📌 ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া স্থলবন্দরের রাজস্ব আয় এক বছরের ব্যবধানে ৫২ শতাংশ কমেছে। যাত্রী পারাপার ও পণ্য আমদানি কমে যাওয়ায় এই ধস নেমেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া স্থলবন্দরের রাজস্ব আয় এক বছরের ব্যবধানে অর্ধেকের বেশি কমে গেছে। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বাণিজ্য ও যাত্রী পারাপার কমে যাওয়ায় সরকারের রাজস্ব আদায়ে উল্লেখযোগ্য ধস নেমেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 আখাউড়া স্থলবন্দরের রাজস্ব আয় ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কমেছে ৫২ শতাংশ
- 📌 ২০২৪-২৫ অর্থবছরে রাজস্ব ছিল প্রায় ১০ কোটি ১৮ লাখ ৫৫ হাজার টাকা, যা কমে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দাঁড়ায় ৪ কোটি ৮৬ লাখ ৮৬ হাজার টাকা
- 📌 যাত্রী পারাপার কমে যাওয়ায় ভ্রমণ কর আদায় কমেছে প্রায় ২ কোটি টাকা
- 📌 পণ্য আমদানি কমে যাওয়ায় শুল্ককর আদায়েও তিন কোটি টাকার বেশি হ্রাস
- 📌 স্থলবন্দরের সহকারী পরিচালক জানান, রপ্তানি কিছুটা বেড়েছে এবং উন্নয়নকাজ চলমান রয়েছে
📰 বিস্তারিত
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া স্থলবন্দরের রাজস্ব আয় এক বছরের ব্যবধানে ৫২ শতাংশ কমেছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এই বন্দর থেকে সরকারের রাজস্ব আদায় হয়েছিল প্রায় ১০ কোটি ১৮ লাখ ৫৫ হাজার টাকা। পরবর্তী অর্থবছরে তা কমে দাঁড়ায় ৪ কোটি ৮৬ লাখ ৮৬ হাজার টাকা। অর্থাৎ এক বছরে রাজস্ব আয় কমেছে ৫ কোটি ৩১ লাখ ৬৯ হাজার টাকা।
স্থলবন্দর সূত্রে জানা যায়, যাত্রী পারাপার কমে যাওয়ায় ভ্রমণ কর আদায়েও উল্লেখযোগ্য হ্রাস দেখা দিয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এই স্থলবন্দর দিয়ে ভারতে ভ্রমণে যান ৪৬ হাজার ৪৬১ জন যাত্রী। একই সময়ে ভারত থেকে বাংলাদেশে আসেন ৩১ হাজার ৫০৫ জন। এতে ভ্রমণ কর বাবদ সরকারের আয় হয়েছে প্রায় ৪ কোটি ১৬ লাখ টাকা। বিপরীতে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ভারতে ভ্রমণে যান ৬০ হাজার ৪৫২ জন। ওই বছর ভারত থেকে বাংলাদেশে আসেন ৪০ হাজার ৫০৯ জন। ফলে ভ্রমণ কর আদায় হয়েছিল প্রায় ৬ কোটি ২ লাখ টাকা।
পাশাপাশি পণ্য আমদানি কমে যাওয়ায় শুল্ককর আদায়েও ধস নেমেছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এই স্থলবন্দর দিয়ে প্রায় দুই কোটি টাকার সমমূল্যের আগরবাতি, জিরা ও চাল আমদানি হয়েছে। এসব পণ্য থেকে শুল্ককর আদায় হয় প্রায় ৭১ লাখ ৩৩ হাজার টাকা। বিপরীতে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে জিরা, ডাল ও কাজুবাদাম আমদানি হয়েছিল প্রায় ৭ কোটি ৩২ লাখ টাকার। ওই বছর শুল্ককর আদায় হয়েছিল প্রায় ৪ কোটি ১৭ লাখ টাকা। ফলে এক বছরের ব্যবধানে পণ্য আমদানি থেকে রাজস্ব আয় কমেছে তিন কোটি টাকার বেশি।
স্থলবন্দরের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মেহেদী হাসান বলেন, ‘আমদানি কমলেও রপ্তানি কিছুটা বেড়েছে। ব্যবসায়ীরা আমদানি বাড়ানোর দাবি জানিয়ে আসছেন। বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলছে। উন্নয়নকাজ শেষে আমদানি-রপ্তানির পরিমাণ আরও বাড়বে বলে আশা করছি।’
তিনি আরও জানান, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এই স্থলবন্দর দিয়ে প্রায় ৫২৪ কোটি টাকার পণ্য রপ্তানি হয়েছে। রপ্তানি পণ্যের মধ্যে রয়েছে সিমেন্ট, তাজা মাছ, শুঁটকি, পাথর, পটেটো পেলেট, আটা ও ময়দা, পাম তেল, মশারি নেট ইত্যাদি। বিপরীতে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে রপ্তানি হয়েছিল ৫১৪ কোটি টাকার পণ্য।
‘রাজনৈতিক অস্থিরতা, ভারত-বাংলাদেশের পারস্পরিক সম্পর্ক, ডলারের দামের ওঠানামা এবং কিছু পণ্যের ওপর ভারতের নিষেধাজ্ঞার কারণে আমদানি কমে গেছে। এখন উভয় দেশের মধ্যে বাণিজ্য বাড়াতে দুই পক্ষের উদ্যোগ দরকার।’ — নিছার উদ্দিন ভূঁইয়া, জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি, স্থানীয় আমদানি-রপ্তানিকারক অ্যাসোসিয়েশন
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ব্রাহ্মণবাড়িয়া, আখাউড়া স্থলবন্দর
- 👥 ব্যক্তি: মোহাম্মদ মেহেদী হাসান (সহকারী পরিচালক, আখাউড়া স্থলবন্দর), নিছার উদ্দিন ভূঁইয়া (জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি, স্থানীয় আমদানি-রপ্তানিকারক অ্যাসোসিয়েশন)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: রাজস্ব আয় কমেছে ৫২ শতাংশ, যাত্রী পারাপার কমেছে প্রায় ২ কোটি টাকা, পণ্য আমদানি কমেছে তিন কোটি টাকা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!