📌 হামে আক্রান্ত ৬৫ শতাংশ শিশু মাঝারি থেকে তীব্র অপুষ্টিতে ভুগছে বলে প্রকাশিত হয়েছে এক যৌথ গবেষণায়। বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও আইসিডিডিআরবির গবেষণায় দেখা গেছে, হামের উপসর্গ নিয়ে আসা ৯৫ শতাংশ শিশুরই প্রকৃতপক্ষে হাম শনাক্ত হয়েছে। স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত হাম নিয়ন্ত্রণে টিকার গুরুত্ব তুলে ধরেন
হাম মহামারির মধ্যে দেশের শিশুদের মধ্যে অপুষ্টির হার ভয়াবহভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট এবং আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ (আইসিডিডিআরবি) যৌথভাবে পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, হামে আক্রান্ত ৬৫ শতাংশ শিশু মাঝারি থেকে তীব্র অপুষ্টিতে ভুগছে। গতকাল বুধবার রাজধানীর শিশু হাসপাতাল মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই গবেষণার ফলাফল প্রকাশ করা হয়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 হামে আক্রান্ত ৬৫ শতাংশ শিশু মাঝারি থেকে তীব্র অপুষ্টিতে ভুগছে
- 📌 হামের উপসর্গ নিয়ে আসা ৯৫ শতাংশ শিশুর প্রকৃতপক্ষে হাম শনাক্ত হয়েছে
- 📌 গবেষণায় অংশগ্রহণকারী ৩৫৪ জন শিশুর মধ্যে ৩০৮ জনের বয়স পাঁচ বছরের কম
- 📌 তীব্র অপুষ্টিতে ভুগেছে ১২ শতাংশ শিশু, মাঝারি অপুষ্টিতে ৫৩ শতাংশ
- 📌 হাম নিয়ন্ত্রণে আসতে কমপক্ষে দুই থেকে তিন মাস সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত
- 📌 দেশে হামের টিকা দেওয়ার জন্য পদ রয়েছে ৪০ হাজার, কিন্তু কর্মী আছে মাত্র ২৫ হাজার
- 📌 টিকা না দেওয়ার কারণে ৩৭ শতাংশ শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে
📰 বিস্তারিত
বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট এবং আইসিডিডিআরবির যৌথ গবেষণায় দেখা গেছে, হাম মহামারির মধ্যে শিশুদের অপুষ্টির হার মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। গবেষণায় অংশগ্রহণকারী ৩৫৪ জন শিশুর মধ্যে ৯৫ শতাংশের হাম শনাক্ত হয়েছে। গবেষকেরা জানিয়েছেন, হামে আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে ৬৫ শতাংশই মাঝারি থেকে তীব্র অপুষ্টিতে ভুগছে।
গবেষণায় আরও দেখা গেছে, পাঁচ বছরের কম বয়সী ৩০৮ জন শিশুর মধ্যে তীব্র অপুষ্টিতে ভুগেছে ১২ শতাংশ শিশু। মাঝারি মাত্রার অপুষ্টিতে আক্রান্ত হয়েছে ৫৩ শতাংশ শিশু। অর্থাৎ হামে আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে অপুষ্টির হার ৬৫ শতাংশ। শিশুদের মধ্যে মাত্র ৩৪ শতাংশের পুষ্টি পরিস্থিতি স্বাভাবিক ছিল।
গবেষণায় অংশগ্রহণকারী শিশুদের মধ্যে মায়ের দুধের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে। দেখা গেছে, হামে মারা যাওয়া ১১ শিশুর মধ্যে ৯ জনই নিয়মিত মায়ের বুকের দুধ পেত না। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মায়ের দুধ শিশুর শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। গবেষণায় দেখা গেছে, ৩৮ শতাংশ শিশু নিয়মিত মায়ের বুকের দুধ পায়নি।
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত বলেন, দেশের মানুষ হামের মহামারির মধ্যে পড়ে গেছে। হাম থামাতে টিকা ছাড়া আর কোনো পথ জানা নেই। তিনি জানান, দেশে হামের টিকা দেওয়ার জন্য পদ রয়েছে ৪০ হাজার, কিন্তু কর্মী আছে মাত্র ২৫ হাজার। প্রায় ৪০ শতাংশ পদ খালি থাকায় সব শিশুকে টিকা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তিনি বলেন, বহুমাত্রিক ব্যর্থতার কারণে বর্তমান পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
অনুষ্ঠানে গবেষণার প্রথম অংশ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক মির্জা মো. জিয়াউল ইসলাম। তিনি বলেন, হামে আক্রান্ত শিশুদের ৭১ শতাংশ সরাসরি বাংলাদেশ শিশু হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসে। বাকি ২৯ শতাংশ শিশু আসে ঢাকা বা ঢাকার বাইরের বিভিন্ন হাসপাতাল থেকে রেফার হয়ে।
"হাম নিয়ন্ত্রণে আসতে কমপক্ষে দুই থেকে তিন মাস সময় লাগবে। সবকিছু ঠিক থাকলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: রাজধানীর শিশু হাসপাতাল মিলনায়তন, ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত, অধ্যাপক মির্জা মো. জিয়াউল ইসলাম
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৬৫ শতাংশ, ৯৫ শতাংশ, ৩৫৪ জন, ৪০ হাজার পদ, ২৫ হাজার কর্মী
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!