📌 কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে আহত সাইদার মিয়ার হাতের ভেতরে কাচের টুকরা রেখে সেলাই করা হয়। ৩৫ দিন পর অস্ত্রোপচার করে দুটি কাচের টুকরা বের করা হয়। কর্মকর্তা ভুলবশত বলে স্যরি জানান
কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হাতের ক্ষতস্থানে কাচের টুকরা রেখে সেলাই করা একটি রোগীর অভিযোগে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। ২৫ সেপ্টেম্বর বিদ্যুৎস্পৃষ্টে আহত সাইদার মিয়া (৪২) এর হাতের ভেতরে দুটি কাচের টুকরা ঢুকে যায়। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে ভালোভাবে চিকিৎসা না দিয়ে বাড়ি পাঠিয়ে দেয়। ৩৫ দিন পর অস্ত্রোপচার করে কাচের টুকরাগুলো বের করা হয়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ২৫ সেপ্টেম্বর বিদ্যুৎস্পৃষ্টে কুড়িগ্রামের মজিদের পাড় এলাকার সাইদার মিয়ার (৪২) বাম হাতের ভেতরে কাচের টুকরা ঢুকে যায়।
- 📌 চিলমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স তাকে শয্যা না পাওয়ায় ভর্তি না করে হাতের ক্ষতস্থানে কাচের টুকরা রেখেই সেলাই করে বাড়ি পাঠায়।
- 📌 ৩৫ দিন পর স্থানীয় ক্লিনিকে এক্স-রে পরীক্ষায় দুটি কাচের টুকরা ধরা পড়ে। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) অস্ত্রোপচার করে সেগুলো বের করা হয়।
- 📌 চিকিৎসক ডা. আমিনুল ইসলাম ঘটনাটিকে ‘ভুলবশত’ বলে স্যরি জানান এবং রোগীকে চিকিৎসা করাতে বলেন।
- 📌 সাইদার মিয়া দাবি করেন, হাসপাতালে অবহেলার দায় কর্তৃপক্ষের নিতে হবে।
📰 বিস্তারিত
মজিদের পাড় এলাকার বাসিন্দা সাইদার মিয়া (৪২) গত ২৫ সেপ্টেম্বর বিদ্যুৎস্পৃষ্টে পড়ে গিয়ে ঘরের ভেতরে গ্লাসে আঘাত পান। তার বাম হাতের ভেতরে কাচের টুকরা ঢুকে যায়। আহত অবস্থায় স্বজনরা তাকে চিলমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ শয্যা ও জায়গা খালি না থাকার কথা জানিয়ে তাকে ভর্তি করা হয়নি। সেখানে চিকিৎসকরা হাতের ক্ষতস্থানে সেলাই করে কাচের টুকরা ভেতরে রেখেই তাকে বাড়ি পাঠিয়ে দেন।
সাইদার মিয়া ৩৫ দিনের বেশি সময় হাতের যন্ত্রণায় ভুগেন। পরে তিনি স্থানীয় একটি ক্লিনিকে চিকিৎসক ডা. মৃণাল কান্তি রায়ের শরণাপন্ন হন। সেখানে এক্স-রে পরীক্ষায় হাতের ভেতরে দুটি কাচের টুকরা ধরা পড়ে। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সেগুলো অপসারণ করা হয়। সাইদার মিয়া বলেন, ‘বিদ্যুতের শক খেয়ে পড়ে গিয়ে ঘরের ভেতরে গ্লাসে আঘাত পাই। স্থানীয় লোকজন আমাকে চিলমারী হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কোনো রকম চিকিৎসা দিয়ে হাতের ভেতরে গ্লাস রেখেই ফেরত পাঠানো হয়। পরে সুস্থ না হওয়ায় এক মাসের বেশি সময় পর এক্স-রে করে দেখি, ভেতরে দুটি কাচের টুকরা রয়েছে।’
সাইদার মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘এই হাসপাতালে কোনো রোগীকে ভালোভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয় না। এমন অবহেলার দায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে নিতে হবে।’ তবে ঘটনাটিকে ‘ভুলবশত’ বলে স্যরি জানান চিলমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আমিনুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘ওটা ভুলবশত হয়ে গেছে। এজন্য স্যরি ভাই। রোগীকে বলেন চিকিৎসা করাতে। আমি এ বিষয়ে খোঁজখবর নিচ্ছি।’
"বিদ্যুতের শক খেয়ে পড়ে গিয়ে ঘরের ভেতরে গ্লাসে আঘাত পাই। স্থানীয় লোকজন আমাকে চিলমারী হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কোনো রকম চিকিৎসা দিয়ে হাতের ভেতরে গ্লাস রেখেই ফেরত পাঠানো হয়।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: চিলমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, কুড়িগ্রাম
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: সাইদার মিয়া (৪২), ডা. আমিনুল ইসলাম, ডা. মৃণাল কান্তি রায়
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩৫ দিন, ২৫ সেপ্টেম্বর, ৩০ অক্টোবর
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!