📌 সিলেটের আসিফ মোক্তাদির হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পেছনে তার সংগ্রামের গল্প শেয়ার করেছেন। তিনি বলেছেন, বাফেলো স্টেট ইউনিভার্সিটিতে প্রথম সেমিস্টারে ২.৬৭ জিপিএ পেলেও পরবর্তীতে তিনবার ডিনস অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন
সিলেটের আসিফ মোক্তাদিরের জীবনের সংগ্রামের গল্প আজকের পডকাস্ট ‘সফল যাঁরা, কেমন তাঁরা’-এ আলোচিত হয়েছে। তিনি বলেছেন, উচ্চমাধ্যমিকের পর শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগে পড়ার পর যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান। সেখানে বাফেলো স্টেট ইউনিভার্সিটিতে প্রথম সেমিস্টারে মাত্র ২.৬৭ জিপিএ পেলেও তিনি পরবর্তীতে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বাস্থ্যনীতি নিয়ে পড়ছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **সিলেটের আসিফ মোক্তাদির** হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পেছনে তার সংগ্রামের গল্প শেয়ার করেছেন।
- 📌 **বাফেলো স্টেট ইউনিভার্সিটিতে প্রথম সেমিস্টারে ২.৬৭ জিপিএ পেলেও** তিনি পরবর্তীতে তিনবার ডিনস অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন।
- 📌 **শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার পর** যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার সময় তিনি হার্ভার্ডে ভর্তি হওয়ার কল্পনা করেননি।
- 📌 **৩৫ ক্রেডিট ট্রান্সফার** করে তিনি চার বছরের জায়গায় তিন বছরে স্নাতক সম্পন্ন করেছেন।
- 📌 **কফি শপে কাজ** করে তিনি নিজের খরচ আর পরিবারকে সাহায্য করেছেন।
📰 বিস্তারিত
আসিফ মোক্তাদির বলেছেন, সিলেটে বেড়ে ওঠা তিনি উচ্চ শিক্ষার স্বপ্নে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান। বাফেলো স্টেট ইউনিভার্সিটিতে প্রথম সেমিস্টারে তাঁর জিপিএ ছিল মাত্র ২.৬৭। তিনি বলেছেন, “দেশে উচ্চমাধ্যমিকের পর শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে তিন সেমিস্টার পড়েছিলাম। আমেরিকায় গিয়ে আবার নতুন করে শুরু করতে হলো, এর জন্য অনেক মনোবল দরকার ছিল।”
তিনি বলেন, প্রথমে তিনি পর্যাপ্ত তথ্যের অভাবের মুখোমুখি হন। দেশের ক্রেডিট কীভাবে ট্রান্সফার হবে, ভর্তিপ্রক্রিয়া কী, টিউশন ফি কীভাবে দেবেন—এসব নিয়ে তিনি দুশ্চিন্তায় ছিলেন। তিনি বলেন, “আমেরিকায় অভিবাসীদের বড় সমস্যা হলো ভাষা। আমরা বাংলায় অভ্যস্ত, তাই ইংরেজিতে পড়াশোনা করা কঠিন হয়ে পড়ে।”
আসিফ মোক্তাদির বলেন, তিনি স্নাতকে সরকারি সহায়তা পেয়েছিলেন, তাই নিজের পকেট থেকে খুব বেশি অর্থ ব্যয় করতে হয়নি। মাস্টার্স ও ডক্টরেটের সময় ঋণ নিয়েছিলেন, যা ধীরে ধীরে শোধ করছেন। তিনি কফি শপে কাজ শুরু করেছিলেন, কিন্তু টিউশন ফি দেওয়ার জন্য নয়, বরং নিজের খরচ আর পরিবারকে কিছুটা সাহায্য করার জন্য। তিনি বলেন, “আমেরিকায় অধ্যাপকের সন্তানও রেস্টুরেন্ট বা রিটেইল স্টোরে কাজ করেন। আমার ইউনিভার্সিটির অ্যাডভাইজারও কফি শপে কাজ করতেন।”
তিনি বলেন, বাফেলো স্টেট ইউনিভার্সিটিতে প্রথম সেমিস্টারে ২.৬৭ জিপিএ পেলেও তিনি ড্রপ আউট করতে চাননি। তিনি বলেন, “শুধু ফাঁকিবাজি নয়, সিদ্ধান্তের ভুলও ছিল। আমি দেশে এক সেমিস্টারে ২০-২২ ক্রেডিট নিতাম, কিন্তু আমেরিকায় সাধারণত ১২, ১৫ বা ১৮ ক্রেডিট নেয়। সেটা বুঝিনি। জেদ করে অনেক কঠিন কোর্স নিয়েছিলাম।”
তিনি বলেন, তিনি নিয়মিত অধ্যাপকদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন, আমেরিকান বন্ধুদের কাছে তাদের স্টাডি মেথড জানতেন। এভাবে একটা ধারা পেয়ে যান এবং পরবর্তীতে তিনটি ডিনস অ্যাওয়ার্ড পান। তিনি বলেন, “ছোটবেলার স্বপ্ন, মা-বাবার স্বপ্ন—সবই মাথায় ছিল। আমি হার্ভার্ডে আবেদন করি এবং দুটো বিশ্ববিদ্যালয়েই সুযোগ পেয়ে অবাক হয়েছিলাম।”
"আমি দেশে উচ্চমাধ্যমিকের পর শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে তিন সেমিস্টার পড়েছিলাম। আমেরিকায় গিয়ে আবার নতুন করে শুরু করতে হলো, এর জন্য অনেক মনোবল দরকার।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: সিলেট, বাংলাদেশ; বাফেলো স্টেট ইউনিভার্সিটি, যুক্তরাষ্ট্র; হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়, যুক্তরাষ্ট্র
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আসিফ মোক্তাদির
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২.৬৭ (জিপিএ), ৩৫ (ক্রেডিট), ২০-২২ (ক্রেডিট), ১২-১৮ (ক্রেডিট)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!