📌 দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে বাসিন্দা রিপন বাড়ির আঙিনায় মাত্র দুটি আনারকলি গাছে এক হাজার ফল উৎপাদন করেছেন। বাণিজ্যিকভাবে চাষের সম্ভাবনা দেখিয়ে তিনি চারা উৎপাদন ও বিক্রি করছেন, প্রতিটি ৩০০ টাকায়। স্থানীয় কৃষকদেরও আগ্রহ জাগিয়েছে এই নতুন ফল চাষে
দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে বাসিন্দা রিপন বাড়ির আঙিনায় আনারকলি চাষের মাধ্যমে সাফল্য অর্জন করেছেন। ফ্রিল্যান্সার পেশায় কর্মরত এই ৩৩ বছর বয়সী তরুণ মাত্র দুটি গাছে সাত মাসের মধ্যে প্রায় এক হাজার আনারকলি উৎপাদন করেছেন। ফল দেখতে প্রতিদিন ভিড় করছেন স্থানীয় ও আশেপাশের মানুষ।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 দিনাজপুরের ফুলবাড়ীর রিপন (৩৩) বাড়ির আঙিনায় মাত্র দুটি আনারকলি গাছে এক হাজার ফল উৎপাদন করেছেন
- 📌 প্রতিটি আনারকলি বাজারে ৫০ টাকা এবং প্রতি কেজি ৬০০ টাকা দরে বিক্রির সম্ভাবনা রয়েছে
- 📌 রিপন ৩০০ টাকায় প্রতি চারা বিক্রি করছেন এবং নিজের এক বিঘা জমিতে চাষ প্রসারিত করার পরিকল্পনা করছেন
- 📌 গাছে রোগবালাই কম এবং হাতে পরাগায়ন করলে ফল ধারণের হার ৮০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে
- 📌 একটি গাছ ১০ বছর পর্যন্ত ফল দিতে পারে এবং শীতের তিন মাস বাদে বছরের অধিকাংশ সময় ফল পাওয়া যায়
- 📌 স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তা বলেছেন, আনারকলিতে ভিটামিন এ, সি, পটাশিয়াম ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে
📰 বিস্তারিত
ফুলবাড়ী পৌর এলাকার সুজাপুর বানিয়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা রিপন (৩৩) পেশায় একজন ফ্রিল্যান্সার। তিনি অনলাইনভিত্তিক কাজের পাশাপাশি কৃষিতে নতুন কিছু করার আগ্রহ থেকেই আনারকলি চাষ শুরু করেছিলেন। কক্সবাজারে বেড়াতে গিয়ে প্রথম প্যাশন ফ্রুটের স্বাদ নেওয়ার পর তিনি বীজ সংগ্রহ করে বাড়িতে রোপণ করেছিলেন। তবে প্রথমবার সফল হননি। পরে গত বছরের ডিসেম্বরে তিনি কক্সবাজার থেকে ৯০০ টাকায় দুটি চারা সংগ্রহ করেন এবং বাড়ির আঙিনায় রোপণ করেন। ইউটিউব দেখে পরিচর্যার পদ্ধতি শেখে তিনি সাত মাসের মধ্যে মাচাজুড়ে ছড়িয়ে পড়া লতাগাছে প্রচুর ফল উৎপাদন করেছেন। বাড়ির সামনের চার শতাংশ জায়গায় তৈরি মাচায় ঝুলছে শত শত সবুজ আনারকলি।
ফল দেখতে আসা দর্শনার্থীদের ফল খাওয়ানোর পাশাপাশি রিপন চাষপদ্ধতি ও পরিচর্যার নানা দিক তুলে ধরছেন। তিনি আগ্রহীদের জন্য নিজেই চারা উৎপাদন করছেন। প্রতিটি চারা তিনি ৩০০ টাকায় বিক্রি করছেন। বাণিজ্যিকভাবে চাষের লক্ষ্যে তিনি নিজের এক বিঘা জমিতে চারা রোপণের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। রিপনের অভিজ্ঞতায়, আনারকলি গাছে রোগবালাইয়ের প্রকোপ তুলনামূলক কম। প্রয়োজনীয় জৈব সার, ছত্রাকনাশক ও ফেরোমোন ফাঁদ ব্যবহারের মাধ্যমে গাছের পরিচর্যা করা যায়। ফুল ফোটার পর হাতে পরাগায়ন করলে ফল ধারণের হার ৮০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে। শীতের তিন মাস বাদে বছরের অধিকাংশ সময় গাছে ফল পাওয়া যায়। একটি গাছ প্রায় ১০ বছর পর্যন্ত ফল দিতে পারে বলেও জানান তিনি।
রিপনের এই উদ্যোগ স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে আগ্রহ জাগিয়েছে। প্রতিবেশী মুক্তি চক্রবর্তী বলেছেন, আগে ফেসবুকে আনারকলি সম্পর্কে দেখেছেন। এখন বাড়ির পাশেই ফলটি দেখতে ও খেতে পারছেন। স্থানীয় মাটিতে গাছের ভালো বৃদ্ধি এবং প্রচুর ফল দেখে তিনি চাষে আগ্রহী। ফুলবাড়ী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইফ আব্দুল্লাহ মোত্তাকিন জানান, প্যাশন ফ্রুট দক্ষিণ আমেরিকার পুষ্টিকর ও সুস্বাদু একটি লতানো ফল। বাংলাদেশে এটি আনারকলি নামে পরিচিত। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট উদ্ভাবিত ‘বারি প্যাশন ফল-১’ একটি জনপ্রিয় জাত। ফলটিতে রয়েছে ভিটামিন এ, ভিটামিন সি, পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, খাদ্যআঁশ ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। তিনি বলেন, বাণিজ্যিকভাবে চাষ করা গেলে কৃষকেরা লাভবান হতে পারেন। ফুলবাড়ীতে প্রথমবারের মতো এ ফল চাষের খবর পেয়েছেন জানিয়ে তিনি বলেন, শিগগিরই সরেজমিনে রিপনের বাগান পরিদর্শন করে চাষের সম্ভাবনা ও প্রয়োজনীয় পরামর্শের বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হবে।
"বাড়ির পাশেই ফলটি দেখতে ও খেতে পারছি। স্থানীয় মাটিতে গাছের ভালো বৃদ্ধি এবং প্রচুর ফল দেখে আমি চাষে আগ্রহী"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ফুলবাড়ী, দিনাজপুর
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: রিপন (৩৩), মুক্তি চক্রবর্তী, সাইফ আব্দুল্লাহ মোত্তাকিন
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩৩ বছর বয়স, ৯০০ টাকা, ৫০ টাকা, ৬০০ টাকা, ৩০০ টাকা, ৮০ শতাংশ, ১০ বছর
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!