📌 রাঙামাটির কোচ সুইহলামং মারমা ব্যাংক ঋণ নিয়ে ২০১৮ সালে ১৪ জন কিশোরীকে নিয়ে ফুটবল একাডেমি প্রতিষ্ঠা করেন। বর্তমানে ৪২ জন কিশোরী প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন এবং আটজন জাতীয় দলের খেলোয়াড় হিসেবে উঠে এসেছেন
পার্বত্য চট্টগ্রামের রাঙামাটি থেকে শুরু করে বান্দরবান ও খাগড়াছড়ির প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে আসা কিশোরীদের স্বপ্ন পূরণের জন্য ঋণ নিয়ে গড়ে তোলা হয়েছে একটি ফুটবল একাডেমি। কোচ সুইহলামং মারমা (৫১) ২০১৮ সালে মাত্র ১৪ জন কিশোরীকে নিয়ে এই একাডেমির যাত্রা শুরু করেন। বর্তমানে এখানে প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন ৪২ জন কিশোরী। তাদের মধ্যে আটজন ইতিমধ্যে বিভিন্ন বয়সভিত্তিক জাতীয় দলের খেলোয়াড় হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ৪২ জন কিশোরী বর্তমানে প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন সুইহলামং মারমার একাডেমিতে, যাদের মধ্যে আটজন জাতীয় দলের খেলোয়াড় হিসেবে খেলছেন
- 📌 ২০১৮ সালে ব্যাংক থেকে ৪ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে প্রতিষ্ঠিত এই একাডেমি থেকে ৫০ জন আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীতে চাকরি পেয়েছেন
- 📌 রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি থেকে আসা কিশোরীদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন কোচ সুইহলামং, যিনি ২০০৫ সাল থেকে বাংলাদেশ আনসার ফুটবল দলের কোচ
- 📌 ৬ জন খেলোয়াড় বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে (বিকেএসপি) ভর্তি হয়েছে এবং ১৩ জন আনসার ফেন্সিং ও জুডো দলের সদস্য
📰 বিস্তারিত
রাঙামাটির কাউখালী উপজেলা পরিষদ মাঠে সকালের সূর্যোদয়েই ফুটবল অনুশীলনের দৃশ্য দেখা যায়। কেউ বল নিয়ে ছুটছে, কেউ সতীর্থকে পাস দিচ্ছে। মাঠের এক পাশে দাঁড়িয়ে বাঁশি হাতে নির্দেশনা দিচ্ছেন কোচ সুইহলামং মারমা। তিনি বলেন, “প্রতিদিন দু’বেলা অনুশীলন করে থাকেন আমার কিশোরীরা। তাদের স্বপ্ন হলো জাতীয় দলের হয়ে খেলা।”
সুইহলামং মারমা ২০০৫ সাল থেকে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ফুটবল দলের কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। দীর্ঘদিন কোচের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে পার্বত্য অঞ্চলের কিশোরীদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার ইচ্ছা তৈরি হয় তাঁর। তিনি ব্যাংক থেকে চার লাখ টাকা ঋণ নিয়ে ২০১৮ সালে ১৪ জন কিশোরীকে নিয়ে এই একাডেমি প্রতিষ্ঠা করেন। বর্তমানে এখানে প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন ৪২ জন কিশোরী, যারা রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ির প্রত্যন্ত এলাকা থেকে এসেছেন।
একাডেমি থেকে প্রশিক্ষণ নেওয়া কিশোরীদের মধ্যে আটজন ইতিমধ্যে জাতীয় দলের বিভিন্ন বয়সভিত্তিক পর্যায়ে খেলার সুযোগ পেয়েছেন। এছাড়া, ৫০ জন আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীতে চাকরি পেয়েছেন, ৬ জন বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি হয়েছে এবং ১৩ জন আনসার ফেন্সিং ও জুডো দলের সদস্য।
সুইহলামং মারমা বলেন, “যদি সরকারি ও বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় এই একাডেমির সুবিধা আরও বড় পরিসরে বাড়ানো যায়, তবে আগামী দিনের বহু ঋতুপর্ণা, মনিকা ও রূপনা এই একাডেমি থেকে উঠে আসবেন।” তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান জাতীয় নারী ফুটবল দলের খেলোয়াড় ঋতুপর্ণা চাকমা, মনিকা চাকমা, রূপনা চাকমা, আনাই মোগিনী ও আনুচিং মোগিনীর প্রশিক্ষণের সঙ্গেও তিনি যুক্ত ছিলেন।
"আমাদের বান্দরবান থেকে এর আগে এভাবে কেউ মূলধারার খেলায় সুযোগ পায়নি। পাহাড়ি গ্রাম থেকে এসে সুইহলামং স্যারের কাছে কঠোর অনুশীলন করেছি। স্যারের সঠিক দিকনির্দেশনায় আমি বাংলাদেশ আনসার একাডেমির ফেন্সিং টিমে খেলার সুযোগ পেয়েছি। তবে আমার মূল লক্ষ্য ও স্বপ্ন—একদিন ঋতুপর্ণা আপুদের মতো দেশের জার্সিতে জাতীয় দলের হয়ে মাঠে নামব।"
বান্দরবানের রোয়াংছড়ি উপজেলা থেকে আসা আনিষা তঞ্চঙ্গ্যা বলেন, “এখানে স্যারের অধীনে আমাদের নিয়মিত খুব কঠোর অনুশীলন করতে হয়। কোনো ছাড় নেই। কিন্তু আমি এখানকার প্রশিক্ষণকে আমার জীবনের সেরা অভিজ্ঞতা বলছি।”
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: রাঙামাটি, কাউখালী উপজেলা পরিষদ মাঠ
- 👥 মুখ্য ব্যক্তি: কোচ সুইহলামং মারমা (৫১), আনিষা তঞ্চঙ্গ্যা, ঋতুপর্ণা চাকমা, মনিকা চাকমা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৪২ জন প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন, ৮ জন জাতীয় দলের খেলোয়াড়, ৫০ জন আনসার চাকরি পেয়েছেন
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!