📌 জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড তাদের সকল কার্যালয়কে তামাকমুক্ত ঘোষণা করেছে। মহাপরিচালক একেএম তারেকের নেতৃত্বে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় এই উদ্যোগের ঘোষণা দেওয়া হয়। কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ তিন কোটি সেবাগ্রহীতাদের তামাকের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড তাদের সকল কার্যালয়কে তামাকমুক্ত ঘোষণা করেছে। প্রধান কার্যালয়সহ মোট ৫৬৬টি কার্যালয়ে ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সোমবার রাজধানীর প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এই ঘোষণা দেন বোর্ডের মহাপরিচালক একেএম তারেক।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের ৫৬৬টি কার্যালয়কে তামাকমুক্ত ঘোষণা
- 📌 কর্মকর্তা-কর্মচারী ও তিন কোটি সেবাগ্রহীতাদের তামাকের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে সুরক্ষা প্রদান
- 📌 সকল প্রকার তামাকজাত দ্রব্যের ব্যবহার, বিক্রয় ও প্রচার নিষিদ্ধ
- 📌 ধূমপান ও পরোক্ষ ধূমপানের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে অধূমপায়ীদের রক্ষা
📰 বিস্তারিত
জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড তাদের সকল কার্যালয়কে তামাকমুক্ত ঘোষণা করেছে। প্রধান কার্যালয়সহ মোট ৫৬৬টি কার্যালয়ে ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহারের উপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। সোমবার রাজধানীর প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত ‘বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের সকল কার্যালয়কে ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহারমুক্ত ঘোষণা’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় এই ঘোষণা দেন বোর্ডের মহাপরিচালক একেএম তারেক।
সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মহাপরিচালক তারেক বলেন, ধূমপানের ক্ষতি শুধু ধূমপায়ীর নয়, অধূমপায়ীর জন্যও সমান ঝুঁকিপূর্ণ। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ধোঁয়াবিহীন তামাকজাত দ্রব্য মুখগহ্বরের ক্যানসারসহ নানা জটিল রোগের কারণ এবং জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি। তাই আজ থেকে সকল কার্যালয় প্রাঙ্গনে সিগারেট, বিড়ি, জর্দা, গুল, সাদাপাতাসহ সব ধরনের তামাকজাত দ্রব্যের ব্যবহার, বিক্রয় ও প্রচার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে।
ডব্লিউএইচও-এর তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ তামাক ব্যবহারের হার রয়েছে। দেশে তামাক ব্যবহারের হার ৩৫ শতাংশ। তামাক নিয়ন্ত্রণ প্রকল্প সমন্বয়কারী জেবা আফরোজা বলেন, গ্যাটস ২০১৭-এর তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে ৩ কোটি ৮৪ লক্ষ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ প্রতিদিন কর্মক্ষেত্রসহ পাবলিক প্লেস ও পাবলিক পরিবহনে পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হন। প্রাপ্তবয়স্কদের প্রায় ৪২ শতাংশ কর্মক্ষেত্রে পরোক্ষ ধূমপানের শিকার। এছাড়াও, ৬১ হাজারেরও বেশি শিশু পরোক্ষ ধূমপানের কারণে সৃষ্ট রোগে ভুগছে।
জন হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তামাক খাত থেকে সরকারের রাজস্ব আয় ছিল প্রায় ৪১ হাজার কোটি টাকা। বিপরীতে তামাক ব্যবহারের কারণে মৃত্যু, স্বাস্থ্যহানি ও পরিবেশগত ক্ষতির আর্থিক মূল্য দাঁড়িয়েছে প্রায় ৮৭ হাজার কোটি টাকা, যা প্রাপ্ত রাজস্বের দ্বিগুণেরও বেশি। আফরোজা আরও বলেন, তামাকের ব্যবহার জনস্বাস্থ্য, অর্থনীতি এবং পরিবেশের জন্য ক্রমবর্ধমান হুমকি হয়ে উঠেছে।
"তামাক নিয়ন্ত্রণে সকল প্রতিষ্ঠানে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে তামাকমুক্ত কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।"
সভায় স্বাগত বক্তব্যে ডব্লিউএইচও-এর প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও এএইচএম নোমান বলেন, তামাক নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তামাক ব্যবহারকারী দেশ। তিনি আরও উল্লেখ করেন, তামাকমুক্ত কর্মপরিবেশ প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের এই উদ্যোগ অনুসরণযোগ্য।
সভা শেষে বোর্ডের প্রধান কার্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহারবিরোধী গণবিজ্ঞপ্তি, সাইনবোর্ড এবং স্টিকার স্থাপনা করা হয়।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান কার্যালয়, ঢাকা
- 👥 মুখ্য ব্যক্তি: মহাপরিচালক একেএম তারেক
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫৬৬টি কার্যালয়, ৩৫ শতাংশ তামাক ব্যবহার হার, ৩ কোটি ৮৪ লক্ষ মানুষ, ৪২ শতাংশ কর্মক্ষেত্রে পরোক্ষ ধূমপান, ৬১ হাজার শিশু, ৪১ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আয়
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!