📌 বাংলাদেশ রেলওয়ে ২০২৬ থেকে ২০৬০ সাল পর্যন্ত ৩২০টি প্রকল্পের মহাপরিকল্পনা তৈরি করেছে, যেখানে মিটারগেজ থেকে ব্রডগেজে রূপান্তর, নতুন রোলিং স্টক এবং আধুনিক সিগন্যাল ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আগের পরিকল্পনার লক্ষ্য অর্জন না হলে নতুন পরিকল্পনার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠবে।
বাংলাদেশ রেলওয়ে আগের দুটি মাস্টারপ্ল্যানের লক্ষ্য অর্জন না করলেও নতুন ৩৫ বছরের মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন করেছে। ২০২৬ থেকে ২০৬০ সাল পর্যন্ত মেয়াদে এই পরিকল্পনায় ৩২০টি প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। প্রকল্পগুলোতে মিটারগেজ রেলপথের ব্রডগেজে রূপান্তর, নতুন ও ডাবল লাইন স্থাপন, আধুনিক সিগন্যাল ব্যবস্থা, নতুন রোলিং স্টক এবং মালামাল পরিবহন বৃদ্ধির মতো বড় পরিকল্পনা রয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, আগের পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য বাস্তবায়িত না হলে নতুন পরিকল্পনার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠবে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 বাংলাদেশ রেলওয়ে ২০২৬-২০৬০ মেয়াদে ৩২০টি প্রকল্পের নতুন মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন করেছে, যেখানে প্রকৌশল (১১৮টি), রোলিং স্টক (৮৫টি), সিগন্যাল (৭৯টি) এবং ট্রাফিক (৩৮টি) বিভাগের প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
- 📌 পূর্বাঞ্চলের ৮০% রেলপথ মিটারগেজ, যা ট্রেন পরিচালনায় ব্যাহত করছে। নতুন পরিকল্পনায় ব্রডগেজ রোলিং স্টক সংগ্রহের পাশাপাশি মিটারগেজ রোলিং স্টকের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করা হয়েছে।
- 📌 বর্তমান রোলিং স্টকের ২০-৩০ বছরের আয়ুষ্কাল পার হয়েছে, যা রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় এবং বিকল হওয়ার ঝুঁকি বাড়িয়েছে। ওয়ার্কশপের ২০-৬০ শতাংশ জনবল ঘাটতি এবং যন্ত্রপাতির অভাবে সমস্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
- 📌 মাস্টারপ্ল্যানে পুরোনো মেকানিক্যাল সিগন্যালের বদলে কালার লাইট সিগন্যাল, কম্পিউটারভিত্তিক ইন্টারলকিং এবং সেন্ট্রালাইজড ট্রাফিক কন্ট্রোল চালুর পরিকল্পনা করা হয়েছে।
- 📌 গত কয়েক বছরে রেলের গড় অপারেটিং রেশিও প্রায় ২১০ শতাংশ, অর্থাৎ পরিচালন ব্যয়ের তুলনায় আয় বেশি।
📰 বিস্তারিত
গত সোমবার ঢাকার রেল মন্ত্রণালয়ে রেলসচিবের সভাপতিত্বে ২০২৬ থেকে ২০৬০ সাল পর্যন্ত নতুন মাস্টারপ্ল্যানের খসড়া নিয়ে সভা অনুষ্ঠিত হয়। এই সভায় খসড়া মাস্টারপ্ল্যানটি চূড়ান্ত করার লক্ষ্যে আলোচনা হয়। আগের দুটি মাস্টারপ্ল্যানে ২০১০-২০৩০ মেয়াদে ২৩৫টি এবং ২০১৬-২০৪৫ মেয়াদে ২৩০টি প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত ছিল। দ্বিতীয় মাস্টারপ্ল্যানের সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছিল ৫ লাখ ৫৩ হাজার ৬৬২ কোটি টাকা। নতুন পরিকল্পনায় মিটারগেজ থেকে ব্রডগেজে রূপান্তরের লক্ষ্য পূরণ সম্ভব না বলে ২০৬০ সাল পর্যন্ত মিটারগেজের রোলিং স্টক রাখার কথা বলা হয়েছে।
বাংলাদেশ ২০০৭ সালে ট্রান্স-এশিয়ান রেলওয়ে চুক্তিতে যুক্ত হয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য করিডরগুলো মিটারগেজ থেকে ব্রডগেজে রূপান্তরের অঙ্গীকার করেছিল। ব্রডগেজ লাইনে বেশি যাত্রী ও পণ্য পরিবহনের উপযোগী ইঞ্জিন ও কোচ ব্যবহার করা যায়। নতুন পরিকল্পনায় বলা হয়েছে, পূর্বাঞ্চলের ১ হাজার ৪৮৬ দশমিক ৯২ কিলোমিটার রুটের মধ্যে ১ হাজার ২০৭ দশমিক ৩৩ কিলোমিটার মিটারগেজ রেলপথ রয়েছে, যা ট্রেন পরিচালনায় ব্যাহত করছে।
রোলিং স্টকের পুরোনো অবকাঠামোও একটি বড় সমস্যা। বর্তমান বহরের বড় অংশ ২০-৩০ বছরের অর্থনৈতিক আয়ুষ্কাল পার করেছে। রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় বাড়ছে এবং বিকল হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। রেলের তিনটি বড় ওয়ার্কশপে পর্যাপ্ত জায়গা, সহায়ক যন্ত্রপাতি ও যন্ত্রাংশের অভাব রয়েছে। জনবল ঘাটতি ২০-৬০ শতাংশ এবং আগামী পাঁচ বছরে তা ৪৪-৭৫ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হয়েছে।
"স্ট্র্যাটেজিক ফ্রেমওয়ার্ক ফর রিফর্ম অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা, বাংলাদেশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: বিশেষজ্ঞরা, রেলসচিব
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩২০টি প্রকল্প, ৩৫ বছরের মেয়াদ, ২১০ শতাংশ অপারেটিং রেশিও
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!