📌 মেঝেতে পড়া খাবার ৫ সেকেন্ডের মধ্যে তুলে খাওয়ার নিয়মের পেছনে বৈজ্ঞানিক প্রমাণ কি আছে? যুক্তরাষ্ট্রের বিজ্ঞানবিষয়ক সংস্থা গিলসন সায়েন্সেসের পরিচালক এরিন থেনের মতে, এই নিয়ম ভুয়া হলেও খাবারের ধরন ও মেঝের অবস্থা ঝুঁকিকে নির্ধারণ করে
মেঝেতে পড়া খাবার ৫ সেকেন্ডের মধ্যে তুলে খাওয়ার নিয়মের বৈজ্ঞানিক সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিজ্ঞানবিষয়ক সংস্থা ‘গিলসন সায়েন্সেস’-এর পরিচালক এরিন থেনের মতে, এই নিয়মের পেছনে কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। তবে খাবার পড়ার অবস্থান ও মেঝের অবস্থা ঝুঁকিকে প্রভাবিত করে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ৫ সেকেন্ডের নিয়ম ভুয়া — যুক্তরাষ্ট্রের বিজ্ঞানবিষয়ক সংস্থা ‘গিলসন সায়েন্সেস’-এর পরিচালক এরিন থেনের মতে, এই নিয়মের কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।
- 📌 মেঝের অবস্থা ও খাবারের ধরন নির্ধারণ করে ঝুঁকি — কার্পেটের তুলনায় মসৃণ মেঝে থেকে খাবারে জীবাণু দ্রুত ছড়ায়। ভেজা বা আঠালো খাবারে জীবাণু দ্রুত আটকে যায়।
- 📌 বাড়ির মেঝেও বাইরের জীবাণু ছড়ায় — জুতো, ব্যাগ ও জামাকাপড়ের মাধ্যমে বাড়ির মেঝেতেও ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক ও ইস্ট ছড়াতে পারে।
- 📌 বিজ্ঞানীর পরামর্শ: মেঝেতে পড়া খাবার খাওয়া এড়ানো — এরিন থেন পরামর্শ দেন, ভেজা বা আঠালো খাবার মেঝেতে পড়লে তা খাওয়া উচিত নয়। সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ হলো মেঝেতে পড়া খাবারই না খাওয়া।
📰 বিস্তারিত
অনেকেই মনে করেন, মেঝেতে পড়া খাবার যদি ৫ সেকেন্ডের মধ্যে তুলে ফেলা যায়, তবে তা নিরাপদে খাওয়া যায়। এই ধারণার পেছনে যুক্তি দেওয়া হয় যে, খাবার পড়ার সাথে সাথে জীবাণু, ময়লা বা পোষা প্রাণীর লোম কিছুটা অপ্রস্তুত হয়ে পড়ে এবং তা নোংরা করার জন্য কিছু সেকেন্ড সময় লাগে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের বিজ্ঞানবিষয়ক সংস্থা ‘গিলসন সায়েন্সেস’-এর পরিচালক এরিন থেনের মতে, এই নিয়মের কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।
বিজ্ঞানীরা পরীক্ষা করে দেখেছেন, খাবারের ভেজা ভাব ও মেঝের ধরন এই নিয়মের সত্যতা নির্ধারণ করে। উদাহরণস্বরূপ, সমান পরিমাণ জীবাণু থাকা দুটি মেঝের মধ্যে কার্পেটের তুলনায় মসৃণ মেঝে থেকে খাবারে জীবাণু দ্রুত ছড়ায়। আবার শুকনা খাবারের তুলনায় ভেজা বা আঠালো খাবারে জীবাণু খুব দ্রুত আটকে যায়। যেমন, টাইলস মেঝেতে জ্যাম মাখানো পাউরুটি পড়লে তাতে জীবাণু লাগার ঝুঁকি অনেক বেশি থাকে।
এরিন থেন আরও বলেন, খাবার পড়ার অবস্থানও গুরুত্বপূর্ণ। কি ধরনের জায়গায় পড়েছে খাবার? ড্রয়িংরুমের টাইলসে পড়া খাবার বা বাসস্ট্যান্ডের পাবলিক টয়লেটের সামনে পড়া খাবার — এ দুটিতে ঝুঁকি এক নয়। আবার, খাবারটি কি মুখ থেকে পড়া চুইংগাম বা শুকনা বিস্কুট? এমনকি খাবার খাওয়ার ব্যক্তির স্বাস্থ্য অবস্থাও বিবেচনা করতে হয়। তার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকলে ঝুঁকি আরো বেড়ে যায়।
বিজ্ঞানীর মতে, আমাদের বাড়ির মেঝেও বাইরের জীবাণু সহজেই ছড়িয়ে পড়ে। জুতো, ব্যাগ ও জামাকাপড়ের মাধ্যমে নানা ধরনের ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক বা ইস্ট মেঝেতে ছড়াতে পারে। এগুলো ত্বকের সমস্যা, অন্ত্রের রোগ বা বমির কারণ হতে পারে। তাই মেঝেতে পড়া খাবার ৫ সেকেন্ডের মধ্যে তুলে নেওয়ার নিয়মের পেছনে কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। এরিন থেন পরামর্শ দেন, ভেজা বা আঠালো খাবার মেঝেতে পড়লে তা খাওয়া উচিত নয়। সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ হলো মেঝেতে পড়া খাবারই না খাওয়া।
"পাঁচ সেকেন্ডের নিয়মটি ভুয়া হলেও খাবারটি কোথায় এবং কেমন জায়গায় পড়েছে সে বিষয়টি এখানে সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সব জায়গা যেমন একরকম নোংরা নয়, তেমনি সব খাবারও এক নয়। কিছু খাবার মেঝেতে পড়লে খুব দ্রুত জীবাণু শুষে নেয়, আবার শুকনা খাবারে অত সহজে ময়লা আটকায় না।" — এরিন থেন, গিলসন সায়েন্সেসের পরিচালক
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: যুক্তরাষ্ট্র
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: এরিন থেন (গিলসন সায়েন্সেসের পরিচালক)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫ সেকেন্ড
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!