📌 ১৯৭০-এর দশকে জ্যাকব ব্রোনোস্কি বিজ্ঞান ও মানবিকতার গভীর সম্পর্ক তুলে ধরেন তার বিখ্যাত সিরিজ 'দ্য অ্যাসেন্ট অব ম্যান'-এ। বাংলাদেশের একদল তরুণ এই সিরিজের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে নারায়ণগঞ্জে সপ্তাহান্তে আলোচনা করত। কার্ল সেগান ও স্টিফেন হকিংসহ বিজ্ঞানীদের এই কাজের প্রভাব ব্যাপক ছিল
১৯৮৯ বা ১৯৯০ সালের নারায়ণগঞ্জের এক ক্যাফেতে বসে চায়ের কাপে চুমুক দিচ্ছিলাম। সেই সময় আমরা ঢাকার তরুণদের মতোই কার্ল সেগানের 'কসমস' দেখে মুগ্ধ হলাম। কিন্তু আরো গভীরে পৌঁছানোর জন্য আমাদের খোঁজ ছিল 'দ্য অ্যাসেন্ট অব ম্যান'-এ। এই টিভি সিরিজটি বিজ্ঞানকে মানবিকতার সাথে যুক্ত করে দেখিয়েছিল, যা আমাদের জীবনে একটি মাইলফলক হয়ে দাঁড়িয়েছিল।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ১৯৭১-৭২ সালে জ্যাকব ব্রোনোস্কি পরিচালিত 'দ্য অ্যাসেন্ট অব ম্যান' সিরিজে বিজ্ঞান ও মানবিকতার গভীর সম্পর্ক তুলে ধরা হয়েছিল, যা ১৩টি পর্বে বিস্তৃত ছিল
- 📌 নারায়ণগঞ্জের তরুণরা সিরিজের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে প্রতি সপ্তাহে ৫ নম্বর ঘাটের নদীপারে বা ক্যাফে মোগলে বসে আলোচনা করতেন, যেখানে সুব্রত মজুমদারও অংশ নিতেন
- 📌 ব্রোনোস্কি শারীরিকভাবে খর্বকায় হলেও তাঁর জ্ঞানের তীব্রতা ও নিষ্ঠা সিরিজটিকে একটি কবিতাময় বিজ্ঞান-সাহিত্যিক অভিযানে পরিণত করেছিল
- 📌 বিজ্ঞানী কার্ল সেগান ও স্টিফেন হকিংসহ অনেক বিজ্ঞানী এই সিরিজের প্রভাবে অনুপ্রাণিত হন, যার ফলশ্রুতিতে সেগান 'কসমস' সিরিজ রচনা করেন
- 📌 ব্রোনোস্কি ছিলেন গণিতবিদ, জীববিজ্ঞানী, কবি ও সাহিত্য সমালোচক — তাঁর বহুমুখী প্রতিভা সিরিজটিকে বিশেষ মর্যাদা দিয়েছিল
📰 বিস্তারিত
১৯৮৫ সালে কার্ল সেগানের 'কসমস' সিরিজ দেখে আমরা তরুণরা অভিভূত হলাম। কিন্তু বিজ্ঞানের সাথে মানবিকতার সংযোগের গভীরতা বুঝতে চাইলে আমাদের খোঁজ ছিল জ্যাকব ব্রোনোস্কির 'দ্য অ্যাসেন্ট অব ম্যান'-এ। এই সিরিজটি ছিল বিজ্ঞান ও সাহিত্যের একটি অসাধারণ সংমিশ্রণ। আমরা ঢাকার তরুণদের সাথে নারায়ণগঞ্জে সপ্তাহান্তে একত্রিত হতাম — কখনো কারও বাসায়, কখনো ৫ নম্বর ঘাটের নদীপারে হাঁটতাম, কখনো ক্যাফে মোগলে বসে আলোচনা করতাম। সেই সময় আমার স্মৃতিতে অম্লান রয়েছে, যখন সুব্রত মজুমদার (সুব্রত মজুমদার) আমাদের কাছে 'দ্য স্ট্যারি মেসেঞ্জার' পর্বের গল্প বর্ণনা করতেন। তিনি বলতেন, গ্যালিলিও ও মহাবিশ্ব সম্পর্কে নতুন ধারণাগুলো কীভাবে বিজ্ঞানকে মানবিকতার সাথে যুক্ত করেছে।
ব্রোনোস্কি ছিলেন একজন গণিতবিদ ও জীববিজ্ঞানী, কিন্তু তাঁর অবয়বে ছিল কবির মতো গভীরতা। তিনি বিজ্ঞানকে শুধু তত্ত্ব নয়, মানবতার একটি অংশ হিসেবে উপস্থাপন করেছিলেন। ১৯৭১ থেকে ১৯৭২ সালের মধ্যে নির্মিত এই সিরিজে বিজ্ঞান ও মানবিকতার সংযোগের গল্প ছিল। ব্রোনোস্কি তাঁর ১৩টি পর্বে দেখিয়েছিলেন, কীভাবে প্রাগৈতিহাসিক যুগ থেকে আধুনিক সময় পর্যন্ত বিজ্ঞান মানবসভ্যতার বিকাশে অবদান রেখেছে। তিনি বলেছিলেন, বিজ্ঞানকে শুধু ভোগের বস্তু হিসেবে দেখলে তা সমাজে আত্তীকরণ করা যায় না। ফলে মানুষের সঙ্গে বিজ্ঞানের কোনো সমঝোতা গড়ে ওঠেনি।
ব্রোনোস্কির এই সিরিজের প্রভাব ব্যাপক ছিল। কার্ল সেগান তাঁর 'দ্য ড্রাগনস অব ইডেন' বইয়ের ভূমিকায় ব্রোনোস্কিকে শ্রদ্ধা জানিয়ে লিখেছিলেন, "বিজ্ঞান ও মানবিকতার এই সংযোগ আমাকে 'কসমস' সিরিজ রচনা করতে অনুপ্রাণিত করেছিল।" স্টিফেন হকিংও এই কাজের দ্বারা অনুপ্রাণিত হন। তিনি বলেছিলেন, এই সিরিজ মানবজাতির কষ্টকর পথের কথা গভীরভাবে আলোড়িত করেছিল। ব্রোনোস্কি ছিলেন একজন বহুমুখী ব্যক্তিত্ব — তিনি ছিলেন কবি, সাহিত্য সমালোচক এবং উইলিয়াম ব্লেকের গবেষক। তাঁর এই বহুমুখী প্রতিভা 'দ্য অ্যাসেন্ট অব ম্যান' সিরিজটিকে একটি অসাধারণ সাহিত্যিক ও বিজ্ঞানিক অভিযানে পরিণত করেছিল।
"বিজ্ঞানকে শুধু ভোগের বস্তু হিসেবে দেখলে তা সমাজে আত্তীকরণ করা যায় না। ফলে মানুষের সঙ্গে বিজ্ঞানের কোনো সমঝোতা গড়ে ওঠেনি।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: নারায়ণগঞ্জ (৫ নম্বর ঘাট, ক্যাফে মোগল), ঢাকা
- 👥 মুখ্য ব্যক্তি: জ্যাকব ব্রোনোস্কি, সুব্রত মজুমদার, কার্ল সেগান, স্টিফেন হকিং
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৩টি পর্ব, ৬ নম্বর পর্ব ('দ্য স্ট্যারি মেসেঞ্জার')
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!