📌 পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেছেন, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার বহুমুখী জ্বালানি উৎসের খাতে উদ্যোগ নিচ্ছে। আফ্রিকা, সৌরবিদ্যুৎ, বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও এলএনজি আমদানির বহুমুখীকরণের কথা তুলে ধরেছেন তিনি। জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশনে বাংলাদেশের সম্ভাবনা তুলে ধরার লক্ষ্যে সরকারের পরিকল্পনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানান
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাজধানীতে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের ব্র্যান্ডিং নিয়ে অনুষ্ঠিত একটি অনুষ্ঠানে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ ও খাতের বহুমুখীকরণের উদ্যোগের কথা ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, একমাত্র উৎসের উপর নির্ভরশীলতা অর্থনৈতিক সংকটে বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করতে পারে। এ কারণে সরকার জ্বালানি খাতে বহুমুখীকরণের পথে অগ্রসর হচ্ছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **জ্বালানি বহুমুখীকরণের উদ্যোগ**: সরকার আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের সঙ্গে জ্বালানি উৎসের আলোচনা করছে এবং সৌরবিদ্যুৎ, বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন, এলএনজি ও ব্লু ইকোনমির সম্ভাবনা অনুসন্ধান করছে।
- 📌 **সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার**: প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ভবন সম্পূর্ণ সৌরবিদ্যুতের আওতায় আনা হয়েছে; সরকারি দফতর ও স্থাপনাগুলোতে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
- 📌 **বর্জ্য থেকে জ্বালানি**: চীন ও জাপানের সঙ্গে বর্জ্য থেকে জ্বালানি উৎপাদনের আলোচনা চলছে।
- 📌 **এলএনজি আমদানির বহুমুখীকরণ**: সরকার একাধিক উৎস থেকে এলএনজি আমদানি নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে।
- 📌 **অর্থনৈতিক কূটনীতি**: বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি ও বিনিয়োগকারীদের হয়রানি কমাতে ‘ওয়ান স্টপ সার্ভিস’ ব্যবস্থার আদলে নতুন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
- 📌 **জাতিসংঘ অধিবেশনে বাংলাদেশের সম্ভাবনা**: ৮১তম অধিবেশনে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রগতি, অর্থনৈতিক সম্ভাবনা ও রোহিঙ্গা সংকটের বিষয় তুলে ধরার লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে।
📰 বিস্তারিত
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেন, “একটি নির্দিষ্ট উৎসের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতার কারণে যুদ্ধ বা বৈশ্বিক সংকটের সময় অর্থনীতিতে বড় ধরনের চাপ তৈরি হতে পারে। এ কারণে জ্বালানি খাতে বহুমুখীকরণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।” তিনি উল্লেখ করেন, আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের সঙ্গে জ্বালানি উৎস নিয়ে সরকার কাজ করছে। একই সঙ্গে সৌরবিদ্যুৎ, বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন, এলএনজির নতুন উৎস এবং ব্লু ইকোনমির সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ভবনকে শতভাগ সৌরবিদ্যুতের আওতায় আনা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য সরকারি দফতর ও স্থাপনায় সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। বর্জ্য থেকে জ্বালানি উৎপাদনের উদ্যোগের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, চীন ও জাপানসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে আলোচনা চলছে। পাশাপাশি এলএনজি আমদানির ক্ষেত্রেও একাধিক উৎস নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে সরকার।
শামা ওবায়েদ বলেন, “অর্থনৈতিক কূটনীতি বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি করতে সরকার কাজ করছে। বিনিয়োগকারীদের হয়রানি কমাতে ‘ওয়ান স্টপ সার্ভিস’ ব্যবস্থার আদলে নতুন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং ডিজিটাল সেবার পরিধিও বাড়ানো হচ্ছে।” তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশকে শুধু সংকটের দেশ হিসেবে দেখানো না বরং গণতান্ত্রিক অগ্রগতি, অর্থনৈতিক সম্ভাবনা ও সংস্কৃতিকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে তুলে ধরতে চায় সরকার।
আসন্ন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে বাংলাদেশের জন্য একটি বড় সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। এ অধিবেশনে উন্নয়নের অধিকার, জলবায়ু পরিবর্তন, মহামারি প্রতিরোধ, পারমাণবিক নিয়ন্ত্রণসহ গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে। রোহিঙ্গা সংকটের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরবে বাংলাদেশ।
"পরিবর্তন একদিনে সম্ভব নয়। তবে সরকার বিভিন্ন খাতে গুণগত পরিবর্তন আনার লক্ষ্যে কাজ শুরু করেছে এবং বাংলাদেশকে একটি আত্মবিশ্বাসী, দায়িত্বশীল ও সম্ভাবনাময় দেশ হিসেবে বিশ্বের সামনে তুলে ধরতে চায়।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: রাজধানী, বাংলাদেশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫ সেপ্টেম্বর, ৮১তম অধিবেশন
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!