📌 মৌলভীবাজারের হাকালুকি হাওর দূষণ ও অবৈধ দখলের কারণে বৈশিষ্ট্য হারাচ্ছে। হাওরের গভীরতা কমে ৫-৭ ফুটে নেমেছে, ২৩৮টি বিলের মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি বিলের অস্তিত্ব হারিয়ে যাচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও বিশেষজ্ঞরা সরকারের উদ্যোগের অভাবকে দায়ী করছেন
মৌলভীবাজারের হাকালুকি হাওর দূষণ ও অবৈধ দখলের কারণে বৈশিষ্ট্য হারাচ্ছে। এশিয়ার অন্যতম বৃহত্তম মিঠাপানির জলাভূমি হাওরের গভীরতা আগের তুলনায় অনেক কমে গেছে। স্থানীয় বাসিন্দা রায়হান আহমেদের বলেন, হাওরের পানির নিচে শুধু প্লাস্টিকই পাওয়ার কারণে মাছের সংখ্যা দ্রুত কমে যাচ্ছে। আগের মতো ১৫-২০ ফুট গভীর পানি ছিল, এখন সেই জায়গায় মাত্র ৫-৭ ফুট পানি রয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 হাকালুকি হাওরের গভীরতা কমে ৫-৭ ফুটে নেমেছে, আগের ১৫-২০ ফুটের তুলনায়
- 📌 ১৮ হাজার হেক্টর আয়তনের হাওরে শুধু ৪ হাজার ৪০০ হেক্টর বিলের অস্তিত্ব রয়েছে, ২৩৮টি বিলের মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি হারিয়ে যাচ্ছে
- 📌 জুড়ী, ফানাই, সুনাইসহ ১০টি নদী ও পাহাড়ি ছড়া থেকে আসা বালু ও বর্জ্যের কারণে হাওর ভরাট হয়ে যাচ্ছে
- 📌 ২৬০ প্রজাতির দেশীয় মাছের মধ্যে ২০১৫ সালে মাত্র ১৪৩ প্রজাতির মাছ পাওয়া গিয়েছিল
- 📌 সরকারের উদ্যোগের অভাব ও অবৈধ সেচের কারণে হাওরের বৈশিষ্ট্য হারাচ্ছে
📰 বিস্তারিত
হাকালুকি হাওর মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা, কুলাউড়া, জুড়ী এবং সিলেট জেলার ফেঞ্চুগঞ্জ, গোলাপগঞ্জ ও বিয়ানীবাজার উপজেলাজুড়ে বিস্তৃত। এই হাওরে ১০টি নদী ও অসংখ্য পাহাড়ি ছড়া থেকে বালু ও বর্জ্য প্রবাহিত হয়ে আসছে, যা হাওরের পরিবেশকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, হাওরের উপরিভাগ দখল করা হচ্ছে, যা মাছের সংখ্যা কমিয়ে দিচ্ছে। কৃষিতে ব্যবহৃত কীটনাশক ও নির্বিচার সেচের কারণে হাওরের জলজ উদ্ভিদ ও মাছের প্রজাতি হ্রাস পাচ্ছে।
সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মোহাম্মদ নূর হোসেন মিঞা বলেন, হাওরের ভেতরে অপরিকল্পিত বাঁধ ও রাস্তা নির্মাণের কারণে পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। বালু জমে হাওর উঁচু হয়ে যাচ্ছে, ফলে পানি ধরে রাখতে পারছে না। প্লাস্টিক ও বর্জ্যের কারণে হাওর ভরাট হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, বঙ্গোপসাগরে পানি নামার আগে বড় বড় সেতুর পিলারের কারণে বালু জমা হয়ে চর সৃষ্টি হচ্ছে, যা নদীতে আগের মতো পানি ধারণক্ষমতা কমিয়ে দিচ্ছে।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) মৌলভীবাজার জেলা শাখার সভাপতি সালেহ সোহেল দাবি করেন, হাওরের বিলগুলো জরুরিভাবে খনন করা প্রয়োজন। দখল করা জায়গা মুক্ত করতে হবে এবং হাওরের প্রবেশপথে ছড়া ও নদীগুলো খনন করতে হবে। তিনি বলেন, হাওরের বিলের সংখ্যা ও অবস্থা সম্পর্কে সঠিক হিসাব করা প্রয়োজন।
"কয়েকটি কারণে হাওর বৈশিষ্ট্য হারাচ্ছে। হাওরের ভেতরে অপরিকল্পিত বাঁধ ও রাস্তা নির্মাণের কারণে পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। স্রোতে যে বালু আসে, তা জমা হয়ে ধীরে ধীরে উঁচু হয়ে যাচ্ছে, ফলে হাওর পানি ধরে রাখতে পারছে না।" — সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মোহাম্মদ নূর হোসেন মিঞা
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: মৌলভীবাজার জেলা (বড়লেখা, কুলাউড়া, জুড়ী) ও সিলেট জেলা (ফেঞ্চুগঞ্জ, গোলাপগঞ্জ, বিয়ানীবাজার)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: রায়হান আহমেদের, মোহাম্মদ নূর হোসেন মিঞা, সালেহ সোহেল, মাঈদুল ইসলাম, আরিফ হোসেন, তৌহিদুজ্জামান পাভেল, সি এম ইউসুফ হোসাইন
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৮ হাজার হেক্টর (হাওরের আয়তন), ৪ হাজার ৪০০ হেক্টর (বিলের আয়তন), ২৩৮টি (বিলের সংখ্যা), ১৪৩টি (২০১৫ সালের মাছের প্রজাতি)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!