📌 নওগাঁ জেলার ১১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে এইচএসসি ও আলিম পরীক্ষায় একজন শিক্ষার্থীও পাস করতে পারেননি। এর মধ্যে ১৭ শিক্ষকের একটি সরকারি কলেজে মাত্র ১০ শিক্ষার্থী অংশগ্রহণে কেউই উত্তীর্ণ হননি। শিক্ষার্থীদের অনিয়মিত উপস্থিতি ও কর্মজীবনের কারণে ফলাফল খারাপ হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে
নওগাঁ জেলার শিক্ষা ব্যবস্থায় অদ্ভুত পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় ১১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে একজন শিক্ষার্থীও পাস করতে পারেননি। এর মধ্যে পত্নীতলা সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজে ১৭ শিক্ষকের অধীনে মাত্র ১০ শিক্ষার্থী অংশগ্রহণে কেউই উত্তীর্ণ হননি। গত শনিবার ফলাফল প্রকাশের পর এই তথ্য প্রকাশ পেয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **১১টি প্রতিষ্ঠানে শূন্য পাস**: নওগাঁ জেলার ১১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে এইচএসসি ও আলিম পরীক্ষায় একজন শিক্ষার্থীও পাস করতে পারেননি।
- 📌 **১৭ শিক্ষকের কলেজে শূন্য পাস**: পত্নীতলা সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজে ১৭ শিক্ষকের অধীনে মাত্র ১০ শিক্ষার্থী অংশগ্রহণে কেউই উত্তীর্ণ হননি।
- 📌 **অনিয়মিত উপস্থিতির দায়**: কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হামিদুল ইসলাম বলেছেন, শিক্ষার্থীরা বেশিরভাগই অনিয়মিত এবং পড়াশোনার পাশাপাশি কর্মজীবনে জড়িত থাকায় ফলাফল খারাপ হয়েছে।
- 📌 **মাদ্রাসায় ২৬ শিক্ষার্থী অংশগ্রহণে শূন্য পাস**: মহাদেবপুরের রামচন্দ্রপুর বাহারুল উলুম আলিম মাদ্রাসায় ২৬ শিক্ষার্থী অংশগ্রহণে কেউই পাস করতে পারেননি।
- 📌 **শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন পাওয়ার পরও শূন্য পাস**: এমপিওভুক্ত এই মাদ্রাসায় ২৪ শিক্ষক ও ৬ কর্মচারী থাকলেও ফলাফল খারাপ হয়েছে।
📰 বিস্তারিত
নওগাঁ জেলার শিক্ষা ব্যবস্থায় একটি বিরূপ চিত্র প্রকাশ পেয়েছে। এইচএসসি (বিএম/বিএমটি) ও আলিম পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী ১১টি প্রতিষ্ঠান থেকে একজন শিক্ষার্থীও পাস করতে পারেননি। এর মধ্যে পত্নীতলা সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজে ১৭ শিক্ষকের অধীনে মাত্র ১০ শিক্ষার্থী অংশগ্রহণে কেউই উত্তীর্ণ হননি। কলেজটি ২০২১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হামিদুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমাদের শিক্ষার্থীরা বেশিরভাগই অনিয়মিত। তারা পড়াশোনার পাশাপাশি কারখানা বা দোকানে কাজ করে। এ কারণে তাদের ফলাফল খারাপ হয়েছে।’
শিক্ষার্থীদের অনিয়মিত উপস্থিতি ও কর্মজীবনের কারণে ফলাফল খারাপ হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। স্থানীয় যুবক আবু সাঈদ এই ফলাফল নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, ‘গভর্নমেন্ট কলেজ। শিক্ষক-কর্মচারীরা মাসে বেতন-ভাতা নিয়মিত পান। তারপরও ১৭ শিক্ষকের একটি প্রতিষ্ঠানে ১০ জন শিক্ষার্থী পাস করেন না। কর্তৃপক্ষকে তদন্ত করতে হবে যে, কোনো গাফিলতি আছে কি না?’
মহাদেবপুর উপজেলার রামচন্দ্রপুর বাহারুল উলুম আলিম মাদ্রাসা এমপিওভুক্ত। এখানকার শিক্ষক-কর্মচারীরা সরকার থেকে নিয়মিত বেতন-ভাতা পান। মাদ্রাসাটি ২০০৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ২০১২ সালে এমপিওভুক্ত হয়। এবারের আলিম পরীক্ষায় এখান থেকে ২৬ জন অংশ নেন। কেউই পাস করতে পারেননি। প্রতিষ্ঠানটিতে শিক্ষক ২৪ জন, কর্মচারী ৬ জন। অধ্যক্ষ মো. জয়নাল আবেদিন বলেন, ‘বরাবরই আমাদের ফল ভালো হয়। কিন্তু এবারের শিক্ষার্থীরা দুর্বল ছিল। ইংরেজি ও গণিত পরীক্ষায় সবাই খারাপ করেছে।’
"আমাদের প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা বেশির ভাগই অনিয়মিত। বেশির ভাগই পড়াশোনার পাশাপাশি কারখানা কিংবা দোকানে কাজ করে। এদের ধরে ধরে এনে ক্লাস করাতে হয়। এ কারণে এখানকার ফল এত খারাপ।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: নওগাঁ জেলা (পত্নীতলা, মহাদেবপুর, নিয়ামতপুর, রানীনগর, ধামইরহাট, আত্রাই)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: হামিদুল ইসলাম (ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ), আবু সাঈদ (স্থানীয় যুবক), মো. জয়নাল আবেদিন (মাদ্রাসা অধ্যক্ষ)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৭ শিক্ষক, ১০ শিক্ষার্থী, ১১ প্রতিষ্ঠান, ২৬ শিক্ষার্থী (মাদ্রাসা), ২৪ শিক্ষক (মাদ্রাসা)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!