📅 ১৯ আগস্ট ২০২৬, ৯:০৯ পূর্বাহ্ণ এআই প্রযুক্তিতে যাচাই করা সর্বশেষ সঠিক বাংলা সংবাদ।
⚡ শেষ মুহূর্ত

রকিবুল হাসানের জীবনের গল্প: ক্রিকেট থেকে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণ

রকিবুল হাসানের জীবনের গল্প: ক্রিকেট থেকে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণ

📷 ছবি: প্রথম আলো

📡 নিউজ সোর্সগুলি:
🔗 প্রথম আলো ↗ ⚠ একক সোর্স
ℹ️ এই প্রতিবেদনটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) দ্বারা একাধিক সংবাদমাধ্যমের তথ্যের ভিত্তিতে পুনর্লিখিত। মূল নিউজ সোর্সগুলি নিচে উল্লেখ করা হয়েছে।

📌 বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম পুরোধা রকিবুল হাসান তাঁর জীবনের গল্প শোনালেন প্রথম আলোর বিশেষ আয়োজনে। শৈশব থেকে ক্রিকেটে পদচারণা, পাকিস্তান দলের হয়ে খেলার অভিজ্ঞতা, মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ এবং ক্রিকেটের প্রতি ভালোবাসা নিয়ে তিনি তুলে ধরেন নিজের জীবনের নানা স্মৃতি

বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম পুরোধা ব্যক্তিত্ব রকিবুল হাসান তাঁর জীবনের গল্প তুলে ধরেছেন প্রথম আলোর বিশেষ আয়োজন ‘ক্রাউন সিমেন্ট অভিজ্ঞতার আলোয়’ অনুষ্ঠানে। তাঁর জীবনের প্রতিটি অধ্যায় যেন বাংলাদেশের ক্রিকেট ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।

🔴 মূল পয়েন্ট

  • 📌 ১৯৬৯ সালে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অভিষেকের সময় রকিবুল হাসানের বয়স ছিল মাত্র ১৬ বছর
  • 📌 ইস্ট পাকিস্তান দলের দ্বাদশ খেলোয়াড় হিসেবে নির্বাচিত হন তিনি, যেখানে তাঁর বাবা তাঁকে উৎসাহিত করেন
  • 📌 ক্রিকেট জীবনের শুরুতে মাত্র একটি প্যান্ট থাকায় পায়জামা পরে প্র্যাকটিস করেছেন রকিবুল
  • 📌 ১৯৭১ সালে কমনওয়েলথ একাদশের বিপক্ষে ম্যাচে ব্যাটে ‘জয় বাংলা’ স্টিকার লাগিয়ে মাঠে নামেন তিনি
  • 📌 মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি সেনাদের হাতে শহীদ হন তাঁর ক্রিকেট জীবনের গুরু মুশতাক
  • 📌 স্বাধীন বাংলা ক্রিকেট দল গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন রকিবুল হাসান

📰 বিস্তারিত

রকিবুল হাসান তাঁর জীবনের বিভিন্ন সময়ের স্মৃতিচারণ করেছেন প্রথম আলোর বিশেষ আয়োজনে। তিনি বলেন, ১৯৬৯ সালে যখন তিনি প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট খেলতে নামেন, তখন তাঁর বয়স ছিল মাত্র ১৬ বছর। সেন্ট গ্রেগরী স্কুলের দশম শ্রেণির ছাত্র থাকাকালীন ইস্ট পাকিস্তান দলের ওপেনার হওয়ার জন্য চারজন প্রতিদ্বন্দ্বীর মধ্যে তিনি ছিলেন অন্যতম। তাঁর নিজেরই বিশ্বাস ছিল না যে তিনি দলের জায়গা পাবেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সুযোগ আসে। তিনি বলেন, ‘এমনও গেছে, আমার একটা প্যান্ট ছিল। প্যান্ট না থাকলে পায়জামা পরে প্র্যাকটিস করেছি।’

তিনি আরও উল্লেখ করেন, করাচিতে ম্যাচ খেলতে যাওয়ার সময় তাঁর সামনে ছিল ম্যাট্রিক পরীক্ষা। তাঁর বাবা তাঁকে জড়িয়ে ধরে বলেছিলেন, ‘আই অ্যাম সো প্রাউড অব ইউ।’ তাঁর বাবা ছিলেন পুলিশ সুপার, কিন্তু সংসার ছিল অত্যন্ত সাদামাটা। রকিবুল হাসান বলেন, তাঁর বাবা তাঁকে ৩০০ রুপি দিয়ে বলেছিলেন, ‘যাও বাবা, ভালো খেলো।’

