📌 কুমিল্লার দেবিদ্বারে ৬২ লাখ টাকার সড়ক নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগে প্রশাসন কাজ বন্ধের নির্দেশ দিলেও ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান রাতের আঁধারে কার্পেটিং শুরু করে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর ও উপজেলা প্রশাসনের তদন্তে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের সত্যতা পাওয়া গেছে
কুমিল্লার দেবিদ্বারে ৬২ লাখ টাকার সড়ক নির্মাণ প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগে প্রশাসনের তদন্তে রাতের আঁধারে কার্পেটিংয়ের কাজ শুরু করা হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগের পর উপজেলা প্রশাসন কাজ বন্ধের নির্দেশ দিলেও ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান সাফি এন্টারপ্রাইজ রাতের অন্ধকারে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করে কার্পেটিং শুরু করে। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার ৪ নম্বর সুবিল ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্বপাড়া এলাকায়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 কুমিল্লার দেবিদ্বারে ৬২ লাখ টাকার সড়ক নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগে প্রশাসন কাজ বন্ধের নির্দেশ দিয়েছিল, কিন্তু ঠিকাদার রাতের আঁধারে কার্পেটিং শুরু করে
- 📌 স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের ইঞ্জিনিয়ার সুজনের বাড়ি থেকে সেলিম ও তাহের পুলিশের বাড়ি পর্যন্ত সড়ক নির্মাণে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ পাওয়া গেছে
- 📌 ২০২৩ সালে ০.৪৫০ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণের কাজ পেয়েছিল সাফি এন্টারপ্রাইজ, যা আওয়ামী লীগ নেতা মো. মোসলেম উদ্দিন মানিক ভূঁইয়ার নামে ছিল
- 📌 উপজেলা প্রকৌশলী মনিরুল সাজ রিজন বলেছেন, সড়ক সংস্কারে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার, রোলিং না করা এবং প্রাইম কোটের ত্রুটি দেখা গেছে
- 📌 উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অশোক বিক্রম চাকমা বলেছেন, প্রশাসনের নির্দেশ অমান্য করে রাতের অন্ধকারে কার্পেটিং শুরু করা হয়েছে, কাজ বন্ধ করা হয়েছে এবং ঠিকাদারকে নোটিশ দেওয়া হবে
📰 বিস্তারিত
কুমিল্লার দেবিদ্বারে ৬২ লাখ টাকার সড়ক নির্মাণ প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগের পর উপজেলা প্রশাসন গত বৃহস্পতিবার সরেজমিন পরিদর্শন করে কাজ বন্ধের নির্দেশ দিয়েছিল। তবে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান সাফি এন্টারপ্রাইজ শুক্রবার রাতের আঁধারে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করে কার্পেটিংয়ের কাজ শুরু করে। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার ৪ নম্বর সুবিল ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্বপাড়া এলাকায়, যেখানে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) অধীনে ইঞ্জিনিয়ার সুজনের বাড়ি থেকে সেলিম ও তাহের পুলিশের বাড়ি পর্যন্ত সড়ক উন্নয়নকাজ চলছিল।
সংশ্লিষ্ট প্রকৌশল বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালে পল্লী সড়ক অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ০.৪৫০ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণের কাজ পেয়েছিল সাফি এন্টারপ্রাইজ। এই প্রতিষ্ঠানটির নামে কাজটি পেয়েছিলেন আওয়ামী লীগ নেতা মো. মোসলেম উদ্দিন মানিক ভূঁইয়া। কাজ শুরু হওয়ার পর ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দীর্ঘদিন কাজটি বন্ধ ছিল। প্রায় দুই মাস আগে কাজ পুনরায় শুরু হলে আবার অনিয়মের অভিযোগ উঠে।
উপজেলা প্রকৌশলী মনিরুল সাজ রিজন বলেন, ‘সড়ক সংস্কারে অনিয়মের বিষয়টি জানতে পেরে গত বৃহস্পতিবার ইউএনও মহোদয়ের সাথে নির্মাণাধীন সড়ক পরিদর্শনে যাই। নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে কাজ করার অভিযোগে কাজ বন্ধ রেখে দরপত্রের শর্তানুযায়ী কাজটি সম্পাদন করার নির্দেশ দিয়ে আসি।’ তিনি আরও বলেন, পরিদর্শনকালে সড়কের কাজে গুরুতর অসংগতি ও ত্রুটি দেখা গেছে। কয়েকটি স্থানে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার, যথাযথভাবে রোলিং না করা এবং পিচ ঢালাইয়ের আগে বিটুমিনের প্রাইম কোট নিয়মমাফিক প্রয়োগ না করার বিষয়টি তাঁদের নজরে আসে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অশোক বিক্রম চাকমা বলেন, ‘প্রশাসনের নির্দেশনা অমান্য করে শুক্রবার রাতের অন্ধকারে সড়কের নিম্নমানের সামগ্রী না সরিয়ে এবং রোলিং না করে কার্পেটিংয়ের কাজ শুরু করা হয়েছে বলে সংবাদ পেয়েছি। তাৎক্ষণিক গ্রাম পুলিশের মাধ্যমে কাজ বন্ধ রেখেছি।’ তিনি আরও বলেন, গতকাল শনিবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে কার্পেটিং বন্ধ রেখে যথাযথ সরকারি প্রক্রিয়া ও নিয়ম অনুসরণ করে নতুন করে প্রাইম কোট প্রয়োগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
"স্থানীয় কিছু অসাধু লোকের সহযোগিতায় তাঁরা এসব কাজ করতে পারে। তবে কাজের গুণগত মানের ক্ষেত্রে আমার কোনো ছাড় নেই। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হবে।"
সাফি এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী হাজী মোসলেম উদ্দিন ভূঁইয়া মানিক বলেন, ‘এ কাজটি করতে গিয়ে আমার অনেক লোকসান হয়েছে। সড়কের কিছু অংশ পুকুরপাড়ে ছিল। পুকুরপাড়ে গার্ডওয়াল দরপত্রে ধরা ছিল না। তাই সেই অংশে রোলিং করলে সড়কের অংশ পুকুরের দিকে দেবে যায়। কার্পেটিংয়ের জন্য তৈরি করা সামগ্রী নষ্ট হলে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়তে হতো। এ কারণে সড়কের কিছু অংশে রোলিং করে রাতে কার্পেটিংয়ের কাজ করছিলাম।’
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: কুমিল্লার দেবিদ্বার, ৪ নম্বর সুবিল ইউনিয়ন, ৭ নম্বর ওয়ার্ড, পূর্বপাড়া
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মনিরুল সাজ রিজন (উপজেলা প্রকৌশলী), অশোক বিক্রম চাকমা (উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা), হাজী মোসলেম উদ্দিন ভূঁইয়া মানিক (সাফি এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৬২ লাখ টাকা (ব্যয়), ০.৪৫০ কিলোমিটার (সড়ক দৈর্ঘ্য), ৪ নম্বর (সুবিল ইউনিয়ন), ৭ নম্বর (ওয়ার্ড)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!