📌 গাজীপুরে পোশাক শ্রমিকরা ৩০ হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরি দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করে। ছয় ঘণ্টা সংঘর্ষে ২৫ জন আহত হন, তিনজন সংবাদকর্মীও আক্রান্ত। মহাসড়ক অবরোধ ও অগ্নিসংযোগে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়
গাজীপুরের পোশাক কারখানার শ্রমিকরা আজ রোববার সকাল ৯টা থেকে ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করে। সংঘর্ষ, অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরে ছয় ঘণ্টা ধরে উত্তেজনা চলতে থাকে। এই সময়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে পাল্টাপাল্টি সংঘর্ষে অন্তত ২৫ জন শ্রমিক আহত হন এবং তিনজন সংবাদকর্মীও আক্রান্ত হন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলায় ৩০ হাজার টাকা মজুরি দাবিতে পোশাক শ্রমিকরা বিক্ষোভ শুরু করে, ছয় ঘণ্টা অবরোধ থাকে
- 📌 সংঘর্ষে ২৫ জন শ্রমিক আহত, তিনজন সংবাদকর্মী (জাহাঙ্গীর আলম, আবু সাঈদ ও রিয়াজুল ইসলাম) আক্রান্ত হন
- 📌 মহাসড়কে অগ্নিসংযোগ, যানবাহন ভাঙচুর ও পুলিশ বক্সে আগুন দেওয়া হয়, ২০টি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়
- 📌 পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়, শ্রমিকরা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন
- 📌 ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধে দূরপাল্লার বাস ও ট্রাক আটকে পড়ে, যাত্রীদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়
📰 বিস্তারিত
গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার পোশাক কারখানার শ্রমিকরা আজ সকাল ৯টা থেকে বিক্ষোভ শুরু করেন। তাদের দাবি ছিল ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা। বিক্ষোভের সময় মহাসড়ক অবরোধ করে শ্রমিকেরা অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর চালায়। কালিয়াকৈর উপজেলার চন্দ্রা, পল্লীবিদ্যুৎ, সফিপুর, মৌচাক, কোনাবাড়ী, ভোগড়া ও নাওজোড় এলাকায় শ্রমিকরা বিক্ষোভ শুরু করেন। তাদের আন্দোলনের কারণে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
বিক্ষোভের সময় কোনাবাড়ী এলাকায় পুলিশ বক্সে আগুন দেওয়া হয়। পল্লীবিদ্যুৎ এলাকার ট্রপিক্যাল লিমিটেড কারখানার গোদামেও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। পুলিশের একটি গাড়িতেও আগুন লাগানো হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে। শ্রমিকরা পাল্টা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এতে ২৫ জন শ্রমিক আহত হন। আহতদের চিকিৎসা দেওয়া হয় স্থানীয় ক্লিনিকে।
শ্রমিক অসন্তোষের কারণে গাজীপুরের অর্ধশতাধিক পোশাক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়। শ্রমিকেরা সড়কে অবস্থান নিয়ে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর চালায়। স্থানীয় শ্রমিক মো. খাইরুল বলেন, বর্তমান বেতনে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। বাড়ি ভাড়া, খাবার ও চিকিৎসার খরচ মেটাতে শ্রমিকদের বাধ্য হয়ে রাস্তায় নেমে আসতে হয়েছে।
গত শনিবারও একই দাবিতে শ্রমিকরা বিক্ষোভ করে। সেদিন সংঘর্ষে ৩০ জন আহত হন এবং ১৫টি যানবাহন ভাঙচুর হয়। গাজীপুর জেলা প্রশাসক মো. নূরুল করিম ভূইয়া জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পাঁচ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।
"জরুরি কাজে ঢাকায় যাচ্ছিলাম, কিন্তু শ্রমিকদের আন্দোলনের কারণে গাড়ি চলছিল না। পরে বাস থেকে নেমে হেঁটে গন্তব্যে পৌঁছতে হয়েছে। সাধারণ যাত্রীদের কথা কেউ ভাবছে না।"
— আকবর আলী, যাত্রী
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: গাজীপুর, কালিয়াকৈর উপজেলা (চন্দ্রা, পল্লীবিদ্যুৎ, সফিপুর, কোনাবাড়ী, ভোগড়া, নাওজোড়)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মো. খাইরুল (শ্রমিক), জাহাঙ্গীর আলম, আবু সাঈদ, রিয়াজুল ইসলাম (সংবাদকর্মী), মো. নূরুল করিম ভূইয়া (জেলা প্রশাসক)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৫ জন আহত শ্রমিক, ৩ জন আহত সংবাদকর্মী, ২০টি কারখানায় ছুটি, ১৫টি যানবাহন ভাঙচুর (গত শনিবার)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!