📌 জয়পুরহাটে ইজিবাইক চালক ফরিদ হোসেনের কঙ্কাল উদ্ধার হয়েছে। প্রধান আসামি সাগর হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব ও পুলিশ। হত্যার ঘটনায় তদন্ত চলছে
জয়পুরহাট সদর উপজেলার জিতারপুর মোড়ের একটি আখখেত থেকে উদ্ধার হওয়া কঙ্কালটি নিখোঁজ ইজিবাইক চালক ফরিদ হোসেনের বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ। ঘটনায় প্রধান আসামি সাগর হোসেনকে বুধবার বিকেলে নওগাঁর আত্রাই রেলস্টেশন এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 জয়পুরহাটে ইজিবাইক চালক ফরিদ হোসেনের (৪১) কঙ্কাল উদ্ধার
- 📌 প্রধান আসামি সাগর হোসেনকে (২৭) গ্রেপ্তার করেছে র্যাব ও পুলিশ
- 📌 ফরিদ ২০ আগস্ট সকালে ইজিবাইক নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন
- 📌 কঙ্কালের সঙ্গে থাকা পোশাক দেখে পরিবার সদস্যরা তাঁকে শনাক্ত করেন
- 📌 হত্যার পর দাহ্য পদার্থ ব্যবহার করে মরদেহের অধিকাংশ অংশ নষ্ট করা হয়েছে বলে ধারণা পুলিশের
📰 বিস্তারিত
জয়পুরহাট সদর উপজেলার জিতারপুর মোড়ের একটি আখখেত থেকে উদ্ধার হওয়া কঙ্কালটি নিখোঁজ ইজিবাইক চালক ফরিদ হোসেনের বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ। ঘটনায় প্রধান আসামি সাগর হোসেনকে বুধবার বিকেলে নওগাঁর আত্রাই রেলস্টেশন এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ফরিদের বাবা আবদুল কুদ্দুস জানান, তাঁর ছেলে ২০ আগস্ট সকালে ইজিবাইক নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন। এরপর আর ফিরে আসেননি। আখখেতে কঙ্কাল পাওয়ার খবর শুনে সেখানে গিয়ে পোশাক দেখে তিনি বুঝতে পারেন, এটি তাঁর ছেলে ফরিদের। তিনি বলেন, ‘যারা আমার ছেলেকে হত্যা করেছে, তাদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ২০ আগস্ট সকাল ১০টার দিকে ক্ষেতলাল উপজেলার হোপীরহাট গ্রামের বাড়ি থেকে ইজিবাইক নিয়ে বের হন ফরিদ। এরপর তাঁর আর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরদিন তাঁর বাবা কুদ্দুস থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। জিডির সূত্র ধরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় গত সোমবার সদর উপজেলার পাকার মাথা এলাকার একটি গ্যারেজ থেকে ফরিদের ইজিবাইক উদ্ধার করে পুলিশ।
এ ঘটনায় রবিউল ও জাকির হোসেন নামের দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই দিন ফরিদের বাবা বাদী হয়ে থানায় মামলা করেন। মামলায় হোপীরহাট গ্রামের সাগরকে প্রধান আসামি করে অজ্ঞাতনামা আরও তিন-চারজনকে আসামি করা হয়।
মামলা হওয়ার পরদিন মঙ্গলবার ভোরে জিতারপুর মোড়ের একটি আখখেত থেকে শিয়াল মানুষের হাড়গোড় সড়কের ওপর টেনে আনলে স্থানীয় লোকজনের নজরে আসে। পরে তাঁরা আখখেতের ভেতরে গিয়ে একটি কঙ্কাল দেখতে পান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে কঙ্কালটি উদ্ধার করে।
ফরিদের নিখোঁজ হওয়ার খবর জানতে পেরে তাঁর স্বজনেরাও সেখানে যান। কঙ্কালের সঙ্গে থাকা পোশাক দেখে তাঁরা সেটি ফরিদের বলে শনাক্ত করেন। জয়পুরহাট জেনারেল হাসপাতালে কঙ্কালের ময়নাতদন্ত শেষে ডিএনএ পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ করা হয়। নমুনা সংগ্রহের পর পুলিশ কঙ্কালটি ফরিদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে। ওই রাতেই পরিবারের সদস্যরা কঙ্কালটি দাফন করেন।
"কঙ্কালের সঙ্গে থাকা পোশাক দেখে ফরিদের মা-বাবা সেটি তাঁদের ছেলের বলে শনাক্ত করেছিলেন। ডিএনএ পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহের পর কঙ্কালটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।"
তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, নিখোঁজ হওয়ার মাত্র পাঁচ দিনের মধ্যে একটি কঙ্কালে পরিণত হওয়ার কথা নয়। পুলিশের ধারণা, ফরিদকে হত্যার পর দাহ্য পদার্থ ব্যবহার করে মরদেহের অধিকাংশ অংশ নষ্ট করে ফেলা হয়ে থাকতে পারে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
"ফরিদ নিখোঁজের ঘটনায় করা মামলার প্রধান আসামি সাগরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কীভাবে দ্রুত সময় লাশটি কঙ্কালে পরিণত হয়েছে, তা আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ করে রহস্য বের করা হবে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: জয়পুরহাট সদর উপজেলা, জিতারপুর মোড়
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ফরিদ হোসেন (৪১), সাগর হোসেন (২৭)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৪১ বছর, ২৭ বছর, ২০ আগস্ট
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!