📌 জ্যেষ্ঠ সন্তানের কাঁধে পড়ে পরিবারের ভার, কিন্তু বৃদ্ধ বয়সে পিতামাতার পাশে দাঁড়ানোর দায়িত্ব কীভাবে পূরণ করা যায়? কোরআন ও হাদিসে বর্ণিত দায়িত্ব ও করুণার কথা আলোচনা করা হয়েছে
বাবা-মা জীবনের সোনালি দিনগুলো নিজের সন্তানদের পাশে ব্যয় করলেও বৃদ্ধ বয়সে তাদের পাশে দাঁড়ানোর দায়িত্ব কখনোই হালকা নয়। পরিবারের জ্যেষ্ঠ সন্তানের কাঁধে পড়ে পুরো সংসারের ভার, কিন্তু নিজের নতুন পরিবারের চাহিদা পূরণের পরও বৃদ্ধ মা-বাবা ও ছোট ভাই-বোনের পড়াশোনা ও চিকিৎসার দায়িত্ব গ্রহণ করতে হয়। কিন্তু সময়ের আবর্তে যখন সন্তান নিজে বৃদ্ধ হন, তখন তাদের ভূমিকা কী হওয়া উচিত? কোরআন ও রাসুলের নির্দেশে এই প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যায়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 কোরআন (সুরা ইসরা: ২৩) বলেছে, বৃদ্ধ পিতামাতার সঙ্গে ‘উফ’ বলা বা অসম্মানজনক কথা বলা নিষিদ্ধ
- 📌 রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তুমি এবং তোমার সম্পদ তোমার পিতার’ — অর্থাৎ পিতার অভাবের দিনে সন্তানের সম্পদ থেকে তাঁর প্রয়োজন পূরণ করা আবশ্যিক
- 📌 ইসলাম নিজের স্ত্রী-সন্তানের অধিকার নিশ্চিত করার পর পিতামাতার পাশে দাঁড়ানোর দায়িত্ব জোরদার করেছে
- 📌 রাসুল (সা.) বলেছেন, যে সন্তান বৃদ্ধ পিতামাতাকে যথাযথ সেবা দিতে ব্যর্থ হন, তাঁরা জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবেন না
- 📌 শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিশু নির্যাতনের ঘটনা সন্তানের নিরাপত্তা ও আত্মমর্যাদার প্রশ্ন তুলে ধরে
📰 বিস্তারিত
বাবার মৃত্যুর পর পরিবারের ভার জ্যেষ্ঠ সন্তানের কাঁধে পড়ে। নিজের নতুন পরিবারের চাহিদা থাকা সত্ত্বেও তিনি গ্রহণ করতে হয় বৃদ্ধ মা ও ছোট ভাই-বোনের পড়াশোনা ও চিকিৎসার দায়িত্ব। কিন্তু যখন সন্তান নিজে বৃদ্ধ হন, তখন তাদের ভূমিকা কী হওয়া উচিত? কোরআন ও রাসুলের নির্দেশে এই প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যায়। কোরআন (সুরা ইসরা: ২৩) বলেছে, ‘তোমাদের রব নির্দেশ দিয়েছেন...পিতা-মাতার একজন বা উভয়ই বার্ধক্যে উপনীত হলে তাদের ‘উফ’ বলো না এবং তাদের সঙ্গে সম্মানজনক কথা বলো’।
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তুমি এবং তোমার সম্পদ তোমার পিতার’ (সুনান ইবনে মাজাহ: ২২৯১)। এর অর্থ হলো, পিতার অভাবের দিনে সন্তানের সম্পদ থেকে তাঁর প্রয়োজন পূরণ করা সন্তানেরই আবশ্যিক দায়িত্ব। তবে ইসলাম নিজের স্ত্রী-সন্তানের ন্যায্য অধিকার ও খোরপোশ নিশ্চিত করার পর পিতামাতার পাশে দাঁড়ানোর দায়িত্ব জোরদার করেছে (সহিহ বুখারি: ৫৩৫৬)।
রাসুল (সা.) আরও বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি তার পিতা-মাতা উভয়কে বা একজনকে বৃদ্ধ বয়সে পেল অথচ জান্নাতে প্রবেশ করতে পারল না, সে লাঞ্ছিত’ (সহিহ মুসলিম: ২৫৫১)। বৃদ্ধ পিতামাতার অবদানের বিপরীতে তাঁর পাশে দাঁড়ানো করুণা নয়; বরং ইমানি দায়িত্ব ও কৃতজ্ঞতার প্রকাশ। পরিবারের প্রতিটি সদস্যের হক আদায় করে বার্ধক্যে বাবার পাশে দাঁড়ানোর মধ্যেই নিহিত রয়েছে একটি সংসারের সৌন্দর্য ও পরকালের পরম সাফল্য।
একজন অভিভাবক যখন সন্তানকে কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠান, তখন পড়াশোনার পাশাপাশি সন্তানের নিরাপত্তা, আত্মমর্যাদা ও আমানতের এক বড় অংশ তুলে দেন শিক্ষকের হাতে। ফলে কোনো প্রতিষ্ঠানে শিশু নির্যাতনের ঘটনা সন্তানের নিরাপত্তা ও আত্মমর্যাদার প্রশ্ন তুলে ধরে। এই দায়িত্বের প্রতি সচেতনতা বৃদ্ধি পেতে হবে।
"তোমাদের রব নির্দেশ দিয়েছেন...পিতা-মাতার একজন বা উভয়ই বার্ধক্যে উপনীত হলে তাদের ‘উফ’ বলো না এবং তাদের সঙ্গে সম্মানজনক কথা বলো।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: কোরআন (সুরা ইসরা), হাদিস
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: রাসুলুল্লাহ (সা.), সন্তান, পিতা-মাতা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৩ (সুরা ইসরা: ২৩)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!