📌 নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় যৌতুকের জমি নিয়ে পারিবারিক বিরোধের জেরে মা মিনা বেগম (৩৫) সন্তানকে রক্ষা করতে গিয়ে পিটুনিতে মৃত্যুবরণ করেন। ঘটনাস্থলে চারজনকে আটক করা হয়েছে, হত্যা মামলা চলছে
নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় পারিবারিক বিরোধের জেরে সন্তানকে রক্ষা করতে গিয়ে মা মিনা বেগম (৩৫) পিটুনিতে মৃত্যুবরণ করেছেন। ঘটনাস্থলে চারজনকে আটক করা হয়েছে, যাদের মধ্যে সবচেয়ে বয়স্ক ৬৫ বছর বয়সী। ঘটনাটি ঘটে মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সন্ধ্যায় উত্তর সোনাখুলি এলাকায়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 মিনা বেগম (৩৫) সন্তানকে রক্ষা করতে গিয়ে পিটুনিতে মৃত্যুবরণ করেন, ঘটনাস্থলে লাশ পড়ে যায়
- 📌 আটক ৪ জন: সামছুল হক (৬৫), সবুজ (২৮), মোছা: ছবিরন (৫০), রাহেনা বেগম (২৫)
- 📌 ঘটনার মূল কারণ: যৌতুকের জমি ও ফসল কাটা নিয়ে পারিবারিক বিরোধ
- 📌 নিহতের ছেলে মিলন (২৬) ও শ্বশুর আয়নাল হকের মেয়ে হামিদা বেগম (২২) বিয়ে করেছেন
- 📌 পুলিশের দাবি: ৫-৭ জনের মধ্যে চারজনকে হাতেনাতে আটক করা হয়েছে, বাকিদের গ্রেফতার অভিযান চলছে
📰 বিস্তারিত
নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার উত্তর সোনাখুলি এলাকায় মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মা মিনা বেগম (৩৫) সন্তানকে রক্ষা করতে গিয়ে পিটুনিতে মৃত্যুবরণ করেন। ঘটনাস্থলে তার লাশ পড়ে যায়। ঘটনাটি ঘটে যৌতুকের জমি নিয়ে পারিবারিক বিরোধের জেরে। মিনা বেগমের স্বামী মো: জামিনুর রহমানের স্ত্রী ছিলেন তিনি।
সূত্রে জানা যায়, মিনা বেগমের ছেলে মিলন (২৬) ও শ্বশুর আয়নাল হকের মেয়ে মোছা: হামিদা বেগম (২২) বিয়ে করেছেন। বিয়ের সময় কাবিন ও যৌতুকের অংশ হিসেবে একটি জমি বন্ধক রেখে জামাই মিলনকে চাষাবাদের জন্য দিয়েছিলেন শ্বশুর আয়নাল হক। তবে কিছুদিন পর জমির দখল ও চাষাবাদ নিয়ে জামাই-শ্বশুরালয়ের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা সালিশে বসেন এবং সিদ্ধান্ত নেন যে, বিতর্কিত জমিতে থাকা ধান কাটা শেষ হলে পুনরায় সমাধান করা হবে।
আজ বিকেলে গবাদি পশুর খাদ্য কাটার উদ্দেশ্যে মিলনের ছোট ভাই মস্তো মিয়া (১৪) জমিতে যায়। এ সময় আয়নাল হক ও তার ছেলে সবুজসহ কয়েকজন মস্তোর ওপর চড়াও হয়ে তাকে মারধর শুরু করেন। ছোট ছেলের কান্নাকাটি শুনে মা মিনা বেগম তাকে রক্ষা করতে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান। হামলাকারীরা ক্ষিপ্ত হয়ে মিনা বেগমের ওপর চড়াও হয় এবং তাকে মারধর শুরু করেন। লাঠির আঘাতে মিনা বেগম ঘটনাস্থলে লুটিয়ে পড়েন এবং মৃত্যুবরণ করেন।
"মিনা বেগমের মৃত্যু নিশ্চিত জেনেও অভিযুক্ত ৫ থেকে ৭ জন জমির ধান কাটতে থাকে। পরে স্থানীয় জনতা ধান কাটায় রত অবস্থায় চারজনকে হাতেনাতে আটক করে।"
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় বাসিন্দা মো: ছামিদুল ইসলাম (৩৫) ও গোলাম মোস্তফা (৪৫) জানান, পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং অভিযুক্ত চারজনকে থানায় নিয়ে যায়। ডিমলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: আশরাফুল ইসলাম বলেন, ‘সংবাদ পাওয়ার সাথে সাথেই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং স্থানীয়দের সহায়তায় হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত চারজনকে আটক করে। প্রাথমিক অনুসন্ধানে যৌতুকের জমি ও ফসল কাটাকে কেন্দ্র করে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে।’
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: উত্তর সোনাখুলি, ডিমলা উপজেলা, নীলফামারী
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মিনা বেগম (৩৫), সামছুল হক (৬৫), সবুজ (২৮), মোছা: ছবিরন (৫০), রাহেনা বেগম (২৫)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৪ জন আটক, ৩৫ বছর বয়সী নিহত, ৬৫ বছর বয়সী সর্ববয়স্ক অভিযুক্ত
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!