📌 গাজীপুরের কালিয়াকৈর ও কোনাবাড়ী শিল্পাঞ্চলে মাসিক ৩০ হাজার টাকা মজুরি দাবিতে শ্রমিকদের বিক্ষোভে মহাসড়ক অবরোধ ও ভাঙচুর ঘটে। ২০ কিলোমিটার যানজট সৃষ্টি হয় এবং পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে কালিয়াকৈর থানার ওসি মো. শহিদুল ইসলাম ইটের আঘাতে আহত হন।
গাজীপুরের কালিয়াকৈর ও কোনাবাড়ী শিল্পাঞ্চলে শ্রমিকদের দিনভর বিক্ষোভে মহাসড়ক অবরোধ, অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। রোববার সকাল থেকে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের ২০ কিলোমিটার এলাকায় যানজট সৃষ্টি হয়। শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে কালিয়াকৈর থানার ওসি মো. শহিদুল ইসলাম ইটের আঘাতে আহত হন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 গাজীপুরের কালিয়াকৈর ও কোনাবাড়ী শিল্পাঞ্চলে মাসিক ৩০ হাজার টাকা মজুরি দাবিতে শ্রমিকদের দিনভর বিক্ষোভ ও মহাসড়ক অবরোধ
- 📌 ২০ কিলোমিটার ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যানজট সৃষ্টি, পুলিশ ও শ্রমিকের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা
- 📌 কালিয়াকৈর থানার ওসি মো. শহিদুল ইসলাম ইটের আঘাতে আহত হন, এক সংবাদকর্মীও মারধর হন
- 📌 চন্দ্রা, পল্লী বিদ্যুৎ, সফিপুর, মৌচাক ও কোনাবাড়ী এলাকায় অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর, যমুনা ব্যাংক ও কারখানার ফটক জ্বালানো হয়
- 📌 শ্রমিকদের দাবি: মাসিক সর্বনিম্ন মজুরি ৩০ হাজার টাকা, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধির কারণে আয় কমে যাচ্ছে
- 📌 ৩০ থেকে ৩৫টি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিজিবি ও পুলিশের সদস্যদের মোতায়েন করা হয়
📰 বিস্তারিত
রোববার সকালে গাজীপুরের বিভিন্ন পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা কাজে যোগ না দিয়ে মহাসড়কে নেমে বিক্ষোভ শুরু করেন। বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে চন্দ্রা, পল্লী বিদ্যুৎ, সফিপুর, মৌচাক ও কোনাবাড়ী এলাকায়। শ্রমিকেরা মহাসড়কে টায়ার, মোটরসাইকেল ও কাঠের জিনিসপত্রে আগুন জ্বালিয়ে যান চলাচল বন্ধ করে দেন। চন্দ্রা পল্লী বিদ্যুৎ এলাকায় একটি প্রাইভেটকারসহ কয়েকটি যানবাহনে অগ্নিসংযোগ করা হয়। কোনাবাড়ী ফ্লাইওভারের নিচে পুলিশ বক্স ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়। যমুনা ব্যাংক, কারখানার ফটক, মৌচাক পুলিশ বক্স এবং ট্রপিক্যাল নিটেক্স লিমিটেডের পাশের মার্কেটে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া শুরু হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ার গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। এ সময় ইটের আঘাতে আহত ওসি মো. শহিদুল ইসলামকে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। একই সময়ে এক সংবাদকর্মীও মারধরের শিকার হন।
শ্রমিকদের দাবি, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়লেও তাদের আয় সেই অনুপাতে বাড়েনি। একটি গ্যাসের সিলিন্ডার কিনতেই প্রায় আড়াই হাজার টাকা ব্যয় করতে হয়। তারা দাবি করেন, শুধু মজুরি বোর্ড গঠন করলেই হবে না, ন্যূনতম মজুরির পরিমাণও নির্দিষ্ট করে ঘোষণা করতে হবে। মাসিক সর্বনিম্ন মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবি জানান শ্রমিকেরা।
গাজীপুর জেলা প্রশাসনের সিনিয়র সহকারী কমিশনার মাসুদুর রহমান রুবেল বলেন, সকাল থেকেই প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করেছেন। বিকেলে শ্রমিকেরা মহাসড়ক থেকে সরে গেলে যান চলাচল স্বাভাবিক হতে শুরু করে। গাজীপুর শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার মো. আমজাদ হোসেন জানান, শ্রমিকদের আন্দোলনের কারণে রোববার ৩০ থেকে ৩৫টি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিজিবি, জেলা পুলিশ, মহানগর পুলিশ ও শিল্প পুলিশ সমন্বিতভাবে কাজ করেছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
"আমাদের কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ ছিল। বহিরাগতরা আন্দোলনের মধ্যে ঢুকে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করেছে"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: গাজীপুরের কালিয়াকৈর ও কোনাবাড়ী শিল্পাঞ্চল, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ওসি মো. শহিদুল ইসলাম, শ্রমিকরা, পুলিশ সুপার মো. আমজাদ হোসেন, সিনিয়র সহকারী কমিশনার মাসুদুর রহমান রুবেল
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২০ কিলোমিটার যানজট, ৩০ হাজার টাকা মজুরি দাবি, ৩০ থেকে ৩৫টি কারখানায় ছুটি
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!