📌 মুক্তিযোদ্ধা ও গবেষক দিনু বিল্লাহর লেখা ‘মিলিত প্রাণের কলরব’ বইয়ের আলোচনা ও স্মরণ অনুষ্ঠানে ঢাকার শিল্পকলা একাডেমিতে অংশগ্রহণ করেন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বরা। বইটিকে গণসংগীতের ইতিহাস ও মুক্তিযুদ্ধের সাংস্কৃতিক আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে উল্লেখ করা হয়
মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও গণসংগীতের সাংস্কৃতিক আন্দোলনকে সংরক্ষণে অবদান রাখা মুক্তিযোদ্ধা, লেখক ও গবেষক দিনু বিল্লাহর লেখা ‘মিলিত প্রাণের কলরব’ বইয়ের আলোচনা ও স্মরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয় ঢাকার শিল্পকলা একাডেমিতে। বইটিকে গণসংগীতের ইতিহাসের পাশাপাশি একটি সময়ের সাংস্কৃতিক আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 দিনু বিল্লাহর লেখা ‘মিলিত প্রাণের কলরব’ বইয়ের আলোচনা অনুষ্ঠিত হয় ঢাকা থিয়েটার ও অনন্যা প্রকাশনীর যৌথ আয়োজনে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালায়
- 📌 বইটিকে গণসংগীতের ইতিহাসের পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধের সাংস্কৃতিক আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে উল্লেখ করা হয়
- 📌 আলোচনায় অংশ নেন মফিদুল হক, মামুনুর রশীদ, সাইম রানা ও দিনু বিল্লাহর স্ত্রী মাহবুবা খানমসহ সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বরা
- 📌 মামুনুর রশীদ বলেন, বইটিতে হারিয়ে যাওয়া শিল্পীদের তথ্য উঠে এসেছে এবং নতুন প্রজন্মের জন্য গবেষণার সুযোগ রয়েছে
- 📌 দিনু বিল্লাহ ২০২৩ সালের ২৩ আগস্ট কানাডায় মৃত্যুবরণ করেন এবং মৃত্যুর আগে দেহদান করেন
- 📌 দিনু বিল্লাহর বোন শিমূল ইউসুফ বলেন, ভাইয়ের দেহদান করা অংশগুলো মানুষের জীবনে অবদান রাখছে
📰 বিস্তারিত
শুক্রবার ঢাকার শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালায় অনুষ্ঠিত স্মরণ অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন অনন্যা প্রকাশনীর স্বত্বাধিকারী মনিরুল হক। আলোচনায় অংশগ্রহণকারী মফিদুল হক বলেন, ষাটের দশকের দ্বিতীয়ার্ধে যে সাংস্কৃতিক পরিবেশ গড়ে উঠেছিল, দিনু বিল্লাহ তার গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিলেন। তিনি ছিলেন স্নিগ্ধ ব্যক্তিত্বের মানুষ এবং একুশে ফেব্রুয়ারির অনুষ্ঠানসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে দীর্ঘসম্পৃক্ত ছিলেন।
মামুনুর রশীদ বলেন, ‘মিলিত প্রাণের কলরব’ শুধু গণসংগীতের ইতিহাস নয়, একটি সময়ের সাংস্কৃতিক পরিবেশের গুরুত্বপূর্ণ দলিল। বইটিতে কোন গান কখন, কোথায় ও কীভাবে তৈরি ও পরিবেশিত হয়েছে, তার পাশাপাশি দিনু নিজের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতাও যুক্ত করেছেন। ফলে হারিয়ে যাওয়া অনেক শিল্পী, সুরকার ও গানের তথ্য বইটিতে উঠে এসেছে।’ তিনি নতুন প্রজন্মের উদ্দেশ্যে বলেন, দিনু বিল্লাহকে আর ফিরে পাওয়া যাবে না, তবে সেই সময় ও সাংস্কৃতিক চর্চায় ফিরে যাওয়ার স্বপ্ন দেখা দরকার।
দিনু বিল্লাহর স্ত্রী মাহবুবা খানম আবেগাপ্লুত কণ্ঠে স্মরণ করেন স্বামীর সঙ্গে কাটানো নানা সময়ের কথা। তিনি বলেন, ‘শিশু থেকে বৃদ্ধ—যেকোনো বয়সের মানুষের সঙ্গে সহজেই মিশে যেতে পারতেন দিনু।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন, মুক্তিযুদ্ধ দিনু বিল্লাহর অন্যতম চিন্তার কেন্দ্র ছিল এবং নতুন প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের কথা পৌঁছে দেওয়ার তাগিদ তাঁর মধ্যে গভীরভাবে গেঁথে ছিল।
সাইম রানা গণসংগীতের বিকাশ ও ইতিহাসের ধারাবাহিকতায় দিনু বিল্লাহর গবেষণার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, দিনু বিল্লাহের গবেষণাকর্ম গণসংগীতের বিভিন্ন পর্যায়, গান ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের তথ্য সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। দিনু বিল্লাহ ঢাকা থিয়েটারের প্রতিষ্ঠাতা সদস্যদের একজন ছিলেন এবং তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে ‘কাকা বাবুর টয় হাউজ’, ‘টয় হাউজ থেকে ১৯৭১: মৃত্যু ছায়াসঙ্গী’ ও ‘সুরের বরপুত্র’।
আলোচনা শেষে অনুষ্ঠানে গণসংগীত পরিবেশন করে ঋষিজ শিল্পীগোষ্ঠী।
"দিনু ছিলেন সংগীত অন্তপ্রাণ। একুশে ফেব্রুয়ারির অনুষ্ঠানসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘ সম্পৃক্ততা ছিল।" — মফিদুল হক
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: দিনু বিল্লাহ, মফিদুল হক, মামুনুর রশীদ, সাইম রানা, মাহবুবা খানম, মনিরুল হক, শিমূল ইউসুফ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৩ (আগস্ট, ২০২৩)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!