📌 মেঘনা মোহনার সাতটি চরে পরিচালিত জরিপে ৫২ প্রজাতির পাখির মধ্যে ১৪টি বৈশ্বিকভাবে সংকটাপন্ন প্রজাতি শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে চামচঠুঁটো বাটান, দেশি গাঙচষা ও ইউরেশীয় গুলিন্দা অন্যতম। বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে পরিচালিত গবেষণায় মেঘনার চরগুলো পরিযায়ী পাখির জন্য গুরুত্বপূর্ণ আবাসস্থল হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে
মেঘনা নদীর কোলঘেঁষা চরগুলো পরিযায়ী পাখির জন্য বৈশ্বিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ আবাসস্থল হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। নোয়াখালী জেলার সাতটি চরে পরিচালিত সাম্প্রতিক জরিপে ৫২ প্রজাতির পাখির মধ্যে ১৪টি বৈশ্বিকভাবে সংকটাপন্ন প্রজাতি শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে চামচঠুঁটো বাটান, দেশি গাঙচষা, ইউরেশীয় গুলিন্দা, কালোলেজ জৌরালি ও রাঙা মানিকজোড় অন্যতম।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 মেঘনা মোহনার সাতটি চরে ৫২ প্রজাতির পাখির মধ্যে ১৪টি বৈশ্বিকভাবে সংকটাপন্ন
- 📌 চামচঠুঁটো বাটানের উপস্থিতি পাওয়া গেছে — বিশ্বে মাত্র ২৮০ থেকে ৬২০টি টিকে আছে
- 📌 গাঙ্গুইরার চরে সর্বাধিক পাখির উপস্থিতি (৩২ হাজার+) এবং জাহাইজ্জার চরে সর্বাধিক প্রজাতি শনাক্ত
- 📌 ডোবাচরে ১২ হাজার পাখির উপস্থিতি এবং ১,৩৩৮টি দেশি গাঙচষার ঝাঁক শনাক্ত
- 📌 বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে বন অধিদপ্তর ও নেকম পরিচালিত পাঁচ দফা জরিপ
- 📌 মেঘনার চরগুলোতে কৃষিকাজ ও শিকার হুমকির মুখে পাখির আবাসস্থল
📰 বিস্তারিত
বঙ্গোপসাগরের কোলঘেঁষা মেঘনা নদীর মোহনায় অবস্থিত নোয়াখালী জেলার সাতটি চর — জাহাইজ্জার চর, ডোবাচর, ভাসানচর, ঠেঙ্গারচর, গাঙ্গুইরার চর, ইসলাম চর ও কেয়ারিং চরে পরিচালিত জরিপে ৫২ প্রজাতির পাখির মধ্যে ৪৬টি পরিযায়ী এবং ১৪টি বৈশ্বিকভাবে সংকটাপন্ন প্রজাতি শনাক্ত হয়েছে। বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে বন অধিদপ্তর ও প্রকৃতি সংরক্ষণবিষয়ক সংস্থা নেচার কনজারভেশন ম্যানেজমেন্ট (নেকম) ২০২৫ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত পাঁচ দফায় জরিপ পরিচালনা করে।
জরিপে চামচঠুঁটো বাটানের উপস্থিতি পাওয়া গেছে, যা বিশ্বব্যাপী মহাবিপন্ন প্রজাতি। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে গাঙ্গুইরার চরে একটি চামচঠুঁটো বাটান দেখা যায়। পৃথিবীতে মাত্র ২৮০ থেকে ৬২০টি চামচঠুঁটো বাটান টিকে আছে। এর আগে ২০১৫-১৬ সালে পরিচালিত গবেষণায় একই এলাকায় ৪৮টি চামচঠুঁটো বাটান পাওয়া গিয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের উপকূলে এই প্রজাতির উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে।
জরিপে অন্যান্য সংকটাপন্ন পরিযায়ী পাখির মধ্যে রয়েছে দেশি গাঙচষা, বড় নট, মেটে জিরিয়া, গুলিন্দা বাটান, মোটাঠুঁটো বাটান, ইউরেশীয় গুলিন্দা, কালোলেজ জৌরালি, দাগিলেজ জৌরালি, এশিয়ান ডউইচার, ডানলিন, কালোমাথা কাস্তেচরা, রাঙা মানিকজোড় ও লাল নুড়িবাটান। গাঙ্গুইরার চরে সর্বাধিক পাখির উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে — ৩২ হাজারেরও বেশি পাখি। জাহাইজ্জার চরে সর্বাধিক প্রজাতি শনাক্ত হয়। ডোবাচরে ১২ হাজারেরও বেশি পাখির উপস্থিতি পাওয়া গেছে।
জরিপে বিশ্বব্যাপী বিপন্ন দেশি গাঙচষার একটি ঝাঁকের (১,৩৩৮টি) নিয়মিত উপস্থিতি লক্ষ করা গেছে। বিশ্বে মাত্র ২ হাজার ৪৫০ থেকে ২ হাজার ৯০০ দেশি গাঙচষা টিকে আছে। এছাড়া সংকটাপন্ন ৯ হাজার কালোলেজ জৌরালি এবং ১ হাজার ৫০৭টি ইউরেশীয় গুলিন্দার সন্ধান পাওয়া গেছে।
"শীতের পুরোটা সময় এবং গরমের শুরুর দিকে ছয় মাস ধরে গবেষণাটি করা হয়েছে। গাঙ্গেয় বদ্বীপের চরগুলো পরিযায়ী পাখির টিকে থাকার জন্য বিশ্বব্যাপী গুরুত্বপূর্ণ জায়গা।"
— আবদুর রব মোল্লা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ও নেকমের চেয়ারম্যান
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: মেঘনা মোহনা (নোয়াখালী জেলার ৭টি চর: জাহাইজ্জার চর, ডোবাচর, ভাসানচর, ঠেঙ্গারচর, গাঙ্গুইরার চর, ইসলাম চর, কেয়ারিং চর)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আবদুর রব মোল্লা (নেকমের চেয়ারম্যান), শোয়েব আলী ও নাঈম খন্দকার (নেকমের বন্য প্রাণী গবেষক)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫২ প্রজাতির পাখি (১৪টি সংকটাপন্ন), ৩২ হাজার+ পাখি (গাঙ্গুইরার চরে), ১,৩৩৮টি দেশি গাঙচষা, ২৮০-৬২০টি চামচঠুঁটো বাটান (বিশ্বে)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!