📌 চক্ষুসেবা সম্প্রসারণ ও অপটোমেট্রিস্টদের নিয়ন্ত্রণে আনতে অপটোমেট্রি কাউন্সিল গঠনের প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে একমত হয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। রাজধানীতে আয়োজিত সংলাপে উঠে এসেছে অপটোমেট্রিস্টদের কর্মপরিধি নির্ধারণ ও মূলধারায় অন্তর্ভুক্তির গুরুত্ব
রাজধানীর জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে আয়োজিত এক জাতীয় সংলাপে চক্ষুসেবা খাতের অংশীজনরা অপটোমেট্রি কাউন্সিল গঠনের বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছেছেন। সারাদেশে চক্ষুসেবা সম্প্রসারণ এবং অপটোমেট্রিস্টদের নিয়ন্ত্রিত সেবা প্রদানের লক্ষ্যে এই কাউন্সিল গঠনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 অপটোমেট্রিস্টদের কর্মপরিধি নির্ধারণ ও নিয়ন্ত্রণের জন্য অপটোমেট্রি কাউন্সিল গঠনের দাবি উঠেছে
- 📌 প্রাথমিক চক্ষু চিকিৎসায় ওষুধ ব্যবস্থাপত্র দেওয়ার ক্ষেত্রে অপটোমেট্রিস্টদের সীমানা নির্ধারণের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে
- 📌 বাংলাদেশে প্রায় ২০ শতাংশ জনগোষ্ঠী চক্ষুসেবা গ্রহণ করতে চায়, কিন্তু জনবল ও অবকাঠামোগত ঘাটতি রয়েছে
- 📌 দেশে বর্তমানে মাত্র ২৫০ জন অপটোমেট্রিস্ট রয়েছেন, যাদের জন্য সরকারি স্বীকৃতি প্রয়োজন
- 📌 বিশ্বের ৩৪টি দেশে অপটোমেট্রি কাউন্সিল প্রতিষ্ঠিত রয়েছে এবং বাংলাদেশেও এর প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হচ্ছে
📰 বিস্তারিত
মঙ্গলবার রাজধানীর জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে আয়োজিত ‘চক্ষুস্বাস্থ্য বিষয়ক জাতীয় নীতি সংলাপ: বাংলাদেশে অপটোমেট্রিস্ট এবং সহযোগী চক্ষুসেবা কর্মীদের জন্য কাউন্সিল প্রতিষ্ঠা বিষয়ে পরামর্শসভা’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীরা অপটোমেট্রিস্টদের মূলধারায় আনতে একটি স্বতন্ত্র কাউন্সিল গঠনের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।
জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক অধ্যাপক ডা. এএসএমএম কাদির বলেন, “অপটোমেট্রি শিক্ষায় প্রবেশের প্রাকযোগ্যতা কী হবে, অপটোমেট্রিস্টরা ওষুধের ব্যবস্থাপত্র লিখবেন কি না, কিংবা তারা স্বাধীনভাবে প্র্যাকটিস করবেন নাকি একজন চক্ষু বিশেষজ্ঞের অধীনে কাজ করবেন—এসব নির্ধারণ করার জন্য একটি সংস্থা থাকা উচিত।”
বাংলাদেশ চক্ষু চিকিৎসক সমিতির মহাসচিব অধ্যাপক মো. জিন্নু রাইন বলেন, “একজন অপটোমেট্রিস্টকে কখনোই স্টেরয়েডের মতো ওষুধ লেখার অনুমতি দেওয়া উচিত নয়।” তিনি প্রাথমিক চক্ষু চিকিৎসায় অপটোমেট্রিস্টদের ভূমিকা নির্ধারণের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।
বাংলাদেশ চক্ষু চিকিৎসক সমিতির সভাপতি ডা. মো. তৌহিদুর রহমান বলেন, “চক্ষুসেবার সকল উপাদানকে একত্রিত করে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। এবং এখানে সরকারের একটি বড় ভূমিকা রয়েছে।” তিনি চক্ষুসেবা কর্মীদের বিভিন্ন স্তরের কোর্সে অভিন্নতা আনতে এবং তাদের জন্য সুনির্দিষ্ট সীমানা নির্ধারণের পরামর্শ দেন।
অরবিস ইন্টারন্যাশনাল আয়োজিত এই সংলাপে অরবিস বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ও ইন্টারন্যাশনাল এজেন্সি ফর দ্য প্রিভেনশন অব ব্লাইন্ডনেসের বাংলাদেশের অনারারি কান্ট্রি চেয়ার ডা. মুনির আহমেদ বলেন, বাংলাদেশ চক্ষুসেবা প্রদানে অনেক পিছিয়ে রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, “বাংলাদেশে সম্প্রতি সূচিত হওয়া ‘বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা স্পেকস ২০৩০’ অর্জন করা প্রয়োজনীয় জনবল ছাড়া কঠিন হবে।”
চিটাগাং আই ইনফার্মারি অ্যান্ড ট্রেনিং কমপ্লেক্সের মেডিকেল পরিচালক ডা. রাজীব হোসেন বলেন, বাংলাদেশে প্রাথমিক চক্ষু চিকিৎসা দেওয়ার জন্য একটি নীতিমালা ও আইন প্রণয়ন প্রয়োজন। তিনি জানান, দেশে বর্তমানে মাত্র ২৫০ জন অপটোমেট্রিস্ট রয়েছেন, যাদের জন্য একটি স্বতন্ত্র কাউন্সিল গঠন ও সরকারি স্বীকৃতি প্রয়োজন।
“বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এই অপটোমেট্রি পেশার জন্য সরকারি কাউন্সিল রয়েছে এবং পেশাটিকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। তারা স্বতন্ত্রভাবে কাজ করছেন। আন্তর্জাতিক গাইডলাইন অনুযায়ী তাদের কার্যপরিধি নির্ধারণ করা উচিত।”
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল, ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: অধ্যাপক ডা. এএসএমএম কাদির, অধ্যাপক মো. জিন্নু রাইন, ডা. মো. তৌহিদুর রহমান, ডা. মুনির আহমেদ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২০ শতাংশ, ২৫০ জন, ৩৪টি দেশ
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!