রকিবুল হাসান তাঁর স্কুল জীবনের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে শহীদ আজাদ, শহীদ জুয়েল ও কাজী কামালদের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, সেন্ট গ্রেগরী স্কুলের সেই প্রজন্মের অনেকেই মুক্তিযুদ্ধে জীবন দিয়েছেন। তাঁর মা শহীদ আজাদের মায়ের সেই হৃদয়বিদারক কাহিনি তাঁকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছিল। শহীদ আজাদের মা তাঁর ছেলেকে শেষবার বলেছিলেন, ‘মা, ভাত আনো।’ কিন্তু তাঁর মা ফিরে এসে আর ছেলেকে পাননি। সেই ঘটনার পর তিনি আর ভাত খাননি।

তিনি শহীদ জুয়েলের কথা বলতে গিয়ে তাঁর কণ্ঠ ভারী হয়ে আসে। তিনি বলেন, করাচিতে ম্যাচের দল ঘোষণা হওয়ার সময় সবাই ধরে নিয়েছিল যে তিনিই দ্বাদশ খেলোয়াড় হবেন। কিন্তু শেষ মুহূর্তে দেখা গেল, জুয়েল দ্বাদশ খেলোয়াড় আর তিনি একাদশে। জুয়েল তাঁকে বলেছিলেন, ‘রকিবুল, তুই ব্যাট নিয়ে নেটে যা। তুই তো ওপেন করবি।’ তাঁর মুখে কোনো কষ্ট ছিল না, উল্টো তিনি তাঁকে প্রস্তুত করে দিয়েছিলেন।

১৯৭১ সালে কমনওয়েলথ একাদশের বিপক্ষে ম্যাচে পাকিস্তান দলের হয়ে খেলতে নেমে রকিবুল হাসান তাঁর ব্যাটে ‘জয় বাংলা’ স্টিকার লাগিয়ে মাঠে নামেন। তিনি বলেন, ‘আমি ভেবেছিলাম, একটা কিছু করতে হবে। অলিম্পিকের ব্ল্যাক পাওয়ার আন্দোলনের ছবিটা মাথায় ছিল। তাই ব্যাটে “জয় বাংলা” লাগালাম।’ এর জন্য তাঁকে পরবর্তীতে চড়া মূল্য দিতে হয়েছিল। ২৫ মার্চের পর পাকিস্তানি সেনাদের ‘শুট অ্যাট সাইট’ তালিকায় তাঁর নাম উঠে যায়। তিনি বলেন, এক পাকিস্তানি সেনা কর্মকর্তা গোপনে তাঁকে সতর্ক করেছিলেন, ‘ঢাকা ছেড়ে চলে যাও, না হলে তোমাকে মেরে ফেলা হবে।’ এরপর তিনি ঢাকা ছেড়ে গ্রামে যান এবং পরবর্তীতে মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেন।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, স্বাধীন বাংলা ক্রিকেট দল গঠনের উদ্যোগেও তিনি যুক্ত ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের আরেকটি স্মৃতি বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি নিজেকে সামলাতে পারেননি। তিনি বলেন, আজাদ বয়েজ ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা মুশতাককে পাকিস্তানি সেনারা হত্যা করে। তাঁর মরদেহ নিজের চোখে দেখেছিলেন রকিবুল। তিনি বলেন, ‘আমি মা–বাবার মৃত্যুতেও কাঁদিনি। কিন্তু মুশতাককে যেভাবে পড়ে থাকতে দেখলাম, নিজেকে আর ধরে রাখতে পারিনি। উনি ছিলেন আমার ক্রিকেট–জীবনের গডফাদার।’

স্বাধীনতার পরে বাংলাদেশে আবার ক্রিকেট শুরু হয়। তিনি বলেন, তখন অনেকেই ক্রিকেটকে ‘বড়লোকের খেলা’ বলে বন্ধ করে দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর হস্তক্ষেপে বাংলাদেশ ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ড গঠিত হয় এবং ক্রিকেট আবার শুরু হয়। তিনি আজকের বাংলাদেশ ক্রিকেট নিয়ে গর্বিত হলেও কিছু আক্ষেপও প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘আজ সাকিব আল হাসান হয়েছে, তামিম ইকবাল হয়েছে।’

“রকিবুল, তুই ব্যাট নিয়ে নেটে যা। তুই তো ওপেন করবি।”

📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ

  • 📍 স্থান: ঢাকা, বাংলাদেশ
  • 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: রকিবুল হাসান
  • 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৬ বছর, ৩০০ রুপি, ২৫ মার্চ

📡 মূল নিউজ সোর্সসমূহ

এই প্রতিবেদনটি নিচের সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্যের ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হয়েছে। মূল সংবাদ পড়তে নিচের লিংকে ক্লিক করুন:

📤 শেয়ার করুন: 📘 Facebook 💬 WhatsApp 𝕏 Twitter 💼 LinkedIn ✈️ Telegram

💬 মন্তব্য (0)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!

মন্তব্য অনুমোদনের পর প্রকাশ করা হবে। ইমেইল প্রকাশিত হবে না।
🤖