📌 যুক্তরাষ্ট্র ও গণতান্ত্রিক কঙ্গোর ২৯৫ জন শিশুর উপর করা গবেষণায় দেখা গেছে, সাপ-পোকামাকড়ের ভয় থাকলেও তাদের মধ্যে প্রকৃতির প্রতি আগ্রহ থাকতে পারে। গবেষকরা বলেছেন, প্রকৃতিপ্রীতি বা ভীতির ব্যাপারটি ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হতে পারে এবং পরিবেশ শিক্ষায় এই বৈচিত্র্যকে বিবেচনা করা দরকার
শিশুরা সাপ বা পোকামাকড় দেখলে ভয় পেলেও তা তাদের মধ্যে প্রকৃতির প্রতি আগ্রহ কমিয়ে দেয় না। যুক্তরাষ্ট্র ও গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের শিশুদের উপর করা এক গবেষণায় এই নতুন আবিষ্কার করা হয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, প্রকৃতির প্রতি আকর্ষণ বা ভীতির ব্যাপারটি ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হতে পারে এবং এটি পরিবেশ শিক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ৩ থেকে ১৩ বছর বয়সী ২৯৫ জন শিশু নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও গণতান্ত্রিক কঙ্গোর গবেষণায় দেখা গেছে, সাপ-পোকামাকড়ের ভয় থাকলেও তাদের মধ্যে প্রকৃতির প্রতি আগ্রহ থাকতে পারে।
- 📌 গবেষণায় অংশ নেওয়া শিশুদের মধ্যে মার্কিন শিশুদের তুলনায় কঙ্গোর শিশুদের বন্য প্রাণীর প্রতি সহনশীলতা কম এবং জীববৈচিত্র্যময় স্থানে ভ্রমণের আগ্রহও কম।
- 📌 ভয় ও আকর্ষণ আলাদা মনস্তাত্ত্বিক ব্যবস্থা — যে শিশুরা সাপ বা মাকড়সার ভয় পায়, তারা জীববৈচিত্র্যময় পরিবেশের প্রতি সমানভাবে আগ্রহী হতে পারে।
- 📌 গবেষণা পরিচালনা করেছেন ডিউক ইউনিভার্সিটির ভানেসা উডস, ব্রায়ান হেয়ার, গ্রেইন ফিটজসিমন্স ও উত্তর ক্যারোলিনা স্টেট ইউনিভার্সিটির মেলিন্ডা নাথ।
- 📌 গবেষণায় দেখা গেছে পরিবেশ সংরক্ষণ ও শিক্ষায় শিশুদের ব্যক্তিগত স্বকীয়তা ও মনস্তাত্ত্বিক বৈচিত্র্যকে বিবেচনা করা দরকার।
📰 বিস্তারিত
দীর্ঘদিন ধরে ‘বায়োফিলিয়া হাইপোথিসিস’ বা জীবপ্রীতি তত্ত্ব অনুযায়ী ধারণা করা হতো যে প্রকৃতির প্রতি মানুষের সর্বজনীন আকর্ষণ রয়েছে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের ডিউক ইউনিভার্সিটি ও নর্থ ক্যারোলাইনা স্টেট ইউনিভার্সিটির গবেষকদের সাম্প্রতিক গবেষণা এই ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করেছে। গবেষণায় দেখা গেছে, প্রকৃতির প্রতি আকর্ষণ বা ভীতির ব্যাপারটি ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হতে পারে।
গবেষণায় অংশ নেওয়া ২৯৫ জন শিশুর মধ্যে ১২৪ জন যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর ক্যারোলাইনা চিড়িয়াখানায় আগত শিশু এবং ১৭১ জন গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের কিনশাসার ‘লোলা ইয়া বোনোবো’ অভয়ারণ্যে শিক্ষামূলক সফরে আসা শিক্ষার্থী। গবেষকরা শিশুদের প্রাণীর প্রতি ভয় বা ভীতি পরিমাপের জন্য প্রচলিত মূল্যায়ন পদ্ধতি এবং জীববৈচিত্র্যের প্রতি আকর্ষণ যাচাই করতে ছবিভিত্তিক তুলনামূলক পদ্ধতি ব্যবহার করেছেন।
গবেষণায় তিনটি বিষয় পরীক্ষা করা হয়: ব্যাকইয়ার্ড বায়োফিলিয়া (বাড়ির আঙিনার জীববৈচিত্র্যের প্রতি আগ্রহ), ওয়াইল্ডলাইফ টলারেন্স (বন্য প্রাণীর প্রতি সহনশীলতা) এবং বায়োফিলিক ট্রাভেল (জীববৈচিত্র্যময় স্থানে ভ্রমণের ইচ্ছা)। গবেষকরা শিশুদের দৃষ্টিভঙ্গী বা মনোভাবে ব্যাপক পার্থক্য দেখেছেন। মার্কিন শিশুদের তুলনায় কঙ্গোর শিশুদের বন্য প্রাণীর উপস্থিতি কম সহ্য করতে পারে এবং জীববৈচিত্র্যময় স্থানে ভ্রমণ করার আগ্রহও কম।
"প্রাণীর প্রতি ভয় এবং প্রকৃতির প্রতি আকর্ষণ একে অপরের বিপরীত নয়। যে শিশুরা মাকড়সা বা সাপকে ভয় পায়, তারা জীববৈচিত্র্যময় পরিবেশের প্রতি সমানভাবে আগ্রহী হতে পারে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: যুক্তরাষ্ট্র (উত্তর ক্যারোলাইনা চিড়িয়াখানা), গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্র (কিনশাসার ‘লোলা ইয়া বোনোবো’ অভয়ারণ্য)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ভানেসা উডস, ব্রায়ান হেয়ার, গ্রেইন ফিটজসিমন্স, মেলিন্ডা নাথ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৯৫ জন শিশু, ৩ থেকে ১৩ বছর বয়স, ৩০ অক্টোবর প্রকাশিত গবেষণা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!