📌 পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলায় শ্রমিক দল নেতা জাহাঙ্গীর হাওলাদারের বিরুদ্ধে খাসজমি দখল, বসতবাড়ি ধ্বংস ও নির্যাতনের অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন আছিয়া বেগম। তিনি দাবি করেছেন, জাহাঙ্গীরের পরিবার তাদের ৩০ বছরের বসবাসের জমি দখল করে মাছের ঘের নির্মাণ করছে এবং বিএনপির ছত্রছায়ায় তাদের মারধর ও লুটপাট করছে
পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলায় শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর হাওলাদারের বিরুদ্ধে খাসজমি দখল, বসতবাড়ি ধ্বংস ও নির্যাতনের অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন আছিয়া বেগম। তিনি দাবি করেছেন, জাহাঙ্গীরের পরিবার তাদের ৩০ বছরের বসবাসের সরকারি খাসজমিতে বসতবাড়ি নির্মাণ ও মাছের ঘের তৈরি করছে এবং বিএনপির ছত্রছায়ায় তাদের পরিবারকে মারধর ও লুটপাট করছে। সংবাদ সম্মেলনটি বৃহস্পতিবার কলাপাড়া প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত হয়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 পটুয়াখালীর ডালবুগঞ্জ ইউনিয়নের উত্তর মনসাতলী এলাকায় খাসজমিতে বসবাসকারী আছিয়া বেগমের পরিবার জাহাঙ্গীর হাওলাদারের বিরুদ্ধে জমি দখল ও নির্মাণ কাজের অভিযোগ তুলেছেন।
- 📌 জাহাঙ্গীরের পরিবার ৩১ আগস্ট আছিয়া বেগমের বসতবাড়ির মাটি কেটে মাছের ঘের ও নতুন ঘর নির্মাণ শুরু করে, যা স্থানীয় ভূমি কর্মকর্তাদের নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করে চলেছে।
- 📌 ৯ অক্টোবর জাহাঙ্গীরের পরিবার আছিয়া বেগম ও তার পরিবারকে মারধর করে স্বর্ণালংকার লুট করে, যার ফলে আছিয়া হাসপাতালে ভর্তি হন এবং জোরপূর্বক তাকে হাসপাতাল থেকে নামিয়ে নেওয়া হয়।
- 📌 আছিয়া বেগমের স্বামী মোস্তফা হাওলাদারকে ২৯ আগস্ট থানা পুলিশের মাধ্যমে গ্রেফতার করে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
- 📌 মহিপুর থানার বিএনপির সভাপতি জলিল হাওলাদার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং বলেছেন, তিনি আছিয়া বেগমের পরিবারকে চিনেন না এবং তাদের অভিযোগ মিথ্যা।
📰 বিস্তারিত
বৃহস্পতিবার কলাপাড়া প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত আছিয়া বেগম লিখিত বক্তব্যে জানান, তাদের পরিবার উত্তর মনসাতলী ও মেহেরপুর সীমান্তবর্তী এলাকায় প্রায় ৩০ বছর ধরে সরকারি খাসজমিতে বসবাস করছে। জাহাঙ্গীর হাওলাদার তার স্বামী মোস্তফা হাওলাদারের বিরুদ্ধে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে একটি মিথ্যা মামলা দিয়ে ২৯ আগস্ট থানা পুলিশের মাধ্যমে গ্রেফতার করিয়ে জেল হাজতে পাঠান।
আছিয়া বেগমের মেয়ে মোসা ঝুমুর ও পুত্রবধু সারমিনের উপস্থিতিতে তিনি জানান, জাহাঙ্গীর ৩১ আগস্ট তার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে আছিয়ার বসতবাড়ির মাটি কেটে মাছের ঘের ও নতুন ঘর নির্মাণ শুরু করেন। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের বাধা দিলে জাহাঙ্গীর তাদের খুন জখমের ভয় দেখিয়ে তাড়িয়ে দেন। পরে ভূমি অফিসের কর্মকর্তারা সরেজমিনে গিয়ে জাহাঙ্গীরকে খাস জমিতে নির্মাণ কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন, কিন্তু তিনি ক্ষমতাসীন দলের ছত্রছায়ায় কাজ অব্যাহত রাখেন।
৯ অক্টোবর দুপুরে জাহাঙ্গীর তার পরিবারের সদস্য এবং প্রভাবশালীদের নিয়ে আছিয়া বেগমকে মারধর ও স্বর্ণালংকার লুট করেন। আছিয়া মারধরে গুরুতর আহত হয়ে কলাপাড়া হাসপাতালে ভর্তি হন। পরবর্তীতে জাহাঙ্গীর কর্তব্যরত চিকিৎসককে ম্যানেজ করে জোরপূর্বক তাকে হাসপাতাল থেকে নামিয়ে দেয়। এই ঘটনায় আছিয়া আদালতে মামলা দায়ের করেছেন। বর্তমানে আছিয়া বেগমের স্বামী জেলবন্দী রয়েছেন এবং পরিবারের অন্য সদস্যরা জাহাঙ্গীরের ভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।
মহিপুর থানার বিএনপির সভাপতি জলিল হাওলাদার বলেন, তিনি আছিয়া বেগমের পরিবারকে চিনেন না এবং তাদের অভিযোগ মিথ্যা। তিনি আরো বলেন, তারা এই বিষয়ে তার কাছে আসেনি। মহিপুর থানার ওসি তদন্ত রাসেল আহমেদ জানান, বিষয়টি তাদের অবগত নেই এবং খোজ খবর নিয়ে দেখা হবে।
"আমি আছিয়ার পরিবারকে চিনিনা। তারা এ বিষয়টি নিয়ে আমার কাছে আসেনি। আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলা, ডালবুগঞ্জ ইউনিয়ন, উত্তর মনসাতলী ও মেহেরপুর সীমান্তবর্তী এলাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আছিয়া বেগম, জাহাঙ্গীর হাওলাদার, জলিল হাওলাদার, মোস্তফা হাওলাদার, মোসা ঝুমুর, সারমিন, তদন্ত রাসেল আহমেদ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩০ বছর (বসবাস), ২৯ আগস্ট (গ্রেফতার), ৩১ আগস্ট (জমি দখল), ৪ অক্টোবর (অভিযোগ), ৯ অক্টোবর (মারধর)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!