📌 বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিষণ্নতার লক্ষণ দেখা দিচ্ছে ৭৪.২ শতাংশের। গবেষণা জানায়, ২০.৯ শতাংশের বিষণ্নতা অত্যন্ত তীব্র পর্যায়ে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অতিরিক্ত ব্যবহার, ঘুমের অভাব ও মানসিক স্বাস্থ্য সেবার অভাবে শিক্ষার্থীরা ভুগছেন
বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিষণ্নতার লক্ষণ দেখা দিচ্ছে বড় ধরনের। গবেষণা প্রকাশ করেছে যে, অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের ৭৪.২ শতাংশের মধ্যে বিষণ্নতার বিভিন্ন মাত্রার লক্ষণ রয়েছে। এর মধ্যে ২০.৯ শতাংশের বিষণ্নতা অত্যন্ত তীব্র পর্যায়ে। গবেষণাটি পরিচালনা করেছেন ‘বন্ধু’ (BONDHU) এবং ‘বাংলাদেশ ইয়ুথ থিংক ট্যাংক’ (BYTT) যৌথভাবে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের ৭৪.২ শতাংশের মধ্যে বিষণ্নতার লক্ষণ পাওয়া গেছে
- 📌 ২০.৯ শতাংশ শিক্ষার্থীর বিষণ্নতা অত্যন্ত তীব্র পর্যায়ে
- 📌 ২৯.১ শতাংশ শিক্ষার্থী দিনে এক ঘণ্টাও পড়াশোনায় সময় দেন না
- 📌 ৫৪.৫ শতাংশ শিক্ষার্থী দিনে পাঁচ ঘণ্টার বেশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করেন
- 📌 ৮৭.৪ শতাংশ শিক্ষার্থী ঘুম থেকে ওঠার আধা ঘণ্টার মধ্যে মুঠোফোন ব্যবহার করেন
- 📌 গবেষণা পরিচালিত হয়েছে ৪২২ জন শিক্ষার্থীর ওপর
- 📌 গবেষণায় চিহ্নিত ঝুঁকির কারণ: পারিবারিক সম্পর্কের অবনতি, আত্মহত্যার চিন্তা, নিরাপত্তাহীনতা
📰 বিস্তারিত
বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যের উপর গবেষণা অনুষ্ঠিত হয় বুধবার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগে। গবেষণার প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন গবেষক ও নীতিবিশ্লেষক মাহাদী-উল-মোর্শেদ। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন কমনওয়েলথ স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং বাংলাদেশ ইয়ুথ থিংক ট্যাংকের সাধারণ সম্পাদক শেখ রিফাদ মাহমুদ। গবেষণায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিষণ্নতার মাত্রা বিভিন্ন পর্যায়ে দেখা গেছে: ১২.৩ শতাংশের মৃদু, ২৮.৭ শতাংশের মাঝারি, ১২.৩ শতাংশের তীব্র এবং ২০.৯ শতাংশের অত্যন্ত তীব্র পর্যায়ে।
গবেষণায় দেখা গেছে, শিক্ষার্থীদের মধ্যে ২৫.৮ শতাংশের মানসিক স্বাস্থ্য অবনতির লক্ষণ রয়েছে। তবে ২২.৫ শতাংশ শিক্ষার্থী মানসিক স্বাস্থ্যসেবা প্রয়োজন বলে মনে করলেও তা নিতে পারছেন না। গবেষণায় আরও জানা যায়, ২৯.১ শতাংশ শিক্ষার্থী দিনে এক ঘণ্টাও পড়াশোনার জন্য সময় দেন না। অন্যদিকে, ৫৪.৫ শতাংশ শিক্ষার্থী দিনে পাঁচ ঘণ্টার বেশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করেন। ঘুম থেকে ওঠার আধা ঘণ্টার মধ্যে মুঠোফোন ব্যবহার করেন ৮৭.৪ শতাংশ শিক্ষার্থী।
গবেষণায় চিহ্নিত ঝুঁকির কারণগুলির মধ্যে রয়েছে পারিবারিক সম্পর্কের অবনতি, আত্মহত্যার চিন্তা, অনিয়মিত ঘুম ও খাদ্যাভ্যাস, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অতিরিক্ত ব্যবহার এবং ক্যাম্পাসে নিরাপত্তাহীনতা। গবেষণা দল বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে নিয়মিত ও গোপনীয় মানসিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র চালুর সুপারিশ করেছে। পাশাপাশি সহজলভ্য পেশাদার কাউন্সেলিং সেবা নিশ্চিত করা, অভিভাবকদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো, শিক্ষার্থীদের আবাসন ও যাতায়াতব্যবস্থার উন্নয়ন এবং দৈনন্দিন জীবনে ভারসাম্য বজায় রাখতে প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
"বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য কেবল ব্যক্তিগত বিষয় নয়; এটি শিক্ষা, জনস্বাস্থ্য ও সামাজিক নীতির সঙ্গে সম্পর্কিত একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় বিষয়। শিক্ষার্থীদের সুস্থ ও নিরাপদ জীবন নিশ্চিত করতে রাষ্ট্র, সমাজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মাহাদী-উল-মোর্শেদ, শেখ রিফাদ মাহমুদ, ইমতিয়াজ আহমেদ, কাজী সাদ্দাম হোসেন, সুজাউল ইসলাম
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৭৪.২ শতাংশ (বিষণ্নতার লক্ষণ), ২০.৯ শতাংশ (অত্যন্ত তীব্র বিষণ্নতা), ৪২২ জন (গবেষণায় অংশগ্রহণকারী)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!