📌 রংপুরের গান্নারপাড়ের ছেলে মুসনাদ ই আহমেদ নিজের প্রতিষ্ঠান স্কাইটেক সলিউশনসের মাধ্যমে ৯০০ জনের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছেন। শুরু হয়েছিল ৭ হাজার টাকার বেতনে কল সেন্টারে চাকরি থেকে, এখন বিশ্ববাজারে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়ার প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য সেবা প্রদান করছে তাঁর প্রতিষ্ঠান
রংপুরের গঙ্গাচড়ার গান্নারপাড় গ্রামের এক সাধারণ শিক্ষক পরিবারের ছেলে মুসনাদ ই আহমেদের জীবনগাথা বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের উদ্যোক্তাদের জন্য অনুপ্রেরণার স्रोত হয়ে দাঁড়িয়েছে। শুরু হয়েছিল ৭ হাজার টাকার বেতনে কল সেন্টারে চাকরি থেকে, এখন তিনি নিজের প্রতিষ্ঠান স্কাইটেক সলিউশনসের মাধ্যমে ৯০০ জনের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছেন। গত জুন মাসে চট্টগ্রামের খুলশী কনভেনশন হলে অনুষ্ঠিত ‘বিপিও সামিট বাংলাদেশ ২০২৬’-এ তাঁর প্রতিষ্ঠানটি আন্তর্জাতিক মানের সেবা প্রদানের জন্য আলোচিত হয়েছিল।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 রংপুরের গান্নারপাড়ের ছেলে মুসনাদ ই আহমেদের প্রতিষ্ঠান স্কাইটেক সলিউশনস ৯০০ জনের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে
- 📌 ২০০৮ সালে মাত্র ৭ হাজার টাকার বেতনে কল সেন্টারে কর্মজীবন শুরু করে, এখন বিশ্ববাজারে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়ার প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য সেবা প্রদান করছে
- 📌 ২০১৬ সালে প্রতিষ্ঠানটি ৪৫ জন কর্মী থেকে ৯ জনে সংকুচিত হলেও মুসনাদ নিজের জমানো ১০ লাখ টাকার এফডিআর ভেঙে নতুন করে শুরু করেন
- 📌 স্কাইটেক সলিউশনসের সিইও মুসনাদ ই আহমেদ বলেছেন, ‘প্রযুক্তি নয়, মানুষের দক্ষতাই আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি’
- 📌 প্রতিষ্ঠানটি আন্তর্জাতিক বাজারে কাস্টমার সার্ভিস, লিড জেনারেশন এবং ব্যাক-অফিস সাপোর্ট সেবা প্রদান করছে
📰 বিস্তারিত
মুসনাদ ই আহমেদের শৈশব কাটে তিস্তার পাড়ের কুয়াশাভেজা মাঠে। বাবা মরহুম সাদেকুল ইসলাম ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক। মা মোছা. কোহিনুর বেগমের স্নেহে বড় হওয়া তিন ভাই-বোনের পরিবারে অর্থের প্রাচুর্য ছিল না, তবে ছিল সীমাহীন স্বপ্ন। উচ্চমাধ্যমিক পড়ার জন্য ঢাকার কুর্মিটোলার বিএএফ শাহীন কলেজে ভর্তি হন মুসনাদ। কিন্তু উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার মাত্র তিন মাস আগে বাবা মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণে পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে পড়েন। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম মানুষের হঠাৎ শয্যাশায়ী হয়ে যাওয়া সংসারে চরম অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করে।
২০০৯ সালে বিশ্ববিদ্যালয় জীবন শেষ করার পর মুসনাদ উপলব্ধি করেন যে শুধু ডিগ্রি নয়, দক্ষতা হল ভবিষ্যতের সবচেয়ে বড় পুঁজি। তিনি যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর থেকে কম্পিউটার ও স্পোকেন ইংলিশের প্রশিক্ষণ নেন। বাসে যাতায়াতের সময় রাস্তার পাশের সাইনবোর্ড পড়ে ইংরেজি উচ্চারণ অনুশীলন করতেন। এই ছোট ছোট চর্চাই পরে তাঁর পেশাগত জীবনের শক্ত ভিত্তি গড়ে দেয়।
২০০৮ সালে মাত্র ৭ হাজার টাকার বেতনে কল সেন্টারে কাস্টমার সার্ভিস এজেন্ট হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন মুসনাদ। রাতের শিফটে চাকরি আর দিনের বেলায় টিউশনি—জীবন ছিল নিরবচ্ছিন্ন পরিশ্রমের অদম্য নাম। কিন্তু প্রতিটি চাকরি ছিল শেখার জায়গা। এরপর তিনি আন্তর্জাতিক ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসে কাজ শুরু করেন। টেলিমার্কেটিং ও কাস্টমার সার্ভিসে কাজ করে প্রথমবার ৪০০ মার্কিন ডলার আয় করেন। সেই অর্থের পরিমাণের চেয়েও বড় ছিল আত্মবিশ্বাস—বাংলাদেশে বসেও বিশ্ববাজারে কাজ করা সম্ভব।
২০১৩ সালে সঞ্চিত দেড় লাখ টাকা এবং ব্যাংক থেকে ৩ লাখ ২৫ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে দুটি ভাড়া কক্ষে মাত্র তিনটি ল্যাপটপ দিয়ে শুরু করেন ‘স্কাইটেক সলিউশনস’। শুরুর দিনগুলোয় গ্রাহক পাওয়া, দক্ষ কর্মী তৈরি করা ও আন্তর্জাতিক বাজারে আস্থা অর্জন ছিল কঠিন পরীক্ষা। সবচেয়ে বড় ধাক্কা আসে ২০১৬ সালে যখন আন্তর্জাতিক বাজারের পরিবর্তনে একের পর এক প্রকল্প বন্ধ হয়ে যায়। প্রতিষ্ঠানটি ৪৫ জন কর্মী থেকে মাত্র ৯ জনে সংকুচিত হলেও মুসনাদ নিজের জমানো ১০ লাখ টাকার এফডিআর ভেঙে নতুন করে শুরু করেন। তাঁর সেই সাহসী সিদ্ধান্তই বদলে দেয় প্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যৎ।
"প্রযুক্তি নয়, মানুষের দক্ষতাই আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি। একসময় আমি নিজে কল সেন্টারে চাকরি করতাম, এখন আমার নিজের কল সেন্টারে ৯০০ জন কাজ করে। এই সংখ্যা আমি তিন হাজারে নিয়ে যেতে চাই।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: রংপুরের গান্নারপাড়, ঢাকা, চট্টগ্রামের খুলশী, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মুসনাদ ই আহমেদ (স্কাইটেক সলিউশনসের সিইও)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৯০০ জন কর্মী, ৭ হাজার টাকা বেতন, ৪০০ মার্কিন ডলার আয়, ৩ লাখ ২৫ হাজার টাকা ঋণ, ১০ লাখ টাকা এফডিআর
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!