📌 ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলার একটি মাদরাসার নতুন একতলা ভবনে নির্মাণে পচা ইট, চিকন বালু এবং কাঠ-বাঁশের সেন্টারিং ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও ভবনের স্থায়িত্ব নিয়ে উদ্বেগ জাগিয়েছে, কিন্তু কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি
ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলায় অবস্থিত মোহাম্মদ ভেলা ওমরিয়া ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসার নতুন একতলা একাডেমিক ভবনে নির্মাণে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়রা দাবি করছেন, ভবনের দেয়ালে পচা ইট ও চিকন বালু ব্যবহার করা হয়েছে এবং ছাদের ঢালাইয়ে কাঠ-বাঁশের সেন্টারিং করা হয়েছে, যা ভবনের স্থায়িত্ব ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা বিপন্ন করেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলার মাদরাসায় নির্মাণে পচা ইট ও চিকন বালু ব্যবহারের অভিযোগ
- 📌 ছাদের ঢালাইয়ে কাঠ-বাঁশের সেন্টারিং করা হয়েছে, যা ঢেউয়ের মতো আঁকাবাঁকা করেছে
- 📌 ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান মো. খালিদ হোসেন কাজটি উপঠিকাদার হাজী জুলফিকার মিয়ার কাছে হস্তান্তর করেছে
- 📌 প্রকল্পের অনুমোদিত মূল্য ১ কোটি ৩০ লাখ ৯৩ হাজার ৮৫০ টাকা, কাজ শেষ করতে ৫৪০ দিন সময় দেওয়া হয়েছে
- 📌 শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী আকতার হোসেন অনিয়মের বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা নেননি
- 📌 মাদরাসার সুপার মাওলানা মো. নুরুজ্জামান বলেছেন, ঠিকাদারদের কোনো কথা শোনেন না এবং কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি
📰 বিস্তারিত
মোহাম্মদ ভেলা ওমরিয়া ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসার নতুন একতলা একাডেমিক ভবনের নির্মাণে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়রা জানান, ভবনের দেয়াল নির্মাণে পচা ইট ও চিকন বালু ব্যবহার করা হয়েছে। এছাড়াও, ছাদের ঢালাইয়ে কাঠ-বাঁশের সেন্টারিং করা হয়েছে, যার ফলে ঢালাইয়ের পর ছাদের বিভিন্ন অংশ ঢেউয়ের মতো আঁকাবাঁকা হয়ে গেছে। সরেজমিনে পরিদর্শনেও এই অবস্থা দেখা গেছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
প্রকল্পের আওতায় চারতলা ভিত্তির ওপর একতলা একাডেমিক ভবন নির্মাণ, পয়োনিষ্কাশন, পানি সরবরাহ ও বিদ্যুতায়নের কাজ রয়েছে। এসব কাজের অনুমোদিত চুক্তিমূল্য ১ কোটি ৩০ লাখ ৯৩ হাজার ৮৫০ টাকা এবং কাজ শেষ করতে ঠিকাদারকে ৫৪০ দিন সময় দেওয়া হয়েছে। তবে অভিযোগ রয়েছে, ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান মো. খালিদ হোসেন নিজেরা কাজ বাস্তবায়ন না করে লালমোহন উপজেলার হাজী জুলফিকার মিয়ার কাছে কাজটি হস্তান্তর করেছে। বর্তমানে উপঠিকাদার হিসেবে জুলফিকার মিয়ার লোকজন নির্মাণকাজ পরিচালনা করছেন।
শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী আকতার হোসেন নির্মাণকাজে অনিয়মের বিষয়টি জানার পরও কার্যকর ব্যবস্থা নেননি। বরং তার উপস্থিতিতেই কাঠ-বাঁশের সেন্টারিংয়ে ছাদ ঢালাইয়ের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। সরকারি নির্দেশনায় কাঠ-বাঁশের পরিবর্তে আধুনিক সেন্টারিং পদ্ধতি অনুসরণের কথা থাকলেও তা উপেক্ষা করা হয়েছে।
মাদরাসার সুপার মাওলানা মো. নুরুজ্জামান বলেন, ‘কাজের অনিয়মের বিষয়ে আমি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে মৌখিকভাবে জানিয়েছি। ঠিকাদারের লোকজন আমাদের কোনো কথা শোনেন না। অনিয়মের কারণে কাজ বন্ধ রাখতে বললেও তারা কাজ বন্ধ করেননি। নির্মাণকাজ চলাকালে সাইটে ঠিকাদার কিংবা শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের কোনো লোককে পাইনি। বিষয়টি ফোনে ভোলা শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদেরও জানিয়েছি। কিন্তু তারা কোনো ব্যবস্থা নেননি।’
তজুমদ্দিন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. বনি আমিন বলেছেন, ‘মাদরাসা ভবনের নির্মাণকাজে অনিয়মের বিষয়ে প্রতিষ্ঠানপ্রধান আমাকে মৌখিকভাবে জানিয়েছেন। আমি শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরকে নিয়ম মেনে কাজ বাস্তবায়নের নির্দেশনা দিয়েছি। অন্যথায় কাজ বন্ধ রাখতে বলেছি।’
"কাঠ-বাঁশের সেন্টারিংয়ের বিষয়ে মাদরাসার সুপারের সঙ্গে সমন্বয় করা হবে"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ভোলা, তজুমদ্দিন উপজেলা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মাওলানা মো. নুরুজ্জামান (মাদরাসার সুপার), আকতার হোসেন (সহকারী প্রকৌশলী), মো. বনি আমিন (উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১ কোটি ৩০ লাখ ৯৩ হাজার ৮৫০ টাকা (চুক্তিমূল্য), ৫৪০ দিন (কাজের সময়সীমা)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!