📌 দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলনের উদ্যোগে তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি গণআন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছে। ২০০৬ সালের মতো আবারো আন্দোলন শুরু হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে
দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলনের উদ্যোগ নেওয়ার বিরুদ্ধে তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে। সংগঠনটি জানিয়েছে, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে ২০০৬ সালের মতো আবারো বৃহত্তর গণআন্দোলন শুরু হতে পারে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ফুলবাড়ীতে উন্মুক্ত কয়লা উত্তোলনের বিরুদ্ধে আজ শনিবার সংবাদ সম্মেলনে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়
- 📌 ৬ দফা ফুলবাড়ী চুক্তি বাস্তবায়ন না হলে কোনো পরিবেশবিরোধী প্রকল্প বাস্তবায়ন করা যাবে না বলে দাবি
- 📌 ২০০৬ সালের আন্দোলনে নিহত তরিকুল সালেকিন, সালেকিন ও আমিনের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আন্দোলনকারীরা সতর্কতা প্রকাশ
- 📌 ৩ দফা দাবি তুলে ধরা হয়: ৬ দফা চুক্তি বাস্তবায়ন, উন্মুক্ত উত্তোলন বাতিল, জিসিএম রিসোর্সেসের বিতাড়ন
- 📌 ফুলবাড়ী প্রকল্পের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহারের দাবিও জানানো হয়
📰 বিস্তারিত
দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলনের উদ্যোগ নেওয়ার প্রতিবাদে আজ শনিবার বেলা ১১টায় ফুলবাড়ী নিমতলা মোড়ে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির ফুলবাড়ী শাখা এই সম্মেলন আয়োজন করে। সংগঠনটির আহ্বায়ক সৈয়দ সাইফুল ইসলাম জুয়েল লিখিত বক্তব্যে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া বক্তব্যের প্রতিবাদে এই হুঁশিয়ারি দেওয়া হচ্ছে।
২০০৬ সালের আন্দোলনে তরিকুল সালেকিন, সালেকিন ও আমিন নিহত হওয়ার পর সরকারের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের ৬ দফা চুক্তি হয়েছিল। তবে সেই চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন হয়নি। জুয়েল বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের অজুহাতে বহুজাতিক কোম্পানি জিসিএম রিসোর্সেসের পুরোনো প্রকল্প পুনরুজ্জীবিত করার চেষ্টা চলছে।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, বিভিন্ন সময়ে গঠিত বিশেষজ্ঞ ও তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে ফুলবাড়ীর ভূতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর, কৃষিজমি ও পরিবেশের ওপর উন্মুক্ত খনির সম্ভাব্য ক্ষতির বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। বিশেষ করে ২০০৬ সালে অধ্যাপক নুরুল ইসলাম কমিটির, ২০০৭-২০০৮ সালে পাটোয়ারী কমিটির রিপোর্ট ও ২০১১-২০১২ সালে মোশাররফ কমিটির রিপোর্টে এই বিষয়টি উঠে এসেছে।
আন্দোলনকারীরা তিন দফা দাবি তুলে ধরেন। এগুলো হলো: ৬ দফা ফুলবাড়ী চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন, উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলনের সব পরিকল্পনা বাতিল এবং জিসিএম রিসোর্সেসকে ফুলবাড়ী প্রকল্প থেকে স্থায়ীভাবে বিতাড়ন। একই সঙ্গে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহারের দাবিও জানানো হয়।
সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনটির ফুলবাড়ী শাখার সদস্যাবলী। তাদের মধ্যে রয়েছেন আব্দুল মজিদ চৌধুরী, হামিদুল হক, এসএম নুরুজ্জামান জামান, আব্দুল কাইয়ুম, সঞ্জিত প্রসাদ জিতু, আব্দুল মোত্তালিব পাপ্পু ও মাহমুদ হাসান বাবু।
"ফুলবাড়ীতে উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলন প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য আমরা তীব্রভাবে প্রতিবাদ জানাচ্ছি। ২০০৬ সালের আন্দোলনে নিহতদের স্মৃতি মর্যাদা রাখতে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা যাবে না।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ফুলবাড়ী নিমতলা মোড়, দিনাজপুর
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: সৈয়দ সাইফুল ইসলাম জুয়েল (আহ্বায়ক), তরিকুল সালেকিন, সালেকিন, আমিন (২০০৬ সালের আন্দোলনে নিহত)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৬ দফা চুক্তি, ১১:০০ টা (সম্মেলন সময়), ২৫ বছর আগের ঘটনা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!