📌 বিজ্ঞানীরা আবিষ্কার করেছেন যে, কিছু মানুষ মাত্র ৪-৫ ঘণ্টা ঘুমিয়ে সতেজ থাকেন। এর পেছনে জিনগত বৈশিষ্ট্যের ভূমিকা রয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, এই বৈশিষ্ট্যগুলো ঘুমের অভাবজনিত সমস্যা থেকে শরীরকে রক্ষা করতে পারে
বিজ্ঞানীরা আবিষ্কার করেছেন যে, কিছু মানুষ মাত্র চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা ঘুমিয়ে সতেজ থাকেন। এই রহস্যময় ঘটনার পেছনে রয়েছে বিশেষ কিছু জিনগত বৈশিষ্ট্য। তবে এই বৈশিষ্ট্যগুলোর সম্পূর্ণ কার্যকারিতা এখনো পুরোপুরি বোঝা যায়নি। গবেষকরা বলছেন, এই বৈশিষ্ট্যগুলো শুধু ঘুমের সময় কমায় না, বরং ঘুমের অভাবজনিত সমস্যা থেকে শরীরকে রক্ষা করতে পারে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ৪-৫ ঘণ্টা ঘুম মাত্রে সুস্থ থাকতে পারে কিছু মানুষ, যার পেছনে জিনগত বৈশিষ্ট্য রয়েছে।
- 📌 ২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া গবেষকরা ফ্যামিলিয়াল ন্যাচারাল শর্ট স্লিপ (এফএনএসএস) নামের জিনগত বৈশিষ্ট্য আবিষ্কার করেন, যা ঘুমের সময় কমিয়ে দেয়।
- 📌 ১০০ জোড়া যমজ মানুষের গবেষণায় দেখা যায়, জিনগত পরিবর্তন থাকা ব্যক্তিরা ৪০ শতাংশ কম মনোযোগ হারানোর ঝুঁকিতে থাকে।
- 📌 ৬ লাখ ৪৮ হাজার মানুষের গবেষণায় ২৩৪টি জিনগত পরিবর্তন শনাক্ত করা হয়, যা ঘুমের সময়কে প্রভাবিত করে।
- 📌 কম ঘুমের জিন অনিদ্রা, ক্লান্তি, বিষণ্নতা ও টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
📰 বিস্তারিত
প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য সাত থেকে নয় ঘণ্টা ঘুমের পরামর্শ থাকলেও, কিছু মানুষ মাত্র চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা ঘুমিয়ে সতেজ থাকেন। বিজ্ঞানীরা এই রহস্যময় ঘটনার পেছনে জিনগত বৈশিষ্ট্যের ভূমিকা নির্দেশ করেছেন। ২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়ার গবেষকরা ফ্যামিলিয়াল ন্যাচারাল শর্ট স্লিপ (এফএনএসএস) নামের একটি জিনগত পরিবর্তন আবিষ্কার করেন। এই বৈশিষ্ট্য থাকা মানুষরা সাধারণ সময়েই ঘুমাতে যান, কিন্তু খুব ভোরে তাদের ঘুম ভেঙে যায়। ফলে তারা রাতে চার থেকে সাড়ে ছয় ঘণ্টা ঘুমিয়ে দিন শুরু করেন।
গবেষকরা আরও জানান, এই বৈশিষ্ট্যগুলো শুধু ঘুমের সময় কমায় না, বরং ঘুমের অভাবজনিত সমস্যা থেকে শরীরকে রক্ষা করতে পারে। ২০১৯ সালে ইঁদুরের ওপর করা এক পরীক্ষায় দেখা যায়, এফএনএসএসের সঙ্গে সম্পর্কিত জিনগত পরিবর্তন থাকা ইঁদুর কম ঘুমালেও স্মৃতিশক্তিতে তেমন পরিবর্তন হয়নি। আরেকটি পরীক্ষায় দেখা যায়, এই বৈশিষ্ট্যগুলো আলঝেইমার রোগের মতো সমস্যা থেকেও সুরক্ষা দিতে পারে।
২০১৪ সালে রেনাটা পেলেগ্রিনো ও তার সহ-গবেষকরা ১০০ জোড়া যমজ মানুষের তথ্য বিশ্লেষণ করেন। তাদের মধ্যে এক জোড়া যমজ ভাইয়ের একজনের শরীরে বিএইচএলএইচই৪১ (ডিইসি২) জিনের বিশেষ পরিবর্তন পাওয়া যায়। তিনি গড়ে পাঁচ ঘণ্টা ঘুমাতেন, আর তার ভাই ঘুমাতেন প্রায় ছয় ঘণ্টা পাঁচ মিনিট। দুজনকে টানা ৩৮ ঘণ্টা জাগিয়ে রাখার পর দেখা যায়, জিনগত পরিবর্তন থাকা ভাইটির কাজে মনোযোগ হারানোর ঘটনা অন্যজনের তুলনায় প্রায় ৪০ শতাংশ কম ছিল।
কিংস কলেজ লন্ডনের জিনবিজ্ঞানী ইসাবেল অস্টিন-জিমারম্যান ও তার সহ-গবেষকদের গবেষণায় প্রায় ৬ লাখ ৪৮ হাজার মানুষের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়। ওই গবেষণায় ঘুমের সময়ের সঙ্গে সম্পর্কিত ২৩৪টি স্বতন্ত্র জিনগত পরিবর্তন শনাক্ত করা হয়। গবেষকদের মতে, প্রতিটি জিনগত বৈশিষ্ট্যের প্রভাব সামান্য, তবে অনেকগুলো জিনগত বৈশিষ্ট্য একসঙ্গে কাজ করলে ঘুমের সময়ের ওপর এর সম্মিলিত প্রভাব বাড়ে।
"কম ঘুমের জিনগত বৈশিষ্ট্য অনিদ্রা ও ক্লান্তির ঝুঁকি বাড়াতে পারে। এছাড়া এডিএইচডি, বিষণ্নতার লক্ষণ ও টাইপ-২ ডায়াবেটিসের সঙ্গেও এসব বৈশিষ্ট্যের সম্পর্ক পাওয়া গেছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: যুক্তরাষ্ট্র (ক্যালিফোর্নিয়া), যুক্তরাজ্য (লন্ডন), ওয়াশিংটন
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ইং-হুই ফুর, রেনাটা পেলেগ্রিনো, ইসাবেল অস্টিন-জিমারম্যান
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৪-৫ ঘণ্টা (ঘুম), ১০০ জোড়া (যমজ), ৩৮ ঘণ্টা (জাগ্রত অবস্থা), ৪০ শতাংশ (মনোযোগ হারানোর ঝুঁকি), ৬ লাখ ৪৮ হাজার (গবেষণায় অংশগ্রহণকারী), ২৩৪টি (জিনগত পরিবর্তন)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!