📌 গবেষণা দেখাচ্ছে যে ভিটামিন সি প্রতিদিন নিয়মিত খেলে সাধারণ সর্দি প্রতিরোধে প্রায় কোনো ভূমিকা রাখে না, তবে শারীরিক পরিশ্রমকারী ও চরম ঠান্ডায় থাকা মানুষের ক্ষেত্রে এর সুরক্ষা ঝুঁকি অর্ধেকে নামিয়ে আনতে পারে
নোবেলজয়ী বিজ্ঞানী ড. লিনাস পলিং এর দাবি ছিল বেশি করে ভিটামিন সি খেলেই ঠান্ডা-সর্দি ঠেকানো যায়, কিন্তু বর্তমান গবেষণা এই প্রচলিত ধারণাকে সম্পূর্ণভাবে খণ্ডন করছে। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী প্রতিষ্ঠান বেথ ইসরায়েল মেডিকেল সেন্টারের পুষ্টি বিভাগের প্রধান ড. ব্রুস বিস্ট্রিয়ান স্পষ্টভাবে বলছেন যে সাধারণ সর্দি-কাশির ক্ষেত্রে ভিটামিন সি আসলে সামান্যই কাজে আসে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ২৯টি গবেষণায় ১১ হাজারেরও বেশি মানুষের ওপর পরীক্ষা করে দেখা হয়েছে যে প্রতিদিন কমপক্ষে ২০০ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি খেলেই সর্দি-কাশি আটকানো যায় না।
- 📌 নিয়মিত ভিটামিন সি গ্রহণ করলে সাধারণ মানুষের সর্দি প্রতিরোধে পরিসংখ্যানগত দিক থেকে প্রায় কোনো ভূমিকা নেই বলে গবেষণায় দেখা গেছে।
- 📌 তবে নিয়মিত ভিটামিন সি খেলে সর্দির স্থায়িত্ব কিছুটা কমতে পারে এবং ম্যারাথন দৌড়বিদ, স্কি খেলোয়াড় ও তীব্র বরফ অঞ্চলে থাকা সৈনিকদের জন্য সর্দি হওয়ার ঝুঁকি প্রায় অর্ধেকে নেমে আসে।
- 📌 সর্দি হওয়ার পর ভিটামিন সি খাওয়া শুরু করলে তার স্থায়িত্ব বা তীব্রতা কমে যাওয়ারও কোনো ধারাবাহিক প্রভাব পাওয়া যায়নি, যেটি তিন হাজারেরও বেশি সর্দির ঘটনা পরীক্ষা করে নিশ্চিত করা হয়েছে।
📰 বিস্তারিত
ভিটামিন সি বা অ্যাসকরবিক অ্যাসিড আমাদের শরীরের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি পুষ্টি উপাদান যা শরীর নিজে তৈরি করতে পারে না এবং খাদ্যের মাধ্যমে গ্রহণ করতে হয়। এটি কোলাজেন, এল-কার্নিটিন ও বিভিন্ন নিউরোট্রান্সমিটার তৈরিতে, প্রোটিনের বিপাকে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এছাড়া এটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে এবং উদ্ভিদজাত খাবারে থাকা আয়রন শরীরে শোষণে সহায়তা করে।
হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুল এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের গবেষণা এখন স্পষ্টভাবে দেখাচ্ছে যে প্রতিদিন নিয়মিত ভিটামিন সি গ্রহণ এবং সর্দির উপসর্গ শুরু হওয়ার পর ভিটামিন সি গ্রহণ—এই দুই বিষয়ের প্রভাব একেবারেই আলাদা। প্রতিদিন অন্তত ২০০ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি খাওয়া ব্যক্তিদের সঙ্গে ভিটামিন সি না থাকা বড়ি গ্রহণকারীদের ফলাফল তুলনা করে গবেষকেরা এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন।
শারীরিক পরিশ্রম করা বা প্রচণ্ড ঠান্ডায় থাকা মানুষদের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। ম্যারাথন দৌড়বিদ, পাহাড়ে স্কি করা খেলোয়াড় এবং তীব্র বরফ অঞ্চলে থাকা সৈনিকদের ওপর চালানো গবেষণায় দেখা গেছে যে নিয়মিত ভিটামিন সি খেলে তাঁদের সর্দি হওয়ার ঝুঁকি প্রায় অর্ধেকে নেমে আসে।
"গবেষণা বলছে, সাধারণ সর্দি-কাশির ক্ষেত্রে ভিটামিন সি আসলে সামান্যই কাজে আসে।"
যুক্তরাষ্ট্রের জনস হপকিন্স মেডিসিনের গবেষণায় সর্দি-কাশির উপসর্গ কমাতে পর্যাপ্ত বিশ্রাম, বেশি বেশি তরল গ্রহণ, মধু এবং বাতাসে আর্দ্রতা বাড়ানোর মতো কিছু উপায় কার্যকর বলে উল্লেখ করা হয়েছে। গরম লবণ পানিতে গার্গল করা গলাব্যথা ও ফোলাভাব কমাতে সাহায্য করে এবং হিউমিডিফায়ার ব্যবহার করে ঘরের বাতাসে আর্দ্রতা রাখা নাক ও গলার শুষ্কতা কমাতে উপকারী হয়।
গবেষণা প্রতিবেদনে শরীরের রোগ প্রতিরোধব্যবস্থাকে পুনরুদ্ধারে বিশ্রাম ও ঘুমের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে এবং সর্দির সময় কয়েক দিন ভারী ব্যায়াম থেকে বিরতি নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। নাক বন্ধভাব কমানোর ওষুধ, অ্যান্টিহিস্টামিন এবং ব্যথা বা জ্বর কমানোর কিছু ওষুধ সর্দির নির্দিষ্ট উপসর্গ কমাতে পারে, তবে শিশুদের ক্ষেত্রে এসব ওষুধ ব্যবহারে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়, যুক্তরাষ্ট্রের জনস হপকিন্স মেডিসিন, মায়ো ক্লিনিক, ইসরায়েলের বেথ ইসরায়েল মেডিকেল সেন্টার
- 👥 গবেষণার প্রধান ব্যক্তিত্ব: ড. ব্রুস বিস্ট্রিয়ান (পুষ্টি বিভাগের প্রধান), নোবেলজয়ী বিজ্ঞানী ড. লিনাস পলিং
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৯টি গবেষণা, ১১ হাজারের বেশি মানুষ, ২০০ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি প্রতিদিন, ৩ হাজারের বেশি সর্দির ঘটনা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!