📌 মানবজমিন কুবি প্রতিনিধি। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করীম—ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক। মঙ্গলবার দুপুরে কলা ও মানবিক অনুষদ হলরুমে ইংরেজি বিভাগের সংবর্ধনা। সঞ্চালক সহকারী অধ্যাপক তারিন বিনতে এনাম। সভাপতি বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. মোহা: হাবিবুর রহমান। আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. বনানী বিশ্বাস, সহ-আহ্বায়ক মোহাম্মদ আলী রেজওয়ান তালুকদার। শরীফুল করীম: ৩ বার চেয়ারম্যান, ৫ বার ডিন।
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) শিক্ষকদের মধ্যে অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করীম প্রথম উপাচার্য নিয়োগ পাওয়ায় সংবর্ধনা দিয়েছে ইংরেজি বিভাগ। এই সময় উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করীম বলেছেন, 'সহকর্মীদের ভালোবাসাই আমার শক্তি।' মঙ্গলবার দুপুরে কলা ও মানবিক অনুষদের হলরুমে বিভাগের সহকারী অধ্যাপক তারিন বিনতে এনামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়। ইংরেজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. মোহা: হাবিবুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপাচার্য। আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. বনানী বিশ্বাস ও সহ-আহ্বায়ক মোহাম্মদ আলী রেজওয়ান তালুকদার উপস্থিত ছিলেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- উপাচার্য: অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করীম—কুবির প্রথম উপাচার্য, ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক।
- অনুষ্ঠান: ইংরেজি বিভাগের সংবর্ধনা—মঙ্গলবার দুপুরে কলা ও মানবিক অনুষদের হলরুমে।
- সঞ্চালক: সহকারী অধ্যাপক তারিন বিনতে এনাম।
- সভাপতি: ইংরেজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. মোহা: হাবিবুর রহমান।
- আহ্বায়ক: অধ্যাপক ড. বনানী বিশ্বাস; সহ-আহ্বায়ক মোহাম্মদ আলী রেজওয়ান তালুকদার।
- উপাচার্যের বক্তব্য: 'সহকর্মীদের ভালোবাসাই আমার শক্তি'—উপাচার্যের দায়িত্ব গ্রহণের সময় সহকর্মীদের পাশে থাকার আহ্বান জানিয়েছিলেন।
- শরীফুল করীমের পেশাগত ইতিহাস: তিনবার ইংরেজি বিভাগের চেয়ারম্যান, পাঁচবার কলা ও মানবিক অনুষদের ডিন, বিভাগের প্রতিষ্ঠাকালীন চেয়ারম্যান।
- বনানী বিশ্বাসের আশা: বিভাগকে মাল্টিকালচারাল হিসেবে গড়ে তোলা—সাহিত্যচর্চা ছাড়াও গান, নৃত্য, আবৃত্তি ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে শিক্ষার্থীদের বিকশিত করা।
উপাচার্য শরীফুল করীমের বক্তব্য
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করীম বলেছেন, 'আজকের এই সুন্দর আয়োজনের অংশ হতে পেরে আমি সত্যিই আনন্দিত। এই বিভাগের প্রতি আমার আবেগ ও আত্মিক টান রয়েছে। উপাচার্যের দায়িত্ব গ্রহণের সময়ও আমি আমার বিভাগের সহকর্মীদের পাশে থাকার আহ্বান জানিয়েছিলাম। তারা সবসময় আমার পাশে ছিলেন। এটি সত্যিই অন্যরকম এক ভালো লাগা। এই বিভাগটি আগামী দিনে আরও অনেক উন্নতি করবে এবং অন্যান্য বিভাগ থেকে ভিন্নতা ও স্বকীয়তা বজায় রেখে এগিয়ে যাবে; সেই প্রত্যাশা রইলো।'
শরীফুল করীমের এই বক্তব্য দেখায় যে তিনি উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার পরেও তাঁর মূল পরিচয় ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক হিসেবেই রয়ে গেছে। তিনি সহকর্মীদের সমর্থনকে নিজের শক্তির উৎস হিসেবে দেখেন—যা একজন নেতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ গুণ।
