📌 কাপ্তাই হ্রদের পাঁচ প্রজাতির ছোট মাছের নমুনা পরীক্ষায় দেখা গেছে, সব মাছেই মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি। গবেষণায় পলিথিনের ক্ষুদ্র কণাগুলো মাছের খাদ্যশৃঙ্খলে প্রবেশ করছে
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বৃহত্তম কৃত্রিম হ্রদ কাপ্তাই হ্রদের মাছে উদ্বেগজনক পরিমাণে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। গবেষণায় দেখা গেছে, হ্রদের পাঁচ প্রজাতির ছোট মাছের মধ্যে সবকটিতেই ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণার (মাইক্রোপ্লাস্টিক) সন্ধান মিলেছে। গবেষণা পরিচালনা করেছেন চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও অ্যানিমেল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের (সিভাসু) ফিশারিজ রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থী দল।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ৫ প্রজাতির মাছের ৭৫টি নমুনা পরীক্ষায় সব মাছেই মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি পাওয়া গেছে
- 📌 ট্যাংরা মাছে প্রতি গ্রামে গড়ে ০.৬৩টি ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণা পাওয়া গেছে — সবচেয়ে বেশি
- 📌 ৮৫% মাইক্রোপ্লাস্টিক ছিল সুতা বা ফাইবার আকৃতির, যার ৭১% পলিথিনের তৈরি
- 📌 গবেষকরা দাবি করেছেন, পর্যটন এলাকা ও বাজার থেকে ফেলা বর্জ্য হ্রদের প্লাস্টিক দূষণের মূল কারণ
- 📌 মাছের খাদ্যশৃঙ্খলে প্রবেশকারী মাইক্রোপ্লাস্টিক দীর্ঘমেয়াদে মানুষের শরীরে প্রদাহ ও মেটাবলিক সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে
📰 বিস্তারিত
চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও অ্যানিমেল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের (সিভাসু) ফিশারিজ রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থী দল গবেষণা পরিচালনা করেছেন। দলের সদস্যরা হলেন নিশাত আক্তার, মো. তানভীর হোসেন, মোহাম্মদ শাকিল খান, জোবায়ের আলম, মো. তারেক, ইফতেখের আহমেদ, ইনকিয়াদ আহমেদ, সাইফুদ্দিন রানা, এস কে আহমদ আল নাহিদ ও শাহিদা আরফিন। গবেষণায় কাপ্তাই হ্রদের পাঁচ প্রজাতির ছোট মাছ — কাচকি, চাপিলা, ট্যাংরা, মলা ও ঢেলা — এর ৭৫টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। নমুনাগুলো সংগ্রহ করা হয় রাঙামাটির রিজার্ভ বাজার, সুবলং বাজার ও বিএফডিসি মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র থেকে।
গবেষণায় দেখা গেছে, সব মাছেই মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি রয়েছে। বিশেষত ট্যাংরা মাছের দেহে সবচেয়ে বেশি পরিমাণে মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে। এই মাছের প্রতি গ্রামে গড়ে ০.৬৩টি ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণা পাওয়া গেছে। গবেষকরা বলেছেন, হ্রদের তলদেশের কাদা ও বালু থেকে খাবার গ্রহণ করে ট্যাংরা মাছ এই দূষণে বেশি প্রভাবিত হয়। গবেষণাপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, মাছে পাওয়া মাইক্রোপ্লাস্টিকের ৮৫% ছিল সুতা বা ফাইবার আকৃতির। আর এর মধ্যে ৭১% পলিথিনের তৈরি, যা সাধারণত প্লাস্টিকের ব্যাগ, বোতল ও প্যাকেজিং সামগ্রী থেকে তৈরি হয়।
গবেষকরা দাবি করেছেন, কাপ্তাই হ্রদের প্লাস্টিক দূষণের মূল কারণ হচ্ছে হ্রদে ফেলা গৃহস্থালি বর্জ্য, পর্যটকদের ব্যবহৃত প্লাস্টিক এবং মাছ ধরার পুরোনো জাল। বিশেষ করে পর্যটন এলাকা ও স্থানীয় বাজারগুলো থেকে ফেলা বর্জ্য এই পরিবেশ বিপর্যয়ের প্রধান কারণ। গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে, নীল, কালো ও সাদা রঙের প্লাস্টিক কণাগুলো হ্রদে দীর্ঘদিন ভেসে ও ভেঙে ক্ষুদ্র কণায় পরিণত হয়েছে।
"বড় প্লাস্টিক থেকে ছোট প্লাস্টিক হয়। ছোট প্লাস্টিক খাবার হিসেবে গ্রহণ করে মাছ। এর ফলে মাছের শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া যায়। এখন থেকে সাবধান হতে হবে। কাপ্তাই হ্রদভিত্তিক পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে প্লাস্টিকের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে এবং পর্যটকসহ স্থানীয় বাসিন্দাদের সচেতন করতে হবে।"
গবেষকরা সতর্ক করেছেন, কাপ্তাই হ্রদের ছোট মাছগুলো সাধারণত নাড়িভুঁড়িসহ পুরোটা রান্না করে খাওয়া হয়। ফলে মাছে জমে থাকা মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা সহজেই মানুষের খাদ্যশৃঙ্খলে প্রবেশ করছে। নিয়মিত মাইক্রোপ্লাস্টিকযুক্ত মাছ খেলে দীর্ঘ মেয়াদে মানুষের শরীরে প্রদাহ, মেটাবলিক সমস্যা সহ নানা জটিল রোগের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। গবেষকরা কাপ্তাই হ্রদের জীববৈচিত্র্য ও স্থানীয় বাসিন্দাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় অবিলম্বে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: কাপ্তাই হ্রদ (রাঙামাটি), চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি বিশ্ববিদ্যালয়
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: সাইফুদ্দিন রানা (সহকারী অধ্যাপক, সিভাসু)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫ প্রজাতির মাছ, ৭৫টি নমুনা, ০.৬৩টি মাইক্রোপ্লাস্টিক/গ্রাম (ট্যাংরা মাছ), ৮৫% সুতা আকৃতির, ৭১% পলিথিন
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!