📌 কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ৪৬ শতাংশ জমিতে মার্কেট নির্মাণের উদ্যোগে এলাকাবাসীর ক্ষোভ বেড়েছে। জেলা পরিষদ কর্তৃপক্ষ হাসপাতালের জমি নিজেদের অধীনে নিয়ে মার্কেট নির্মাণের পরিকল্পনা করছে বলে অভিযোগ। স্থানীয়রা দাবি করছেন, জমি ব্যবহার করে হাসপাতালের অবকাঠামো উন্নত করা উচিত
কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের জমিতে মার্কেট নির্মাণের উদ্যোগে এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগের তরঙ্গ উঠেছে। জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের জমি নিজেদের অধীনে নিয়ে মার্কেট নির্মাণের পরিকল্পনা ঘোষণা করা হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। তারা দাবি করছেন, হাসপাতালের অবকাঠামো উন্নত করে আধুনিক চিকিৎসা কেন্দ্রে রূপান্তর করা উচিত ছিল।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ৪৬ শতাংশ জমিতে মার্কেট নির্মাণের উদ্যোগে এলাকাবাসীর প্রতিবাদ বেড়েছে।
- 📌 জেলা পরিষদের প্রশাসক ভিপি খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোস্তারি কাদেরীসহ কর্মকর্তারা হাসপাতালের জমি পরিদর্শন করে ভাঙার চেষ্টা করেন।
- 📌 হাসপাতালের পেছনে ১০ হাজার ইট রাখা হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানান, যা মার্কেট নির্মাণের জন্য ব্যবহৃত হবে বলে আশঙ্কা।
- 📌 উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের জমির মালিকানা নিয়ে স্বাস্থ্য বিভাগ ও জেলা পরিষদের মধ্যে রেকর্ডে ভিন্নতা রয়েছে।
- 📌 স্থানীয়রা দাবি করছেন, হাসপাতালের অবকাঠামো উন্নত করে আধুনিক চিকিৎসা কেন্দ্রে রূপান্তর করা উচিত ছিল।
📰 বিস্তারিত
কিশোরগঞ্জের ভৈরব বাজার উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রায় ৪৬ শতাংশ জমিতে মার্কেট নির্মাণের উদ্যোগে এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভের তরঙ্গ উঠেছে। জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি চালু রেখেই অবশিষ্ট জায়গায় মার্কেট নির্মাণের কথা বলা হলেও স্থানীয়রা অভিযোগ করছেন, হাসপাতালের জমি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা চলছে। তারা দাবি করছেন, মার্কেট নির্মাণ না করে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির অবকাঠামো সম্প্রসারণ করে আধুনিক হাসপাতালে রূপান্তর করা হোক।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকেও প্রতিবাদ জানাচ্ছেন ভৈরবের সচেতন নাগরিকেরা। তাঁদের আশঙ্কা, বাণিজ্যিক স্থাপনা নির্মাণের উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে গুরুত্বপূর্ণ এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হতে পারে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পাকিস্তান আমলে ভৈরব বাজার এলাকায় সাধারণ মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রটি প্রতিষ্ঠা করা হয়। স্বাধীনতার আগ থেকে দীর্ঘ সময় ধরে সেখানে চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম চলছে।
আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির জমি নিয়ে বিভিন্ন মহলের তৎপরতা শুরু হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। সর্বশেষ গত মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকালে কিশোরগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক ভিপি খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোস্তারি কাদেরীসহ কয়েকজন কর্মকর্তা ও স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি পরিদর্শনে যান। এ সময় হাসপাতালের পেছনে থাকা একটি পুরোনো ভবন ভাঙার চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়রা দাবি করছেন, সচল স্বাস্থ্যকেন্দ্রটিকে পরিত্যক্ত দেখিয়ে জমি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা চলছে।
হাসপাতালের সীমানাপ্রাচীরের ভেতরে দুই জায়গায় রাখা বিপুলসংখ্যক নতুন ইট দেখা যায়। স্থানীয়দের ধারণা, সেখানে প্রায় ১০ হাজার ইট রাখা হয়েছে। এ ছাড়া হাসপাতালের পেছনের পুরোনো ভবনটির কিছু অংশ ভাঙা অবস্থায় পাওয়া যায়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, মার্কেট নির্মাণের জন্য এসব ইট আনা হয়েছে। এমনকি নির্মাণকাজ শুরুর আগেই এক শাটারের প্রতিটি দোকান ৩৫ লাখ টাকা করে বিক্রির কথা বিভিন্ন মানুষের কাছে শুনেছেন তিনি। তবে দোকান বিক্রির বিষয়ে কোনো লিখিত বা আনুষ্ঠানিক প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
ভৈরব উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার জারকা বেগম বলেন, সকালে হাসপাতালে এসে তিনি শ্রমিকদের ইট আনতে দেখেন। পরে জেলা পরিষদের প্রশাসক, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও কয়েকজন নেতাকর্মী সেখানে উপস্থিত হন। এ সময় হাসপাতালের পেছনের পুরোনো ভবনটি ভাঙার চেষ্টা করা হয়। তিনি বলেন, প্রতিদিন গড়ে শতাধিক সাধারণ রোগী ও গর্ভবতী নারী এখান থেকে চিকিৎসাসেবা নেন। তাই হাসপাতালটি আরও উন্নত করে আধুনিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।
"প্রতিদিন গড়ে শতাধিক সাধারণ রোগী ও গর্ভবতী নারী এখান থেকে চিকিৎসাসেবা নেন। তাই হাসপাতালটি আরও উন্নত করে আধুনিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ভৈরব বাজার, কিশোরগঞ্জ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: জেলা পরিষদের প্রশাসক ভিপি খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোস্তারি কাদেরীসহ কর্মকর্তা ও নেতাকর্মীরা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৪৬ শতাংশ জমি, ১০ হাজার ইট, ৩৫ লাখ টাকা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!