📌 চট্টগ্রামে অনিরাপদ পানির কারণে ডায়রিয়া ও কলেরার ঝুঁকি বেড়েছে। গত ১৭ জুলাই একটি কলোনিতে ১৭ জন আক্রান্ত হয়, যার মধ্যে ৭৫ বছর বয়সী আবদুল মতিন মারা যান। গবেষণা থেকে জানা যায়, ২০২৩ সালে মাত্র ১৫ দিনে ৭ হাজার ৯৫৬ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন
চট্টগ্রামে অনিরাপদ পানির কারণে ডায়রিয়া ও কলেরার ঝুঁকি ক্রমাগত বাড়ছে। গত ১৭ জুলাই বায়েজিদ বোস্তামী এলাকার চন্দ্রনগর কলোনিতে হঠাৎ ডায়রিয়া ছড়িয়ে পড়ে, যার ফলে দুই দিনে অন্তত ১৭ জনকে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়। এই ঘটনায় ৭৫ বছর বয়সী আবদুল মতিন মারা যান। বাসিন্দাদের অভিযোগ অনুযায়ী, তাদের পানি সরবরাহের ট্যাংক দীর্ঘদিন অপরিষ্কার ছিল এবং ভেতরে মৃত ইঁদুর ও তেলাপোকাও পাওয়া গিয়েছিল। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন ও জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের প্রতিনিধিরা পরীক্ষা করে জানান, অপরিচ্ছন্ন ট্যাংকের পানি থেকেই এই রোগ ছড়িয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 গত ১৭ জুলাই চট্টগ্রামের বায়েজিদ বোস্তামী এলাকায় ডায়রিয়া ছড়িয়ে পড়ে, ১৭ জন আক্রান্ত হয়, যার মধ্যে ৭৫ বছর বয়সী আবদুল মতিন মারা যান
- 📌 ২০২৩ সালের ১ এপ্রিল থেকে ১৫ মে পর্যন্ত মাত্র ১৫ দিনে চট্টগ্রামে ৭ হাজার ৯৫৬ জন ডায়রিয়া রোগী হাসপাতালে ভর্তি হন
- 📌 গবেষণা থেকে জানা যায়, অনিরাপদ ও লবণাক্ত পানি, পানির সংকট এবং দুর্বল স্যানিটেশন ডায়রিয়া-কলেরার প্রধান কারণ
- 📌 ২০২৩ সালের গবেষণায় দেখা যায়, পুকুরে শৌচাগারের বর্জ্য সরাসরি মিশে পানি দূষিত হয়
- 📌 গবেষক ইমামুল মুনতাসির বলেন, নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন নিশ্চিত না করা পর্যন্ত ডায়রিয়া ও কলেরার ঝুঁকি থাকবে
📰 বিস্তারিত
গবেষণা দলের সদস্য ইমামুল মুনতাসিরের নেতৃত্বে পরিচালিত গবেষণায় জানা যায়, চট্টগ্রামে ডায়রিয়া ও কলেরার ঝুঁকি বাড়ছে অনিরাপদ পানির কারণে। গবেষণায় দেখা গেছে, নলকূপ ও পুকুরের পানিতে দূষণের চিত্র রয়েছে। অনেক মানুষ পানি বিশুদ্ধ না করেই ব্যবহার করেন, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য উদ্বেগের বিষয়। গবেষণায় আরও জানা যায়, রোগীদের নমুনায় পাওয়া জীবাণু ছিল মহামারি সৃষ্টিকারী ‘ও ১ ও গাওয়া’ ধরনের। তবে রোগী ও পানিতে পাওয়া জীবাণুর মধ্যে সরাসরি সম্পর্ক যাচাইয়ে জিনগত পরীক্ষা করা হয়নি।
২০২৩ সালের ১ এপ্রিল থেকে ১৫ মে পর্যন্ত চট্টগ্রামে ডায়রিয়া রোগীর সংখ্যা ছিল ৭ হাজার ৯৫৬ জন। এই সময়ে পটিয়া উপজেলায় ১ হাজার ৫৯৬ জন, বোয়ালখালীতে ১ হাজার ৮৭ জন, আনোয়ারায় ১ হাজার ৩৯ জন এবং চন্দনাইশে ১ হাজার ৩৩ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হন। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১ হাজার ৩৩৪ জন এবং বিআইটিআইডিতে ১ হাজার ৮৬৭ জন রোগী ভর্তি হয়েছিলেন। গবেষকদের মতে, এই রোগীরা বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ উৎসের সংস্পর্শে আসার কারণে আক্রান্ত হয়েছেন।
গবেষক ইমামুল মুনতাসির বলেন, ‘ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে নিরাপদ ও নিরবচ্ছিন্ন পানি সরবরাহ, পানির মান নিয়মিত পরীক্ষা এবং স্যানিটেশনব্যবস্থার উন্নয়ন জরুরি। বিশেষ করে ডায়রিয়া-কলেরার ওপর চলমান রোগতাত্ত্বিক নজরদারির পাশাপাশি পরিবেশগত নজরদারি বাড়ানো দরকার।’
"নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন নিশ্চিত করা না গেলে ডায়রিয়া ও কলেরার ঝুঁকি থেকেই যাবে। আমাদের অনুসন্ধানে নলকূপ ও পুকুরের পানিতে দূষণের চিত্র পাওয়া গেছে। কোনো কোনো পুকুরে শৌচাগারের বর্জ্য সরাসরি মিশতেও দেখা গেছে।" — ইমামুল মুনতাসির, গবেষক দলের সদস্য
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: চট্টগ্রাম (বায়েজিদ বোস্তামী, চন্দ্রনগর কলোনি, পটিয়া, বোয়ালখালী, আনোয়ারা, চন্দনাইশ)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ইমামুল মুনতাসির, আবদুল মতিন (৭৫), বাসিন্দারা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৭ হাজার ৯৫৬ (ডায়রিয়া রোগী), ১৭ (আক্রান্ত), ৭৫ (মারা যাওয়া ব্যক্তির বয়স), ১১ (গবেষক)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!