📌 বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস) দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে প্রশাসক ও সহায়ক কমিটির গোলকধাঁধায় আটকে পড়েছে। নির্বাচন প্রক্রিয়া বারবার স্থগিত হওয়ায় সফটওয়্যার খাতের আন্তর্জাতিক প্রতিশ্রুতি প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় নতুন প্রশাসক নিয়োগ করলেও সংকটের সমাধান হয়নি
দেশের সফটওয়্যার ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতের নেতৃত্বে রাজনৈতিক প্রভাব ও প্রশাসনিক অস্থিরতা সৃষ্টি করছে বেসিসের নির্বাচন প্রক্রিয়ায় বারবার স্থগিতাদেশ। বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস) প্রতিষ্ঠিত ১৯৯৮ সাল থেকে প্রথমবারের মতো এই ধরনের দীর্ঘমেয়াদী সংকটের মুখোমুখি হয়েছে। দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে প্রশাসক ও সহায়ক কমিটির গোলকধাঁধায় আটকে পড়া সংগঠনটি এখনও নির্বাচিত নেতৃত্ব পায়নি, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের প্রযুক্তি খাতের প্রতিশ্রুতিকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বেসিসের নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা হয়েছে — ২৯ আগস্ট ঘোষিত নির্বাচনও বাতিল করা হয়েছে।
- 📌 বাণিজ্য মন্ত্রণালয় খাদিজা নাজনীনকে ৪ মাসের জন্য নতুন প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে — কিন্তু প্রশাসক বদলের মধ্যেই সংগঠনটি আটকে পড়েছে।
- 📌 ১৯৯৮ সালের ১৩ আগস্ট প্রতিষ্ঠিত বেসিসের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এম এ তৌহিদ বলেছেন, “পুরোনো ও নতুন সবাই মিলে সিদ্ধান্ত নিতে হবে — না হলে বেসিস ধ্বংসের পথে চলছে।”
- 📌 আব্দুল্লাহ এইচ কাফি বলেছেন, “আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নেতিবাচক আলোচনা হচ্ছে — আর ক্ষতি করবেন না এই খাতকে।”
- 📌 ১১টি পদে ২৬ জন প্রার্থী থাকা সত্ত্বেও নির্বাচন বারবার স্থগিত হওয়ায় সদস্যদের মধ্যে উদ্বেগ বৃদ্ধি পেয়েছে।
- 📌 ১৭ ধারা অনুযায়ী প্রশাসক নিয়োগ হলেও, প্রশাসক বদলের মধ্যেই সংগঠনটি অভ্যন্তরীণ কোন্দলে জড়িয়ে পড়েছে।
📰 বিস্তারিত
বেসিসের নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত হওয়ায় সফটওয়্যার খাতের পেশাদারত্ব আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে। প্রতিষ্ঠিত ১৯৯৮ সালের ১৩ আগস্ট থেকে বেসিস বাংলাদেশের প্রযুক্তি খাতের নীতি নির্ধারণ ও বৈশ্বিক স্বীকৃতির প্রধান সংগঠন ছিল। কিন্তু দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে প্রশাসক ও সহায়ক কমিটির গোলকধাঁধায় আটকে পড়া সংগঠনটি এখনও নির্বাচিত নেতৃত্ব পায়নি।
প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করা যুগ্ম সচিব আবুল খায়ের মোহাম্মদ হাফিজুল্লাহ খানের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ৩ সেপ্টেম্বর খাদিজা নাজনীনকে ৪ মাসের জন্য নতুন প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে। তবে প্রশাসক বদলের মধ্যেই সংগঠনটি আবারও অভ্যন্তরীণ কোন্দলে জড়িয়ে পড়েছে। বেসিসের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এম এ তৌহিদ প্রথম আলোকে বলেছেন, “অনেক হয়েছে, যা দেখছি তাতে আমাদের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের মানুষের জন্য ভালো কিছু হবে না। আমি শুধু পরামর্শ দিচ্ছি — সবাই মিলে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। না হলে বেসিস ধ্বংসের পথে চলছে।”
আব্দুল্লাহ এইচ কাফি বলেছেন, “খারাপ লাগে যখন আমার দেশকে নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নেতিবাচক আলোচনা হয়। অ্যাসোসিও কিংবা উইটসার মতো বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্মে আমাদের ছোট করে দেখা হয়। আমি অনুরোধ করছি — আর ক্ষতি করবেন না এই খাতকে।”
গত ২৯ আগস্ট প্রথম আলোতে প্রকাশিত সংবাদে ‘অবশেষে হচ্ছে বেসিস নির্বাচন, ১১টি পদে ২৬ জন প্রার্থী’ শিরোনামে নির্বাচনের প্রক্রিয়া ঘোষিত হয়েছিল। কিন্তু ৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে। সদস্যদের মধ্যে প্রশ্ন জাগে — কেন বারবার নির্বাচন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে? রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগ উঠছে। সদস্যরা দাবি করছেন, নির্বাচন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং ব্যর্থতার দায় চিহ্নিত করা জরুরি।
"অনেক হয়েছে, যা দেখছি তাতে আমাদের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের মানুষের জন্য ভালো কিছু হবে না। আমি শুধু পরামর্শ দিচ্ছি — সবাই মিলে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। না হলে বেসিস ধ্বংসের পথে চলছে।"
"আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নেতিবাচক আলোচনা হচ্ছে — আর ক্ষতি করবেন না এই খাতকে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা, বাংলাদেশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: এম এ তৌহিদ, আব্দুল্লাহ এইচ কাফি, আবুল খায়ের মোহাম্মদ হাফিজুল্লাহ খান, খাদিজা নাজনীন
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৯৯৮ (বেসিস প্রতিষ্ঠা), ১৩ (আগস্ট), ৮৩ (বয়স), ২৯ (আগস্ট), ১১ (পদ), ২৬ (প্রার্থী), ৩ (সেপ্টেম্বর), ১৭ (ধারা)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!