📌 উত্তরাঞ্চলের ৮ জেলায় ৬ লাখ ৬৩ হাজার হেক্টর জমিতে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা ২৬ লক্ষ টন ধান। অনুকূল আবহাওয়া ও বৃষ্টিপাতের কারণে কৃষকরা সফল চাষাবাদের আশায়। তবে উৎপাদন খরচ ও দামের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন কৃষকরা
উত্তরাঞ্চলের কৃষকরা অনুকূল আবহাওয়ায় আমন চাষের মৌসুমে সাফল্যের স্বপ্ন দেখছেন। রংপুরের ৮ জেলায় ৬ লাখ ৬৩ হাজার ৭১৪ হেক্টর জমিতে রোপা আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, যার উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ২৬ লক্ষ ৩৩ হাজার মেট্রিক টন ধান। বৃষ্টিপাত ও অনুকূল আবহাওয়ায় কৃষকরা মাঠে মাঠে কর্মব্যস্ততা দেখাচ্ছেন, কিন্তু উৎপাদন খরচ ও দামের বিষয়ে উদ্বেগও প্রকাশ করছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 রংপুরের ৮ জেলায় ৬ লাখ ৬৩ হাজার ৭১৪ হেক্টর জমিতে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা, উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ২৬ লক্ষ ৩৩ হাজার টন ধান
- 📌 অনুকূল আবহাওয়া ও বৃষ্টিপাতের কারণে কৃষকরা সফল চাষাবাদের আশায়, বাকি জমিতে ১০-১৫ দিনের মধ্যে চারা রোপণ শেষ হবে
- 📌 কৃষকরা মাঠে ট্রাক্টর, পাওয়ার টিলার, কোদাল ও মই দিয়ে চাষাবাদ করছেন, অনেকেই বীজতলা থেকে চারা সংগ্রহ করছেন
- 📌 তিস্তা এলাকার কৃষক নজরুল ইসলামের মতে, উৎপাদন খরচের তুলনায় ধানের দাম কম পাওয়া নিয়ে আশঙ্কা, ৫০ বছর ধরে কৃষিকাজ করেই জীবিকা নির্বাহ করছেন
- 📌 রংপুর সদর এলাকার কৃষক আব্দুল বারী বলেন, পর্যাপ্ত বৃষ্টির কারণে সেচ খরচ কম হয়েছে, ব্যয়ও আগের চেয়ে কম হয়েছে
- 📌 রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক মো. সিরাজুল ইসলাম বলেছেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে চাষাবাদ হবে
📰 বিস্তারিত
রংপুরের কৃষকরা অনুকূল আবহাওয়ায় আমন চাষের মৌসুমে সফলতার স্বপ্ন দেখছেন। কাদা-জলে একাকার হয়ে বীজতলা থেকে ফসলের মাঠে চলছে বিশাল কর্মযজ্ঞ। রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি আমন মৌসুমে রংপুরের ৮ জেলায় ৬ লাখ ৬৩ হাজার ৭১৪ হেক্টর জমিতে রোপা আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২৬ লক্ষ ৩৩ হাজার মেট্রিক টন ধান। ইতোমধ্যে বেশিরভাগ জমিতে ধানের চারা রোপণ শেষ হয়েছে। বাকি জমিগুলোতে আগামী ১০-১৫ দিনের মধ্যে আমনের চারা রোপণ শেষ হবে।
সরেজমিনে দেখা যায়, ট্রাক্টর ও পাওয়ার টিলার দিয়ে ফসলের মাঠে কাজ করছেন কৃষক-কৃষাণীরা। কেউ জমির আইল কোদাল দিয়ে ঠিক করছেন, কেউ আবার মই দিয়ে জমি সমান করার কাজ করছেন। অনেক কৃষক বীজতলা থেকে চারা তুলছেন। একসাথে সারিবদ্ধ হয়ে জমিতে চারা রোপণ করছেন। আবার কেউ মাথায় গামছা বেঁধে চিরচেনারুপে জমিতে সার দিচ্ছেন। এই কর্মব্যস্ততা দেখে মনে হয়, প্রকৃতি আর মানুষের পরিশ্রম মিলে উত্তরাঞ্চলে লেখা হচ্ছে আমন চাষে সম্ভাবনার গল্প।
তিস্তা এলাকার কৃষক নজরুল ইসলামের মতে, তিনি ২ বিঘা জমি বর্গা নিয়ে আমন ধানের চারা রোপণ করেছেন। কিন্তু উৎপাদন খরচের তুলনায় ধানের দাম কম পাওয়া নিয়ে আশঙ্কায় রয়েছেন। তিনি বলেন, “হাড় ভাঙ্গা খাটুনি আর খরচাপাতি মিলিয়ে ধান চাষ করে তেমন একটা লাভ নেই। বরং লোকসানের হার বেশি। তারপরেও এ অঞ্চলে অন্য কোন কাজ না থাকায় প্রায় ৫০ বছর ধরে কৃষিকাজ করেই জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন।”
রংপুর সদর এলাকার কৃষক আব্দুল বারী জানান, চলতি মৌসুমে তিনি ৫ বিঘা জমিতে আমন ধান চাষ করেছেন। তিনি বলেন, “এ মৌসুমে প্রকৃতি অনেকটাই সহায় হয়েছে। পর্যাপ্ত বৃষ্টির পানি পাওয়ায় চাষাবাদে কোন অসুবিধা হয়নি। সেচ খরচও করতে হয়নি। ব্যয়ও আগের চেয়ে কম হয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে বেশ ভালো ফলন হবে।”
মিঠাপুকুরের রানীপুকুর এলাকার কৃষক নাসির উদ্দিন জানান, গত বোরো ধানের ন্যায্য দাম পেয়েছেন। এবার সেই আশায় ৫ বিঘা জমিতে আমন ধানের চাষ শুরু করেছেন। তিনি বলেছেন, “আগামী ২-৩ দিনের মধ্যে তার সব জমিতে ধানের চারা লাগানো শেষ হবে।”
"আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে রোপা আমন ধান চাষাবাদ হবে বলে আশা করছি। প্রান্তিক কৃষকদের বিভিন্ন পরামর্শসহ যেকোনো সেবায় কৃষি কর্মকর্তারা নিয়োজিত আছে।"
— মো. সিরাজুল ইসলাম, রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: রংপুর (৮ জেলা), তিস্তা এলাকা, রংপুর সদর, মিঠাপুকুরের রানীপুকুর
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: নজরুল ইসলাম, আব্দুল বারী, নাসির উদ্দিন, মো. সিরাজুল ইসলাম
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৬ লাখ ৬৩ হাজার ৭১৪ হেক্টর জমি, ২৬ লক্ষ ৩৩ হাজার টন ধান, ২-৫ বিঘা জমি
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!