📌 দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী নাজমা আক্তার চাকরি পাওয়ার লড়াইয়ে প্রযুক্তির হাত ধরে নিজের দক্ষতা প্রমাণ করছেন। প্লেক্সাস ক্লাউডের কল সেন্টারে নিয়োগ পেয়ে তিনি আত্মবিশ্বাস ফিরে পেয়েছেন এবং সমাজের প্রচলিত ধারণাকে বদলে দিচ্ছেন
দৃষ্টিপ্রতিবন্ধিতার বাধা অতিক্রম করে নিজের পথ খুঁজে নিয়েছেন নাজমা আক্তার। প্রযুক্তির সহায়তায় তিনি কল সেন্টারে নিয়োগ পেয়ে আত্মবিশ্বাস ফিরে পেয়েছেন। চাকরির জন্য আবেদন করতে গিয়ে বহুবার শুনেছেন ‘আপনি তো দেখতে পান না, কাজ করবেন কীভাবে?’ এই প্রশ্ন। কিন্তু প্লেক্সাস ক্লাউডের ব্র্যান্ড স্বাধীন ইন্টারনেট প্রতিষ্ঠানটি তাঁকে কল সেন্টার কর্মী হিসেবে নিয়োগ দেয়। এখন তিনি নিজের দক্ষতা দিয়ে নিজেকে প্রমাণ করছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনকারী নাজমা আক্তার দৃষ্টিপ্রতিবন্ধিতার কারণে চাকরি পাওয়ার লড়াইয়ে বাধা পেয়েছেন।
- 📌 প্লেক্সাস ক্লাউডের কল সেন্টারে নিয়োগ পেয়ে তিনি প্রযুক্তির মাধ্যমে নিজের দক্ষতা প্রদর্শন করছেন।
- 📌 প্রতিষ্ঠানটি ১২ জন প্রতিবন্ধী কর্মচারী নিয়োগ করেছে, যার মধ্যে ৪ জন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী।
- 📌 নাজমার স্বামী রাকিবও দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী এবং আইন পেশায় যুক্ত হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
- 📌 প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোবারক হোসেন বলেছেন, প্রতিবন্ধীদের প্রশিক্ষণ দিয়ে তাদের স্বাবলম্বী করতে চান।
📰 বিস্তারিত
জন্ম থেকেই দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী নাজমা আক্তারের জীবনে বাধা নতুন নয়। তবে কোনো বাধাই তাঁকে পড়াশোনার পথে থামাতে পারেনি। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করার পর চাকরি পাওয়ার লড়াইয়ে তিনি মুখোমুখি হন। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে আবেদন করলেও তাঁর দৃষ্টিপ্রতিবন্ধিতাই হয়ে উঠেছে প্রধান বাধা। নাজমা বলেছেন, তাঁকে কাজটি করে দেখানোর সুযোগই দেওয়া হতো না। অবশেষে প্লেক্সাস ক্লাউডের কল সেন্টারে নিয়োগ পেয়ে তিনি নিজের দক্ষতা প্রদর্শন করতে পারছেন।
কল সেন্টারের কাজ মূলত যোগাযোগ ও সেবাকেন্দ্রিক। গ্রাহকের কথা শোনা, তাদের সমস্যা বোঝা এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া—এসব কাজে নাজমার চোখের দৃষ্টি প্রয়োজন হয় না। প্রযুক্তির সহায়তায় তিনি নিয়মিত দায়িত্ব পালন করছেন। দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী মানুষের জন্য প্রযুক্তি এখন শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়; শিক্ষা ও কর্মসংস্থানেরও হাতিয়ার। পর্দার তথ্য পড়ে শোনানো, কণ্ঠনির্ভর নির্দেশনা এবং বিভিন্ন সহায়ক প্রযুক্তি ডিজিটাল কর্মপরিবেশে তাঁদের অংশগ্রহণের সুযোগ বাড়িয়েছে।
নাজমার জীবন সেই পরিবর্তনেরই একটি বাস্তব উদাহরণ। তিনি বলেন, ‘এটি আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়ার গল্প। নিজের পায়ে দাঁড়ানোর গল্প। আর একই সঙ্গে সমাজের প্রচলিত ধারণাকে বদলে দিতে পেরেছি।’ তাঁর পথচলায় সবচেয়ে কাছের মানুষ স্বামী রাকিব। বিশ্ববিদ্যালয়ে সহপাঠী হিসেবে তাঁদের পরিচয়। রাকিবও দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী। পরিচয় থেকে ভালোবাসা, পরে বিয়ে। এখন সংসারের পাশাপাশি দুজনই নিজেদের স্বপ্ন পূরণের চেষ্টা করছেন। রাকিব আইন পেশায় যুক্ত হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
"আমরা নাজমার মতো প্রতিবন্ধীদের কাজে খুশি। গত তিন বছরে তাঁদের নামে কোনো অভিযোগ আসেনি। তাঁরা প্রত্যেকেই শিক্ষিত। তাঁদের সবাইকে আমরা প্রশিক্ষণ দিয়ে যোগ্য ও দক্ষ করে গড়ে তুলেছি, যাতে তাঁরা নিজেরা স্বাবলম্বী হতে পারেন।"
প্লেক্সাস ক্লাউড কর্তৃপক্ষ জানায়, তাদের প্রতিষ্ঠানে গ্রাহকসেবা বিভাগে তথা কল সেন্টারে ১২ জন প্রতিবন্ধী কর্মচারী নিয়োগ করা হয়েছে, যার মধ্যে ৪ জন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী। অন্যদের কেউ শারীরিক প্রতিবন্ধী, কেউ পক্ষাঘাতগ্রস্ত। তাঁরা নিজেদের বাসায় বসে কাজ করেন। একজন গ্রাহক যিনি সমস্যার কথা জানিয়ে ফোন করেন, তিনি আসলে সমাধান চান। কল সেন্টারের কর্মী কোথায় বসে তাঁদের সেবা দিচ্ছেন, এটা কেউ জানতে চায় না।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, প্লেক্সাস ক্লাউডের কল সেন্টার
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: নাজমা আক্তার, মোবারক হোসেন, রাকিব
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১২ জন প্রতিবন্ধী কর্মচারী (৪ জন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!