📌 বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাংক ঋণের ৪ শতাংশ কৃষি খাতে বিতরণ বাধ্যতামূলক করেছে। নতুন নীতিমালায় কৃষি ও পল্লিঋণের লক্ষ্যমাত্রা ৫৪ শতাংশ বাড়িয়ে ৬০ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। উৎপাদন বৃদ্ধি ও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণই প্রধান লক্ষ্য
ঢাকা, ১৭ আগস্ট ২০২৬: কৃষি খাতের উন্নয়নে বৈপ্লবিক পদক্ষেপ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ব্যাংকগুলোর মোট ঋণের অন্তত ৪ শতাংশ কৃষি খাতে বিতরণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। পূর্ববর্তী নীতিমালায় এই হার ছিল আড়াই শতাংশ। নতুন এই সিদ্ধান্তের ফলে চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে কৃষি ও পল্লিঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা প্রায় ৫৪ শতাংশ বাড়িয়ে ৬০ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। গত অর্থবছরে এই লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩৯ হাজার কোটি টাকা।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ব্যাংক ঋণের ৪ শতাংশ কৃষি খাতে বিতরণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে
- 📌 নতুন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ: রাষ্ট্রীয় ব্যাংকগুলোর জন্য ২০ হাজার ৪৯৫ কোটি টাকা এবং বেসরকারি ব্যাংকগুলোর জন্য ৩৯ হাজার ৫০৫ কোটি টাকা
- 📌 কৃষকদের ঋণ প্রাপ্তি সহজ করতে ব্যক্তিগত ও দলবদ্ধ জামানত গ্রহণের সুযোগ বৃদ্ধি
- 📌 নতুন কর্মকাণ্ড যেমন হ্যাচারি, উট পালন ও জৈব সার উৎপাদনে ঋণ প্রদানের সুযোগ
- 📌 প্রকৃত কৃষক শনাক্তে সরকারি ‘কৃষক কার্ড’ ব্যবহারের বিধান চালু
📰 বিস্তারিত
বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ড. মো. হাবিবুর রহমান সোমবার (১৭ আগস্ট) রাজধানীর মতিঝিলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে নতুন কৃষি ও পল্লিঋণ নীতিমালা ঘোষণা করেন। তিনি জানান, কৃষি খাতে পর্যাপ্ত ঋণ প্রবাহ নিশ্চিত করে উৎপাদন বৃদ্ধি এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণই এই নীতিমালার প্রধান উদ্দেশ্য। নতুন লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংকগুলোর জন্য ২০ হাজার ৪৯৫ কোটি টাকা এবং বেসরকারি ও বিদেশি ব্যাংকগুলোর জন্য ৩৯ হাজার ৫০৫ কোটি টাকা ঋণ বিতরণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
নতুন নীতিমালায় কৃষকদের ঋণ প্রাপ্তি সহজ করার জন্য বেশ কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। বিশেষ করে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণের ক্ষেত্রে স্থাবর সম্পত্তির পরিবর্তে ব্যক্তিগত, সামাজিক বা দলবদ্ধ জামানত গ্রহণের সুযোগ রাখা হয়েছে। গ্রামীণ এলাকায় বিভিন্ন আয়-উৎসারি কর্মকাণ্ডেও দলবদ্ধভাবে ঋণ দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে এবং দলের সদস্যসংখ্যার সীমা শিথিল করা হয়েছে।
হ্যাচারিতে মাছ ও হাঁস-মুরগির বাচ্চা উৎপাদন, উট পালন, ব্লুবেরি ফল চাষ, শিমুল মূল সংগ্রহ, অশ্বগন্ধা চাষ এবং ডিমের খোসা দিয়ে জৈব সার উৎপাদনের মতো নতুন কর্মকাণ্ডেও ঋণ দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। প্রকৃত কৃষক শনাক্তে স্থানীয় কৃষি, মৎস্য বা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার প্রত্যয়ন অথবা সরকারি ‘কৃষক কার্ড’ ব্যবহারের বিধান রাখা হয়েছে। ঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রে পাসবই থাকার বাধ্যবাধকতাও তুলে দেওয়া হয়েছে।
জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় ব্যাংক ও গ্রাহকের পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে কৃষকদের বিমা সুবিধার আওতায় আনার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রত্যাশা, নতুন এই নীতিমালার মাধ্যমে কৃষি খাতে অর্থায়ন বৃদ্ধি পাবে। এর ফলে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, গ্রামীণ কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দারিদ্র্য বিমোচন এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।
"কৃষি খাতে পর্যাপ্ত ঋণ প্রবাহ নিশ্চিত করে উৎপাদন বৃদ্ধি এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণই এই নীতিমালার প্রধান উদ্দেশ্য। নতুন প্রযুক্তি ও কর্মকাণ্ডকে অন্তর্ভুক্ত করে কৃষকদের জন্য অর্থায়নের দ্বার আরও উন্মুক্ত করা হয়েছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা, বাংলাদেশ
- 👥 মুখ্য ব্যক্তি: ডেপুটি গভর্নর ড. মো. হাবিবুর রহমান
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৪ শতাংশ, ৬০ হাজার কোটি টাকা, ৫৪ শতাংশ বৃদ্ধি
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!