📌 নলডাঙ্গা থেকে বাগমারা পর্যন্ত বারনই নদে হঠাৎ মরে ভেসে উঠছে অসংখ্য মাছ। পানিতে বিষাক্ত বর্জ্য মিশে অক্সিজেনের মাত্রা কমে যাওয়ার সম্ভাবনা উঠে এসেছে, কিন্তু কারণ নিশ্চিত হয়নি। স্থানীয়রা দাবি করছেন, রাজশাহীর শিল্পবর্জ্য ও পাট পচানোর বর্জ্য নদীতে মিশে গেছে
নলডাঙ্গা থেকে বাগমারা পর্যন্ত বারনই নদে হঠাৎ বিপুলসংখ্যক মাছ মরে ভেসে উঠেছে। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) ভোর থেকে শুরু হওয়া এই ঘটনায় শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত নদের পানিতে মরা ও অসুস্থ মাছের ভেসে উঠতে দেখা যাচ্ছে। নদের পানি পচে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ায় নদপাড়ের মানুষের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ৪ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া এই ঘটনায় বিপুলসংখ্যক মাছ মরে ভেসে উঠেছে বারনই নদে।
- 📌 রাজশাহীর শিল্পবর্জ্য ও পাট পচানোর বর্জ্য নদীতে মিশে অক্সিজেনের মাত্রা কমে যাওয়ার সম্ভাবনা উঠে এসেছে।
- 📌 নলডাঙ্গা ও বাগমারা উপজেলার মৎস্য কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, পানিতে বিষাক্ত পদার্থ মিশে যাওয়ার কারণে মাছ মারা যেতে পারে।
- 📌 ২০২২ সালেও বারনই নদে মাছের মৃত্যু ঘটেছিল, তখনও পাট জাগ দেওয়ার কারণে পানি দূষিত হয়েছিল।
- 📌 জেলেরা দাবি করেছেন, দ্রুত নদীর পানি ও মাছের নমুনা পরীক্ষা করে কারণ নিশ্চিত করতে হবে।
📰 বিস্তারিত
শুক্রবার ভোর থেকে নদের বিভিন্ন স্থানে মরা ও অসুস্থ মাছ ভেসে উঠতে শুরু করে। শনিবার সকালেও অসংখ্য দেশীয় মাছের মৃতদেহ পানিতে ভেসে উঠতে দেখা যায়। এতে নদের পানিতে মরা মাছ পচে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ায় নদপাড়ের মানুষের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা জানান, বৃহস্পতিবার রাত থেকেই নদের পানিতে অস্বাভাবিকতা লক্ষ করা যায়। কোথাও কোথাও পানির মধ্যে গ্যাসের মতো বুদ্বুদ দেখা গিয়েছিল। এরপর রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ আধা মরা হয়ে পানিতে ভেসে উঠতে থাকে। শুক্রবার সকালে বিষয়টি ছড়িয়ে পড়লে নদের দুই পাড়ে মানুষের ভিড় জমে যায়।
নলডাঙ্গা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আবু সাঈদ জানান, ‘গত কয়েক দিনের বৃষ্টিতে পাট পচানোর বর্জ্য নদীর পানিতে মিশে গ্যাস সৃষ্টি হতে পারে। এ ছাড়া রাজশাহী নগরী ও শিল্পকারখানার রাসায়নিক দূষিত বর্জ্য অতিরিক্ত বৃষ্টির পানির সঙ্গে মিশে বারনই নদীতে পড়েছে। এতে পানিতে অক্সিজেনের মাত্রা কমে গিয়ে এ ঘটনা ঘটতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘এখনো এ বিষয়ে কোনো নির্দেশনা পাইনি, তাই পানি ও মাছের নমুনা পরীক্ষা করা হয়নি।’
নাটোর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ওমর আলী জানান, ‘কয়েক দিনের অতিরিক্ত বৃষ্টিতে তাহেরপুর এলাকার পোলট্রি খামারের বর্জ্য, রাজশাহী গরুর হাটের পাশের সিটি করপোরেশনের বর্জ্য এবং শিল্পপ্রতিষ্ঠানের রাসায়নিক বর্জ্য নদীর পানিতে মিশেছে। এতে পানিতে অক্সিজেনের মাত্রা কমে গিয়ে গতকাল আধামরা মাছ নদীর তীরে ভেসে উঠেছিল।’ তিনি বলেন, ‘উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তাকে পানি ও মাছের নমুনা সংগ্রহের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, কিন্তু পরীক্ষার প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি বর্তমানে নষ্ট রয়েছে।’
এদিকে, স্থানীয় জেলেরা দাবি করেছেন, দ্রুত নদের পানির নমুনা পরীক্ষা করে দূষণের উৎস শনাক্ত করতে হবে। তারা আরও বলেছেন, মাছ ও জলজ প্রাণী রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। মৎস্য কর্মকর্তারা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত নদের পানি ব্যবহার ও নদে গরু-ছাগল গোসল করানোর মতো কাজে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।
"গত কয়েক দিনের বৃষ্টিতে পাট পচানোর বর্জ্য নদীর পানিতে মিশে গ্যাস সৃষ্টি হতে পারে। এ ছাড়া রাজশাহী নগরী ও শিল্পকারখানার রাসায়নিক দূষিত বর্জ্য অতিরিক্ত বৃষ্টির পানির সঙ্গে মিশে বারনই নদীতে পড়েছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বারনই নদ (নলডাঙ্গা থেকে বাগমারা উপজেলা পর্যন্ত)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আবু সাঈদ (নলডাঙ্গা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা), ওমর আলী (নাটোর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা), জেলেরা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৪ সেপ্টেম্বর (ঘটনার শুরু), ৫ সেপ্টেম্বর (শনিবার)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!