📌 মার্কিন কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদ রাশিয়া ও ইরানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা বিল অনুমোদন করে। বিলে ভারতসহ ১০টি দেশের ওপর সর্বোচ্চ ১০০% শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বাক্ষর ছাড়া বিল আইনে পরিণত হবে না
যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদ রাশিয়া ও ইরানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা বিল অনুমোদন করে। এই বিলে রাশিয়ার জ্বালানি খাত ও কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের পাশাপাশি ভারতসহ ১০টি দেশের ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। বিলটি এখন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে পৌঁছেছে, যার স্বাক্ষর ছাড়া এটি আইনে পরিণত হবে না।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদ ২৬২-১৫৯ ভোটে রাশিয়া-ইরান নিষেধাজ্ঞা বিল অনুমোদন করে; ট্রাম্পের স্বাক্ষর প্রয়োজন
- 📌 বিলে ভারতসহ ১০টি দেশের (চীন, সংযুক্ত আরব আমিরাত, তুরস্ক, সিঙ্গাপুর, আজারবাইজান, কাজাখস্তান, হাঙ্গেরি, কিরগিজস্তান, স্লোভাকিয়া) ওপর সর্বোচ্চ ১০০% শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে
- 📌 রাশিয়ার ‘শ্যাডো ফ্লিট’ জাহাজগুলোর বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তাব রয়েছে
- 📌 ডেমোক্র্যাট সদস্যরা বিলের বিরোধিতা করে; তারা বলেছেন, বিলটি প্রেসিডেন্টকে অতিরিক্ত ক্ষমতা দেবে
- 📌 ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের পর ভারত রাশিয়া থেকে তেল আমদানি ১১ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে
- 📌 বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, শুল্ক বৃদ্ধি ভারতের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করতে পারে
📰 বিস্তারিত
মার্কিন কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদ রাশিয়ার কর্মকর্তা ও জ্বালানি খাতের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা বিল অনুমোদন করেছে। এই বিলের নাম ‘লিন্ডসে ও. গ্রাহাম স্যাংশনিং রাশিয়া অ্যান্ড ইরান অ্যাক্ট অব–২০২৬’। বিলটি এখন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে পৌঁছেছে। ট্রাম্পের স্বাক্ষর ছাড়া এটি আইনে পরিণত হবে না। বিলের আওতায় রাশিয়ার জ্বালানি কিনতে থাকা দেশগুলোর ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ক্ষমতা প্রেসিডেন্টকে দেওয়া হয়েছে। এই দেশগুলোর মধ্যে ভারত ও চীনও রয়েছে।
গত মাসে মার্কিন সিনেটে পাস হওয়া এই বিলটি প্রতিনিধি পরিষদে ২৬২-১৫৯ ভোটে চূড়ান্ত অনুমোদন পেয়েছে। ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসম্যান স্টেনি হোয়ার একটি সংশোধনী প্রস্তাব করেন, যেখানে ১০টি দেশের নাম স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। এই দেশগুলো হলো চীন, ভারত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, তুরস্ক, সিঙ্গাপুর, আজারবাইজান, কাজাখস্তান, হাঙ্গেরি, কিরগিজস্তান ও স্লোভাকিয়া। বিলের ‘সেকেন্ডারি ট্যারিফ’ ব্যবস্থার আওতায় এসব দেশের ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের সুযোগ থাকবে।
বিলের লক্ষ্য শুধু রাশিয়ার নেতৃত্ব ও জ্বালানি খাতের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা নয়। রাশিয়া যাতে তেল সরবরাহের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে যেতে না পারে, সেই কাজে ব্যবহৃত জাহাজগুলোর ‘শ্যাডো ফ্লিট’ বা ছায়া বহরের বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তাব রয়েছে। একই সঙ্গে রাশিয়ার তেল ও গ্যাসের ওপর নির্ভরতা কমানোর জন্য চীন, ভারতসহ অন্যান্য দেশের ওপর কঠোর শুল্ক আরোপের ক্ষমতা ট্রাম্পকে দেওয়া হয়েছে।
ডেমোক্র্যাট সিনেটর জিন শ্যাহিন বলেছেন, ‘রাশিয়া শ্যাডো ফ্লিট ব্যবহার করে সেই তেল ও গ্যাস বিক্রি করছে। এর অর্থ হলো, এসব জ্বালানি বাজারদরের চেয়ে কম দামে কেনা হচ্ছে এবং এর বেশিরভাগই চীন ও ভারতের মতো দেশগুলোতে যাচ্ছে।’ তিনি আরও বলেছেন, ‘রাশিয়ার তেল ও গ্যাস ব্যবহারের ক্ষেত্রে চীন শীর্ষে রয়েছে। তাই আমাদের শুধু পুতিনকে নয়, চীনকে এবং যারা রাশিয়ার তেল ও গ্যাস কিনছে তাদের সবাইকে খুব শক্ত বার্তা দিতে হবে যে এর জন্য তাদের মূল্য দিতে হবে।’
"আমরা যদি এই বিল পাস করতে ব্যর্থ হই, তাহলে ক্রেমলিনে উল্লাস হবে এবং কিয়েভে অশ্রু ঝরবে।"
— ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসম্যান স্টেনি হোয়ার
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: মার্কিন কংগ্রেস (প্রতিনিধি পরিষদ), যুক্তরাষ্ট্র
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ডোনাল্ড ট্রাম্প, স্টেনি হোয়ার, জিন শ্যাহিন
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৬২-১৫৯ ভোটে অনুমোদন, ১০০% শুল্ক, ১০টি দেশের নাম উল্লেখ
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!