📌 পটুয়াখালার গলাচিপা উপজেলার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় বুড়াগৌরাঙ্গ নদীর ভাঙন থেকে মাত্র ১০০ মিটার দূরে এসে পৌঁছেছে। ১০৫ শিক্ষার্থীর ভবিষ্যত বিপন্ন হচ্ছে। নদীভাঙনের কারণে ৪টি শিক্ষক পদসহ প্রধান শিক্ষকের পদও খালি রয়েছে। স্থানীয়রা ব্লক দেয়ার দাবি জানাচ্ছেন
পটুয়াখালার গলাচিপা উপজেলার চরকাজল ইউনিয়নের একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় বুড়াগৌরাঙ্গ নদীর ভাঙনের হুমকির মুখে পড়েছে। নদীভাঙনের ফলে বিদ্যালয় ভবনটি মাত্র ১০০ মিটার দূরে এসে ঠেকেছে। এতে ১০৫ শিক্ষার্থীর ভবিষ্যত বিপন্ন হচ্ছে। স্থানীয়রা দাবি করছেন, অতি শিগগিরই নদীভাঙন-রোধে কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 বুড়াগৌরাঙ্গ নদীর ভাঙন থেকে মাত্র ১০০ মিটার দূরে এসে ঠেকেছে পশ্চিম চর কাজল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন।
- 📌 ১০৫ শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে এই বিদ্যালয়ে, কিন্তু প্রধান শিক্ষকের পদসহ ৪টি শিক্ষক পদ খালি রয়েছে।
- 📌 ১৯৯৫ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বিদ্যালয়ের জমি দান করেছিলেন আবু জাফর হাওলাদার। ৩০ শতাংশ জমি ও কমিউনিটি সেন্টার ইতিমধ্যে নদীতে বিলীন হয়েছে।
- 📌 নদীভাঙনের কারণে পশ্চিম চর কাজল মৌজা ও বড় চর কাজলের অংশ বিলীন হয়েছে। একাধিক মাদরাসা, মসজিদ ও বাড়িঘর নদীর গর্ভে চলে গেছে।
- 📌 স্থানীয়রা দাবি করছেন, ব্লক দেয়া না হলে আগামী মৌসুমে বিদ্যালয় ভবনও নদীতে ডুবে যাবে।
📰 বিস্তারিত
পশ্চিম চর কাজল ইউনিয়নের ১৮৩ নং পশ্চিম চর কাজল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন বুড়াগৌরাঙ্গ নদীর ভাঙনের হুমকির মুখে রয়েছে। নদীভাঙনের ফলে বিদ্যালয়টি থেকে মাত্র ১০০ মিটার দূরে এসে ঠেকেছে। স্থানীয়রা জানান, নদীভাঙন অব্যাহত থাকলে খুব শিগগিরই বিদ্যালয় ভবনটি নদীর গর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা করছে। এতে শতাধিক শিক্ষার্থীর ভবিষ্যত অনিশ্চিত হয়ে পড়বে।
১৯৯৫ সালে আবু জাফর হাওলাদারের দানকৃত ৪০ শতাংশ জমিতে প্রতিষ্ঠিত এই বিদ্যালয়টি ২০১৩ সালে জাতীয়করণ হয়। বর্তমানে দুই শিফটে পরিচালিত বিদ্যালয়টিতে প্রাক-প্রাথমিকসহ ছয়টি শ্রেণিতে ১০৫ শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। তবে প্রধান শিক্ষকের পদসহ চারটি শিক্ষক পদ খালি রয়েছে।
বুড়াগৌরাঙ্গ নদীর ভাঙন অব্যাহত থাকলে পশ্চিম চর কাজল মৌজা সম্পূর্ণ ও বড় চর কাজলের আংশিক বিলীন হয়ে গেছে। এতে একটি মাদরাসা, চারটি মসজিদ, একটি কমিউনিটি বিদ্যালয়ের ভবনসহ শতাধিক বাড়িঘর নদীর গর্ভে চলে গেছে। স্থানীয়রা দাবি করছেন, এদিকে আরো শতাধিক বাড়িঘর, মসজিদ ও মাদরাসা নদীভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে।
"আমার ভাই আবু জাফর হাওলাদারের দান করা জমিতে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা লাভ পায়। প্রথম ৪০ শতাংশ জমি দান করেছিল, সেখানে একটি কমিউনিটি সেন্টার নির্মিত হয়েছিল। কিন্তু ৩০ শতাংশ জমিসহ বিল্ডিংটি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। নতুন করে আবারো ৪০ শতাংশ জমি দান করা হয়েছে। বর্তমান বিদ্যালয় ভবনটিও নদীভাঙনের হুমকির মুখে রয়েছে।"
অভিভাবকদের মধ্যে অন্যতম মো জাফর সিকদার বলেন, “এই বিদ্যালয়ে আমাদের ছেলেমেয়েরা লেখাপড়া করছে। নদীভাঙনের ফলে বিদ্যালয়টির ভবন হুমকিতে রয়েছে। অতি শিগগিরই নদীভাঙন-রোধে কার্যকরী ব্যবস্থাগ্রহণের দাবি জানাই।”
বিশ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রাশিদা বেগম জানান, “আগে নদী অনেক দূরে ছিল। কিন্তু নদীভাঙনের ফলে দিনে দিনে খুব কাছাকাছি চলে এসেছে। খুব শিগগিরিই কার্যকরী কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা না হলে বিদ্যালয়ের ভবনটি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এতে ছোট বাচ্চাদের ভবিষ্যত অনিশ্চয়তার মুখে পড়বে।”
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: পটুয়াখালা, গলাচিপা উপজেলা, চরকাজল ইউনিয়ন, পশ্চিম চর কাজল
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আবু জাফর হাওলাদার, মো জাফর সিকদার, রাশিদা বেগম (ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক), মো রিয়াজ হাওলাদার, মো: রিকোজ আহম্মেদ (ইউপি সদস্য)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১০৫ শিক্ষার্থী, ১০০ মিটার দূরত্ব, ১৮৩ নং ইউনিয়ন, ৬টি শ্রেণি, ৪টি খালি শিক্ষক পদ, ৪০ শতাংশ জমি, ৩০ শতাংশ জমি
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!