📌 এগ ফ্রিজিং বা ডিম্বাণু সংরক্ষণ একটি অত্যাধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতি যেখানে নারীর নিষিক্ত না হওয়া ডিম্বাণু অত্যন্ত নিম্ন তাপমাত্রায় দীর্ঘ সময় সংরক্ষণ করা হয় এবং ভবিষ্যতে গর্ভধারণের জন্য ব্যবহার করা যায়। এই সেবা এখন বাংলাদেশেও পাওয়া যাচ্ছে
এগ ফ্রিজিং বা ওসাইট ক্রায়োপ্রিজারভেশন হলো একটি আধুনিক প্রজনন প্রযুক্তি যেখানে নারীর ডিম্বাশয় থেকে অপরিণত ডিম্বাণু সংগ্রহ করে অত্যন্ত কম তাপমাত্রায় দীর্ঘমেয়াদে সংরক্ষণ করা হয়। পরবর্তীকালে যখন সন্তান নিতে ইচ্ছা করে তখন সংরক্ষিত ডিম্বাণু ব্যবহার করে গর্ভধারণের চেষ্টা করা যায়। বিশ্বজুড়ে এই পদ্ধতির জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং বাংলাদেশে কয়েক বছর ধরে এই সেবা প্রদান করা হচ্ছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 নারীরা প্রধানত তিনটি কারণে এগ ফ্রিজিং করেন: বয়স বৃদ্ধির সাথে প্রজনন ক্ষমতা হ্রাসের সম্ভাবনা, ক্যান্সার চিকিৎসার সময় ডিম্বাশয়ের ক্ষতি, এবং শিক্ষা বা ক্যারিয়ারের কারণে সন্তান নেওয়া পিছিয়ে দেওয়া।
- 📌 একজন মেয়ে ১০ থেকে ২০ লাখ ডিম্বাণু নিয়ে জন্মগ্রহণ করে, যা ৩৭ বছর বয়সে প্রায় ২৫ হাজারে এবং ৫১ বছর বয়সে প্রায় এক হাজারে নেমে আসে।
- 📌 ডিম্বাণু সংগ্রহের পর ভিট্রিফিকেশন পদ্ধতিতে দ্রুত হিমায়িত করা হয় এবং তরল নাইট্রোজনে প্রায় মাইনাস ১৯৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করা হয়।
- 📌 হিমায়িত অবস্থা থেকে বের করার পর প্রতি ১০টি ডিম্বাণুর মধ্যে আট থেকে নয়টি টিকে থাকার আশা করা যায়।
📰 বিস্তারিত
নারীদের প্রজনন ক্ষমতা বয়সের সাথে হ্রাস পায় কারণ বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ডিম্বাণুর সংখ্যা ও গুণগত মান উভয়ই কমতে থাকে। এই কারণে অনেক নারী তুলনামূলক কম বয়সে, যখন ডিম্বাণুর মান ভালো থাকে, তখনই ডিম্বাণু সংরক্ষণ করে রাখেন যাতে পরবর্তীতে গর্ভধারণের সম্ভাবনা বজায় থাকে।
চিকিৎসাজনিত কারণও এগ ফ্রিজিংয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ। বাংলাদেশের শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের রিপ্রোডাক্টিভ এন্ডোক্রাইনোলজি অ্যান্ড ইনফার্টিলিটি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. মেহনাজ মুশতারী সুমি বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, কেমোথেরাপি বা রেডিওথেরাপি নেওয়ার আগে অনেকে ডিম্বাণু সংরক্ষণ করেন কারণ এই চিকিৎসাগুলো ডিম্বাশয়ের কার্যক্ষমতায় প্রভাব ফেলতে পারে।
এগ ফ্রিজিংয়ের প্রক্রিয়া শুরু হয় নারীর ডিম্বাশয়ের অবস্থা পরীক্ষার মাধ্যমে এবং হরমোন থেরাপি প্রদান করে যাতে বেশি ডিম্বাণু তৈরি ও পরিপক্বতা আসে। ডিম্বাণু প্রস্তুত হলে অ্যানেসথেশিয়ার মাধ্যমে নারীকে অচেতন করে আল্ট্রাসাউন্ডের সাহায্যে যোনিপথ দিয়ে একটি সরু সূচ প্রবেশ করিয়ে ডিম্বাশয় থেকে ডিম্বাণু সংগ্রহ করা হয়।
"কেমোতে যাওয়া মানেই নারীর ওভারি অনেকখানি ড্যামেজ হয়ে যাবে। তাই, যারা বোঝে তাদের অনেকেই এগ ফ্রিজ করে রাখে,"
সংগ্রহীত ডিম্বাণুগুলো ভিট্রিফিকেশন পদ্ধতিতে অত্যন্ত দ্রুত হিমায়িত করা হয় এবং পরে তরল নাইট্রোজনে প্রায় মাইনাস ১৯৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় দীর্ঘমেয়াদে সংরক্ষণ করা হয়। যখন কোনো নারী সন্তান নিতে চান তখন ডিম্বাণুগুলো এই হিমায়িত অবস্থা থেকে বের করে আনা হয় এবং যেগুলো সুস্থ থাকে সেগুলোতে শুক্রাণু প্রবেশ করিয়ে নিষিক্ত করা হয়।
শহর ও গ্রামের নারীদের জন্য এটিকে 'সোশ্যাল এগ ফ্রিজিং' বলা হয় যখন তারা শিক্ষা বা ক্যারিয়ারের কারণে বা উপযুক্ত সঙ্গীর অপেক্ষায় সন্তান নেওয়ার সিদ্ধান্ত পিছিয়ে দেন। এই ক্ষেত্রে বয়স বৃদ্ধির সাথে প্রজনন ক্ষমতা হ্রাসের বিষয় বিবেচনা করে তারা আগে থেকেই ডিম্বাণু সংরক্ষণ করে রাখতে পারেন।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বাংলাদেশ, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ডা. মেহনাজ মুশতারী সুমি (সহকারী অধ্যাপক, রিপ্রোডাক্টিভ এন্ডোক্রাইনোলজি অ্যান্ড ইনফার্টিলিটি বিভাগ)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: জন্মের সময় ১০-২০ লাখ ডিম্বাণু; ৩৭ বছর বয়সে ২৫ হাজার; ৫১ বছর বয়সে এক হাজার; সংরক্ষণ তাপমাত্রা মাইনাস ১৯৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস; পুনরুদ্ধার হার প্রতি ১০টিতে ৮-৯টি
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!