বনানী বিশ্বাস: 'গর্ব ও আনন্দের বিষয়'
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. বনানী বিশ্বাস বলেছেন, 'আমাদের বিভাগের একজন শিক্ষক আজ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের দায়িত্বে অধিষ্ঠিত হয়েছেন। এটি আমাদের জন্য অত্যন্ত গর্ব ও আনন্দের বিষয়। আমরা বিশ্বাস করি, তাঁর নেতৃত্বে আমাদের বিভাগ স্বকীয়তা ও মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রেখে আরও সমৃদ্ধ হবে।'
বনানী বিশ্বাস আরও বলেছেন, 'আমরা চাই আমাদের বিভাগ একটি সত্যিকারের মাল্টিকালচারাল বিভাগ হিসেবে গড়ে উঠুক। যেখানে শিক্ষার্থীরা শুধু সাহিত্যচর্চাতেই নয়; বরং গান, নৃত্য, আবৃত্তি ও অন্যান্য সৃজনশীল কর্মকাণ্ডেও সমানভাবে নিজেদের বিকশিত করার সুযোগ পাবে।' এই মাল্টিকালচারাল দৃষ্টিভঙ্গি একটি আধুনিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ—যেখানে শিক্ষার্থীরা কেবল একাডেমিক জ্ঞানই নয়, বরং সাংস্কৃতিক ও সৃজনশীল বিকাশেরও সুযোগ পায়।
হাবিবুর রহমান: 'তিনবার চেয়ারম্যান, পাঁচবার ডিন'
অনুষ্ঠানের সভাপতি অধ্যাপক ড. মো: হাবিবুর রহমান বলেছেন, 'কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই অধ্যাপক ড. এম. এম. শরীফুল করীম বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছেন। তিনি তিনবার ইংরেজি বিভাগের চেয়ারম্যান এবং পাঁচবার কলা ও মানবিক অনুষদের ডিন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়কে এগিয়ে নিতে তার মতো দক্ষ ও অভিজ্ঞ একজন উপাচার্যের প্রয়োজন ছিল।'
হাবিবুর রহমান আরও বলেছেন, 'উপাচার্যের দায়িত্বে থাকলেও তিনি মূলত ইংরেজি বিভাগেরই একজন শিক্ষক এবং বিভাগের প্রতিষ্ঠাকালীন চেয়ারম্যান। আমরা বিশ্বাস করি, তার দক্ষ নেতৃত্বে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় তার মিশন ও ভিশন বাস্তবায়নের পথে আরও এগিয়ে যাবে।' শরীফুল করীমের এই দীর্ঘ পেশাগত ইতিহাস—তিনবার চেয়ারম্যান ও পাঁচবার ডিন—দেখায় যে তিনি কুবিতে একজন শীর্ষস্থানীয় শিক্ষাবিদ এবং প্রশাসক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত।
প্রেক্ষাপট: কুবির প্রথম উপাচার্য
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের নতুন প্রতিষ্ঠিত সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর একটি। এর প্রথম উপাচার্য হিসেবে অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করীমের নিয়োগ একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক—কারণ একটি নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম উপাচার্য প্রতিষ্ঠানটির ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। শরীফুল করীমের মতো অভিজ্ঞ শিক্ষাবিদের নেতৃত্বে কুবি একটি শক্তিশালী ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে পারবে বলে আশা করা হচ্ছে।
'আজকের এই সুন্দর আয়োজনের অংশ হতে পেরে আমি সত্যিই আনন্দিত। এই বিভাগের প্রতি আমার আবেগ ও আত্মিক টান রয়েছে। উপাচার্যের দায়িত্ব গ্রহণের সময়ও আমি আমার বিভাগের সহকর্মীদের পাশে থাকার আহ্বান জানিয়েছিলাম। তারা সবসময় আমার পাশে ছিলেন। সহকর্মীদের ভালোবাসাই আমার শক্তি।'—অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করীম, উপাচার্য, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!