ঋণের হার বিবেচনায় বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাত বিশ্বের অন্যতম দুর্বল অবস্থানে রয়েছে। মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত দেশের ব্যাংকিং খাতের মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ প্রায় ৬ লাখ কোটি টাকা ছুঁই ছুঁই করছে, যা মোট বিতরণ করা ঋণের ৩২ দশমিক ২৬ শতাংশ। ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত এই পরিমাণ ছিল সাড়ে ৫ লাখ কোটি টাকার মতো। ঘোষিত খেলাপি ঋণ ৫ লাখ ৫৭ হাজার কোটি, পুনঃ তফসিল করা ২ লাখ ৬৯ হাজার কোটি, উচ্চ আদালতের রায়ে স্থগিত খেলাপি ১ লাখ ৮২ হাজার কোটি এবং অবলোপন করা ৮৩ হাজার কোটি টাকা মিলিয়ে মোট উচ্চ ঝুঁকিসম্পন্ন দুর্দশাগ্রস্ত ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১০ লাখ ৯৩ হাজার কোটি টাকা, যা মোট বকেয়া ঋণের প্রায় ৬০ শতাংশ।
ইউরোপের দেশ ইতালিতে খেলাপি ঋণের প্রায় ৫৪ শতাংশই ইউটিপি (আনলাইকলি টু পে) শ্রেণির। এই ধরনের ঋণ আদায়যোগ্য নয় বলে বিবেচিত হলেও ব্যাংকগুলো এগুলোকে খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত করতে পারে না মূলধনসংকটের কারণে। ইউরোপীয় সেন্ট্রাল ব্যাংক খেলাপি ঋণকে তিন ভাগে ভাগ করে দেখায়: মেয়াদোত্তীর্ণ, ইউটিপি এবং মন্দ ঋণ। ইউটিপি ঋণের কিছু লক্ষণ চিহ্নিত করা হয়েছে, যেমন গ্রাহকের পরিশোধের ধরন বদলে যাওয়া, ঘন ঘন কিস্তি খেলাপ, ঋণ পরিশোধের তাগাদার জবাব না দেওয়া, পরিশোধের অসমর্থতার জন্য নানা অজুহাত হাজির করা এবং গণমাধ্যমের বিরূপ সংবাদ।
বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতের এই দুরবস্থা তুলনা করা যায় না ইউরোপ বা এশিয়ার অন্যান্য দেশের সঙ্গে। ভারতের খেলাপি ঋণের হার ২০২৫ সালে নেমে এসেছে ২ শতাংশের ঘরে, যেখানে বাংলাদেশের হার ৩২ দশমিক ২৬ শতাংশ। শ্রীলঙ্কায় এই হার ১১ দশমিক ৯ শতাংশ, নেপালে ৫ দশমিক ৬ শতাংশ এবং পাকিস্তানে ৫ দশমিক ৮ শতাংশ। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, দেশের ব্যাংকগুলোর গড় মূলধন পর্যাপ্ততার হার -২ দশমিক ৬৪ শতাংশ, যা শূন্যের চেয়ে কম।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বাংলাদেশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: বাংলাদেশ ব্যাংক
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৬ লাখ কোটি টাকা (খেলাপি ঋণ), ৩২ দশমিক ২৬ শতাংশ (খেলাপির হার), ১০ লাখ ৯৩ হাজার কোটি টাকা (উচ্চ ঝুঁকিসম্পন্ন ঋণ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!