📌 বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) থেকে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের উদ্যোক্তারা ৫০ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ নিতে পারবেন। জামানত ছাড়াই ২ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ পাওয়ার সুবিধা রয়েছে এবং ঋণ নেওয়ার জন্য কোনো ব্যাংক যেতে হবে না
বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) থেকে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের উদ্যোক্তারা ৫০ হাজার টাকা থেকে সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ নিতে পারবেন। বিসিকের এই ঋণ পেতে হলে কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে যেতে হয় না — দেশের ৬৪টি জেলার বিসিক কার্যালয় থেকে সরাসরি আবেদন করে ঋণ নেওয়া যায়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 বিসিকের তিনটি ঋণ কর্মসূচি: প্রণোদনা প্যাকেজ (২৭০ কোটি টাকা তহবিল), বিনীত ঋণ (১৫০ কোটি টাকা তহবিল), এবং মৌচাষি ঋণ (৪ কোটি ৭৮ লাখ টাকা তহবিল)
- 📌 জামানত ছাড়াই ২ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ পাওয়ার সুবিধা, ২ লাখ টাকার বেশি ঋণের জন্য নিজস্ব জমি বা বাড়ির বন্ধক দিতে হয়
- 📌 নারী উদ্যোক্তাদের জন্য ৫ শতাংশ সুদহার, পুরুষদের জন্য ৬ শতাংশ সুদহার — সাধারণ ব্যাংক ঋণের তুলনায় অনেক কম
- 📌 ঋণ নেওয়ার জন্য ৩০ শতাংশ ইকুইটি নিশ্চিত করতে হবে (নারী উদ্যোক্তাদের জন্য ২০ শতাংশ)
- 📌 ঋণ অনুমোদনের ক্ষমতা জেলা কার্যালয় (৫ লাখ টাকা পর্যন্ত), আঞ্চলিক কার্যালয় (৫-১০ লাখ টাকা), এবং কেন্দ্রীয় কার্যালয় (১০ লাখ টাকার বেশি)
📰 বিস্তারিত
বিসিকের তিনটি প্রধান ঋণ কর্মসূচির মধ্যে প্রথমটি হলো প্রণোদনা প্যাকেজ ঋণ, যা ২০২০–২১ অর্থবছর থেকে শুরু হয়। এই তহবিলের আকার বর্তমানে ২৭০ কোটি টাকা এবং এ পর্যন্ত ৯ হাজার ২৯১ জন উদ্যোক্তা এই ঋণ পেয়েছেন। দ্বিতীয় কর্মসূচি হলো ‘বিনীত’ ঋণ, যা ২০১৫–১৬ অর্থবছর থেকে শুরু হয়। এই তহবিলের আকার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫০ কোটি টাকা এবং ৮ হাজার ৮৭৩ জন উদ্যোক্তা এই ঋণ পেয়েছেন। তৃতীয় কর্মসূচি হলো মৌচাষিদের জন্য, যা ২০১৯ সাল থেকে চালু। এই তহবিলের আকার ৪ কোটি ৭৮ লাখ টাকা এবং এ পর্যন্ত ১ হাজার ৪৯৭ জন মৌচাষি ঋণ পেয়েছেন।
বিসিকের কর্মকর্তারা জানান, ঋণের সুদহার অত্যন্ত আকর্ষণীয়। নারী উদ্যোক্তাদের জন্য মাত্র ৫ শতাংশ সুদহার এবং পুরুষদের জন্য ৬ শতাংশ সুদহার। ঋণ পরিশোধের মেয়াদ ১ থেকে ৫ বছর পর্যন্ত হতে পারে। সাধারণ ব্যাংক ঋণের তুলনায় এই সুদহার অনেক কম। উদ্যোক্তারা ঋণ নেওয়ার জন্য ৩০ শতাংশ ইকুইটি নিশ্চিত করতে হবে (নারী উদ্যোক্তাদের জন্য ২০ শতাংশ)। ইকুইটি হিসেবে উদ্যোক্তার বিনিয়োগকৃত জমি, কারখানা ঘর, যন্ত্রপাতি বা স্থায়ী বিনিয়োগ বিবেচনা করা হয়।
বিসিকের ঋণ পেতে উদ্যোক্তাদের জেলা কার্যালয়ে সরাসরি আবেদন করতে হয়। আবেদনের ১৫ দিনের মধ্যে ঋণ অনুমোদনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ঋণ নেওয়ার উদ্দেশ্য যেমন নতুন যন্ত্রপাতি ক্রয়, পরিচালন মূলধন বা বিপণন খরচ — তা যাচাই করে ঋণ প্রদান করা হয়।
"জাতীয় শিল্পনীতি ২০২২ অনুযায়ী যেকোনো শিল্প খাতের প্রতিষ্ঠান এই ঋণের জন্য আবেদন করতে পারে। তবে নতুন উদ্যোক্তা, নারী উদ্যোক্তা, বিসিক শিল্প নগরীর শিল্প প্লটের মালিক ও রপ্তানিমুখী খাতগুলোকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বাংলাদেশের ৬৪টি জেলার বিসিক কার্যালয়
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: বিসিক কর্মকর্তারা, মৌচাষিরা, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের উদ্যোক্তারা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২০ লাখ টাকা (সর্বোচ্চ ঋণ), ৫০ হাজার টাকা (ন্যূনতম ঋণ), ৬৪টি জেলা, ২৭০ কোটি টাকা (প্রণোদনা প্যাকেজ তহবিল), ১৫০ কোটি টাকা (বিনীত ঋণ তহবিল), ৫ শতাংশ (নারী উদ্যোক্তাদের সুদহার)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!